পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানীর বিভিন্ন ঈদগাহ ও মসজিদে একাধিক ঈদের জামাতের আয়োজন করা হয়েছে। জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে। এতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, বিচারপতি, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ এবং বিদেশি কূটনীতিকদের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এ জামাতে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি মুহাম্মদ আবদুল মালেক ইমামতি করবেন। আবহাওয়া প্রতিকূল হলে জাতীয় ঈদগাহের পরিবর্তে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে সকাল ৮টায় প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে মোট পাঁচটি ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। জামাতের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে সকাল ৭টা, ৮টা, ৯টা, ১০টা এবং ১০টা ৪৫ মিনিটে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে দুটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৭টা ৩০ মিনিট ও ৮টা ৩০ মিনিটে। এ ছাড়া সলিমুল্লাহ মুসলিম হল মসজিদে সকাল ৭টায়, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হলের মাঠে সকাল ৮টায় এবং ফজলুল হক মুসলিম হলের পূর্ব পাশের মাঠে সকাল ৮টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে।
জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে।
রাজধানীর গুলশান সেন্ট্রাল মসজিদে তিনটি জামাতের আয়োজন করা হয়েছে। প্রথম জামাত সকাল ৫টা ৪৫ মিনিটে, দ্বিতীয় জামাত সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে এবং তৃতীয় জামাত সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া গুলশান সোসাইটি জামে মসজিদে সকাল ৮টায় এবং এরোপ্লেন জামে মসজিদে সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে জামাত অনুষ্ঠিত হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ঈদের সকালে ঢাকা মহানগরীর শতাধিক ঈদগাহ ও দেড় হাজারের বেশি মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে।
এদিকে ঈদুল আজহার জামাত এবং ঈদের ছুটিতে ফাঁকা ঢাকার নিরাপত্তায় সমন্বিত, প্রযুক্তিনির্ভর ও বহুমাত্রিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ।
ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, জাতীয় ঈদগাহকে কেন্দ্র করে চার থেকে ছয় স্তরের নিরাপত্তা বলয় গঠন করা হয়েছে। ঈদগাহ এলাকায় প্রায় দেড় হাজার পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। আর পুরো মহানগরীতে ঈদের দিন প্রায় ১৫ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবেন।
নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে জাতীয় ঈদগাহে বিশেষ তল্লাশি, পর্যবেক্ষণ টাওয়ার, ড্রোন নজরদারি, সাদা পোশাকের গোয়েন্দা তৎপরতা, বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিটের প্রস্তুতি, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, জরুরি চিকিৎসা সেবা এবং হারিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের সহায়তা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।
পুলিশ মুসল্লিদের পর্যাপ্ত সময় হাতে নিয়ে ঈদগাহে আসার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে ব্যাগ, ধারালো বস্তু বা অপ্রয়োজনীয় ধাতব সামগ্রী সঙ্গে না আনার অনুরোধ করা হয়েছে।
ঈদের দীর্ঘ ছুটিতে ফাঁকা বাসাবাড়ি ও বাণিজ্যিক এলাকার নিরাপত্তায় বিশেষ টহল, নজরদারি ও গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ।
সানা/আপ্র/২৭/৫/২০২৬