সমুদ্রপথে অবৈধভাবে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে লিবিয়ায় আটক থাকা আরো ১৭০ বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন। তাদের অনেকেই মানবপাচারকারীদের প্ররোচনায় লিবিয়ায় গিয়ে বিভিন্ন সময়ে অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
সোমবার (২৫ মে) সকাল সাড়ে ৮টায় বুরাক এয়ারের একটি বিশেষ ফ্লাইটে লিবিয়ার বেনগাজী থেকে তাদের ঢাকায় ফিরিয়ে আনা হয়। লিবিয়া সরকার ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার সহযোগিতায় এ প্রত্যাবাসন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাস, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রত্যাবাসিতদের অধিকাংশই মানবপাচারকারীদের সহায়তায় সমুদ্রপথে ইউরোপে প্রবেশের উদ্দেশ্যে লিবিয়ায় অনুপ্রবেশ করেছিলেন। সেখানে অবস্থানকালে তাদের অনেকেই অপহরণ, নির্যাতন ও মানবিক সংকটের মুখে পড়েন।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার কর্মকর্তারা প্রত্যাবাসিত বাংলাদেশিদের অভ্যর্থনা জানান।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জনসচেতনতা বাড়াতে প্রত্যাবাসিতদের নিজেদের দুর্বিষহ অভিজ্ঞতা সমাজের মানুষের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে, যাতে অবৈধ অভিবাসনের ঝুঁকি সম্পর্কে মানুষ সচেতন হতে পারেন।
এ নিয়ে চলতি বছরে লিবিয়া থেকে মোট ৮৯৩ বাংলাদেশিকে দেশে ফিরিয়ে আনা হলো। লিবিয়ায় আটক থাকা বাকি বাংলাদেশিদেরও পর্যায়ক্রমে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মে মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে লিবিয়ায় ৬ হাজার ৮১১ জন অভিবাসী আটক হয়েছেন। একই সময়ে ৮২২ জন নিখোঁজ অথবা নিহত হয়েছেন। তবে তাদের মধ্যে কতজন বাংলাদেশি রয়েছেন, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
সংস্থাটির তথ্য বলছে, ২০২৫ সালে ভূমধ্যসাগর হয়ে ইউরোপে যাওয়ার পথে ২৭ হাজার ১১৬ জন অভিবাসী আটক হন। ওই বছর ১ হাজার ৬৯৯ জনের নিখোঁজ বা মৃত্যুর তথ্যও নথিভুক্ত হয়।
সানা/আপ্র/২৫/৫/২০২৬