গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

মেনু

দুই পদ একসঙ্গে সামলানোর নজির রয়েছে : খ‌লিলুর রহমান

নিজেস্ব প্রতিবেদক

নিজেস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২০:২৫ পিএম, ০৪ জুন ২০২৬ | আপডেট: ১৭:৪৬ এএম ২০২৬
দুই পদ একসঙ্গে সামলানোর নজির রয়েছে : খ‌লিলুর রহমান
ছবি

ছবি সংগৃহীত

জাতিসংঘ অধিবেশনের সভাপতি এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পূর্ণকালীন দায়িত্ব একসঙ্গে পালনে কোনো সমস্যা দেখছেন না খলিলুর রহমান। বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক সাংবাদিক এ বিষয়ে জানতে চাইলে তার মুখ থেকে কথা কেড়ে নিয়ে খলিল বলেন, “চাকরি ছাড়ব কি-না, এটাইতো? ছুটি নেব কি-না? এত ব্যস্ত হয়েন না, এটার প্রিসিডেন্স আছে।”

এক্ষেত্রে চার দশক আগের উদাহরণ মনে করিয়ে দিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আজকে থেকে ৪০ বছর আগে জনাব হুমায়ুন রশিদ চৌধুরী সাহেব, আমাদের প্রাক্তন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। “আই ওয়াজ হিজ প্রাইভেট সেক্রেটারি এবং তার সঙ্গে আমরা কাজ করেছি। উনি দুই পদেই পূর্ণকালীন কাজ করতে পেরেছেন। সেই সময় সেটা ইন্টারনেট পূর্ব যুগ ছিল, আজকে কিন্তু আপনি সিজলেসলি দুটো কাজ করতে পারবেন। ইট ইজ নরমাল টু ডু সো।”

মঙ্গলবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে সভাপতি পদের নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে সাইপ্রাসের প্রার্থীকে হারিয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিল।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে সভাপতিত্ব করার পাশাপাশি নিজ দেশের সরকারি দায়িত্ব চালিয়ে যাওয়ার নজির যেমন রয়েছে, তেমনি সভাপতি পদে পূর্ণকালীন দায়িত্ব পালনের উদাহরণও আছে।


নির্বাচিত হলে খলিল পররাষ্ট্রমন্ত্রী পদে থাকবেন কি-না, তা নিয়ে আলোচনা রয়েছে। এই পদ পেলে পূর্ণকালীন দায়িত্ব পালনের প্রতিশ্রুতি তিনি দিয়েছিলেন। ভোটের প্রচারের মধ্যে গত ১৩ মে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে অনানুষ্ঠানিক মতবিনিময়ে তিনি বলেছিলেন, “নির্বাচিত হলে আমি সবার সভাপতি এবং পূর্ণকালীন সভাপতি হব।

আমি জাতিসংঘের সনদ সমুন্নত রাখব। আমি সব সদস্য রাষ্ট্রকে সম্পৃক্ত করব এবং বিশেষ করে ছোট প্রতিনিধিদলগুলোর প্রতি মনোযোগ দেব।

“আমি সভাপতির আচরণবিধি সম্পূর্ণরূপে মেনে সভাপতিত্ব করব।

আমি আমার ব্যক্তিগত মতামতকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের কাজে বাধা হয়ে দাঁড়াতে দেব না এবং মতপার্থক্য উপেক্ষা না করে ঐক্যের পথ খুঁজব।”

 

তবে পূর্ণকালীন সভাপতি হওয়ার ক্ষেত্রে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে এক বছরের জন্য ছুটি নিতে পারেন বলেও ধারণা দেন খলিলুর রহমান। 
ওই মতবিনিময়ে এক প্রশ্নে তিনি বলেন, “আমি কি পদত্যাগ করব? না। আমার প্রধানমন্ত্রী (তারেক রহমান) আমাকে স্পষ্টভাষায় বলেছেন যে, তিনি আমাকে পূর্ণকালীন দায়িত্ব পালনের জন্য এক বছর সময় দেবেন। পদত্যাগ একমাত্র বিকল্প নয়। আমি ছুটিও নিতে পারি।”

দুই পদের দায়িত্ব কীভাবে চলবে, বিষয়টি আগেই স্পষ্ট করে দেওয়ার দাবি করে তিনি বলেন, “আমি আগেই বলে দিয়েছি, ক্লিয়ার করে দিয়েছি।
“অনেকেই বলেছেন যে, এখন যিনি আছেন জার্মানির, উনি তো পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন, উনিতো পদ ছেড়ে কাজ করেছেন। আসলে জিনিসটা হয়েছে উনি গ্রিন পার্টির নেতা ছিলেন, গ্রিন পার্টি ইলেকশনে হেরেছে, সুতরাং উনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকতে পারেননি।”

 

নির্বাচনের দুদিন পর নিউ ইয়র্ক থেকে বৃহস্পতিবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে আসেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিল। এরপর পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরসহ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সব কর্মকর্তাকে নিয়ে বিজয় উদযাপন করেন।

পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “এই বিজয় বাংলাদেশের বিজয়। এই বিজয় আমাদের যে অভূতপূর্ব গণতান্ত্রিক উত্তরণ হয়েছে, তার বিজয়। এই বিজয় আমাদের প্রিয় প্রধানমন্ত্রীর বিজয়।
“কারণ তিনি যদি এই সিদ্ধান্ত না নিতেন এবং দৃঢ়ভাবে, অবিচলভাবে এবং বিরতিহীনভাবে আমাদেরকে সমর্থন না করতেন, তাহলে এই ১০ বছরের রাস্তা ১০ সপ্তাহে আমরা অতিক্রম করতে পারতাম না।”

আঞ্চলিকভাবে ঘূর্ণায়মান পদ্ধতিতে এবার এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চল থেকে পরবর্তী সেশনের সভাপতি পেয়েছে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ।
মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এ নির্বাচনের জন্য তৎকালীন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনকে মনোনয়ন দিয়েছিল।

একই পদে ফিলিস্তিনের প্রার্থী থাকার কারণে বাংলাদেশ প্রার্থিতা স্থগিত রাখলেও প্রত্যাহার করেনি। এরপর ফিলিস্তিন প্রার্থিতা প্রত্যাহার হলে বাংলাদেশের প্রার্থিতা পুনরুজ্জীবিত হয়।

এর মধ্যে সরকার পরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তীকালীন পররাষ্ট্র উপদেষ্টার বদলে নতুন সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলকে বাংলাদেশের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়।

প্রার্থী পরিবর্তনের পর মাত্র তিন মাসের প্রচারেই জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে বিজয় পেয়েছে বাংলাদেশ।

খলিল ১৯৭৭ সালে অনুষ্ঠিত প্রথম নিয়মিত বিসিএস পরীক্ষায় প্রথম হয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগ দেন। কর্মজীবনের বেশিরভাগ সময় তিনি কাজ করেছেন জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থায়।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বিজয়ের পেছনে কাজ করা সবাইকে স্মরণ করে খলিল বলেন, “আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সকল কর্মকর্তা বিদেশে যারা আছেন, বিভিন্ন দূতাবাসে, নিরলসভাবে কাজ করেছেন।

“আমাদের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা, আমরা যেই টিম স্পিরিটে কাজ করেছি, এই বিজয়ের পেছনে তার অবদান ছিল বিপুল। এই বিজয় আমরা বাংলাদেশের ভবিষ্যতের কাছে উৎসর্গ করছি।”

ডিসি/আপ্র/০৪/০৬/২০২৬

 

সংশ্লিষ্ট খবর

সুন্দরবন ঘুরে দাকোপে প্রধানমন্ত্রী, এরপর মোংলা বন্দর পরিদর্শন
২৩ অক্টোবর ২০২৬

সুন্দরবন ঘুরে দাকোপে প্রধানমন্ত্রী, এরপর মোংলা বন্দর পরিদর্শন

সুন্দরবনের হিরণ পয়েন্ট ও আশপাশের এলাকা আকাশপথে পর্যবেক্ষণ শেষে খুলনার দাকোপ উপজেলায় পৌঁছেছেন প্রধান...

কবি ও সাংবাদিক রথো রাফি আর নেই
২৩ অক্টোবর ২০২৬

কবি ও সাংবাদিক রথো রাফি আর নেই

হৃদরোগসহ শারীরিক নানা জটিলতা নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন কবি ও সাংবাদিক রথো রাফি। ব...

সব সরকারি অফিসে জাতীয় পতাকা প্রদর্শনে যথাযথভাবে অনুসরণের নির্দেশ
২২ অক্টোবর ২০২৬

সব সরকারি অফিসে জাতীয় পতাকা প্রদর্শনে যথাযথভাবে অনুসরণের নির্দেশ

সরকারি ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের অফিস কক্ষে জাতীয় পতাকা প্রদর্শনের ক্ষেত্রে প্রচলিত বিধিমালা যথাযথভা...

বুকে ব্যথা ও শ্বাসকষ্টে হাসপাতালে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মঈন খান
২২ অক্টোবর ২০২৬

বুকে ব্যথা ও শ্বাসকষ্টে হাসপাতালে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মঈন খান

বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট ও হৃদরোগের সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সম...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

পতিত স্বৈরাচার ও বিরোধী দল বিশৃঙ্খলার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত: প্রধানমন্ত্রী

দেশের বিভিন্ন স্থানে ও কলকারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ সৃষ্টির পেছনে পলাতক স্বৈরাচার ও কয়েকটি রাজনৈতিক দলের যোগসাজশ রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ বিষয়ে তাঁর কাছে গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে দাবি করে তিনি বলেছেন, এক পক্ষ সীমান্তের ওপার থেকে অর্থ সরবরাহ করছে, অন্য পক্ষ দেশে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রিয় পাঠক, আপনি কি প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সঙ্গে একমত?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 1 দিন আগে