দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে মুখস্থনির্ভরতা থেকে বের করে সৃজনশীল, দক্ষ ও কর্মমুখী করে তুলতে একাধিক নতুন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সরকার। এর আওতায় মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও উদ্যোক্তা হওয়ার মানসিকতা গড়ে তুলতে দেশব্যাপী ‘স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং’ আয়োজন করা হচ্ছে। পাশাপাশি পরিবেশ ও জলবায়ু সচেতনতা বাড়াতে ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’ কর্মসূচির আওতায় আগামী পাঁচ বছরে দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৫ কোটি দেশীয় গাছের চারা রোপণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
আগামী ২৮ জুন রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় পর্যায়ের বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনী প্রকল্প প্রদর্শনীর উদ্বোধন করবেন। একই সঙ্গে দেশের ২৯ হাজার ৬২১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একযোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিরও উদ্বোধন করা হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর জানিয়েছে, এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, বিশ্লেষণধর্মী চিন্তাশক্তি, সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা এবং প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা বিকাশের পাশাপাশি উদ্যোক্তা হওয়ার মানসিকতা গড়ে তোলা। উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতা শেষে জাতীয় পর্যায়ে সেরা ১০০টি দল চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেবে। বিজয়ী শিক্ষকরা ৩০ হাজার টাকা এবং শিক্ষার্থীরা ২০ হাজার টাকা করে পুরস্কারের পাশাপাশি সনদপত্র পাবেন।
অন্যদিকে ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’ কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পরিবেশ সংরক্ষণে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত করা হবে। উদ্বোধনের দিন প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অন্তত তিনটি করে ফলদ ও বনজ গাছ রোপণ করা হবে। পর্যায়ক্রমে আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে ৫ কোটি গাছ লাগানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার।
মাউশির কর্মকর্তাদের মতে, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আনন্দময় শিক্ষা, প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা, উদ্ভাবনী চর্চা এবং পরিবেশ সচেতনতার সমন্বিত বিকাশ ঘটবে। সরকারের প্রত্যাশা, এ কর্মসূচিগুলো ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দক্ষ, দায়িত্বশীল ও কর্মমুখী নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এসি/আপ্র/১৮/০৬/২০২৬