বিশ্বকাপের ফাইনালে স্বপ্নভঙ্গের বেদনা এখনো তাজা। টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের আশা পূরণ না হলেও দলের অর্জন, সমর্থকদের ভালোবাসা এবং পুরো যাত্রার ইতিবাচক দিকগুলো মনে রাখতে চান আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি। তবে ফাইনালের হার যে তাঁর জন্য গভীর কষ্টের, সেটিও স্পষ্ট করেছেন তিনি।
নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে যায় ২০২২ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। ম্যাচে প্রত্যাশিত ছন্দে দেখা যায়নি মেসিদের। পরাজয়ের পর গ্যালারির সামনে দাঁড়িয়ে মেসির আবেগঘন মুহূর্তের দৃশ্য ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।
এরপর সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় বিশ্বকাপের পুরো যাত্রা, দলের লড়াই এবং সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।
মেসি লিখেছেন, “কষ্টটা সীমাহীন এবং এই ক্ষত সারতে সময় লাগবে। তবে আমি সব ভালো দিকও মনে রাখতে চাই-যেসব ম্যাচে আমরা নিজেদের সর্বস্ব দিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছি, যেগুলো আমাদের স্মৃতিতে চিরকাল থাকবে। পুরো দেশের সমর্থন এবং দলের পরিশ্রম ও প্রচেষ্টা আমাদের আবারো বিশ্বের সেরাদের কাতারে নিয়ে এসেছে।”
তিনি আরো বলেন, “আমরা যা অর্জন করেছি, তার প্রকৃত মূল্য এখনই পুরোপুরি উপলব্ধি করা কঠিন। এই দল টানা দুটি বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছেছে।”
সমর্থকদের ভালোবাসা ও শুভেচ্ছার জন্য হৃদয়ের গভীর থেকে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই ফুটবলার। তিনি বলেন, “বার্তা ও শুভেচ্ছা জানানোর জন্য আপনাদের সবাইকে অনেক ধন্যবাদ। আবারো আমরা একটি দেশ হিসেবে ঐক্যবদ্ধ হতে পেরেছি এবং আর্জেন্টাইন হওয়ার সীমাহীন গর্ব ভাগ করে নিয়েছি।”
ফাইনালে হারের হতাশার মধ্যেও নতুন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনকে অভিনন্দন জানাতে ভুলেননি মেসি। তিনি বলেন, “শিরোপা জয়ের জন্য স্পেনকেও অভিনন্দন জানাতে চাই।”
এবারের বিশ্বকাপেও ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে উজ্জ্বল ছিলেন ৩৯ বছর বয়সী মেসি। তিনি করেছেন আট গোল এবং চারটি গোলে সহায়তা। বিশ্বকাপ ইতিহাসে তাঁর গোলসংখ্যা এখন ২১, যা তাঁকে সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রেখেছে।
এ ছাড়া বিশ্বকাপের ইতিহাসে একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে দুইবার সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার গোল্ডেন বল জয়ের কীর্তি গড়েছেন মেসি। ২০১৪ ও ২০২২ বিশ্বকাপে এই স্বীকৃতি পান তিনি।
মেসির নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা ২০২২ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পাশাপাশি ২০২১ ও ২০২৪ সালে কোপা আমেরিকা এবং একটি ফিনালিসিমা ট্রফিও জিতেছে। গত চারটি বিশ্বকাপের মধ্যে তিনবার ফাইনালে ওঠার অসাধারণ ধারাবাহিকতাও তৈরি করেছে দলটি।
ফাইনালের পরাজয় তাই মেসিদের জন্য বড় আঘাত হলেও, তাঁর ভাষায়-এই দল শুধু একটি ম্যাচ হারেনি; বরং একটি দীর্ঘ যাত্রায় অর্জন করেছে কোটি মানুষের ভালোবাসা ও গর্বের জায়গা।
সানা/আপ্র/২৩/৭/২০২৬