ঢাকার আর্মি স্টেডিয়ামে প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (বালক-বালিকা) ২০২৬-এর জাতীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত খেলা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
খুদে ফুটবলারদের উৎসাহিত করতে তিনি মাঠের পাশে বসে খেলা উপভোগ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বহির্বিশ্বের কাছে বাংলাদেশকে পরিচিত করতে নতুন প্রজন্মকে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি বলেন, “শক্তিশালী বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, বাংলাদেশকে পরিচিত একটি দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এটা করতে হবে তোমাদেরই, কারণ এটা তোমাদের ভবিষ্যৎ, তোমাদের দেশ।”
তিনি আরো বলেন, খেলাধুলা ছেড়ে দেওয়া যাবে না; ফুটবল, সাঁতারসহ বিভিন্ন খেলায় অংশ নিতে হবে। পাশাপাশি গান, সংগীত, চিত্রাঙ্কন, কোরআন তেলাওয়াতসহ নানা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও অংশগ্রহণের সুযোগ থাকবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিশুদের আত্মবিশ্বাসী হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। নিজের শৈশবের ম্যাকানো খেলাধুলার অভিজ্ঞতার কথাও তিনি তুলে ধরেন। দুপুর দুইটায় আর্মি স্টেডিয়ামে বালক ও বালিকা বিভাগের চূড়ান্ত খেলা অনুষ্ঠিত হয়। খেলা শেষে বিজয়ী ও রানার্স আপ দলের হাতে ট্রফি তুলে দেন তিনি।
বালিকা বিভাগে ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার আচারগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে চার–দুই গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার জোরগাছা ইউনাইটেড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বালক বিভাগে ময়মনসিংহের ত্রিশালের দরিরামপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে এক–শূন্য গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার দাড়িয়াল মিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
গত ৬ এপ্রিল শুরু হওয়া এই টুর্নামেন্টে দেশের ৬৫ হাজার ৩৪২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ১১ লাখের বেশি ছাত্র ও ১১ লাখের বেশি ছাত্রী অংশ নেয়। প্রধানমন্ত্রী জানান, ভবিষ্যতে শুধু প্রাথমিক নয়, মাধ্যমিক পর্যায়েও এ ধরনের প্রতিযোগিতা চালু করা হবে। তিনি বলেন, “আমরা প্রাইমারি ও মাধ্যমিকে এই আয়োজন শুরু করব।”
তিনি আরো বলেন, গত দেড় মাসে এক লাখের বেশি খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং এসব তথ্য গিনেস বুক কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর উদ্যোগ নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন। শুধু খেলাধুলা নয়, পড়াশোনা ও সংস্কৃতিতেও দক্ষতা অর্জনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, সব ক্ষেত্রেই পারদর্শী হয়ে উঠতে হবে, তবেই একটি সুন্দর ও শক্তিশালী বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। ভবিষ্যতে বর্তমান প্রজন্মই দেশ পরিচালনা করবে উল্লেখ করে তিনি শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাসী হয়ে বড় হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি আরো বলেন, বিশ্বকাপ ফুটবলে যেভাবে মেসি, রোনালদো ও এমবাপে অংশ নেয়, তেমনি বাংলাদেশের মধ্য থেকেও বিশ্বমানের খেলোয়াড় তৈরি হতে হবে।
অলিম্পিক ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করার লক্ষ্যও তিনি তুলে ধরেন। ক্রিকেটের মাধ্যমে বিশ্বে বাংলাদেশের পরিচিতি তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ফুটবল, সাঁতার, হকি, টেনিসসহ বিভিন্ন খেলায়ও দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।
অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারী, তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীসহ আরো অনেকে।
সানা/আপ্র/২০/৬/২০২৬