রাজধানীর অন্যতম যানজটপ্রবণ এলাকা মহাখালী বাস টার্মিনাল ঘিরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে পুলিশ। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের ভোগান্তির কেন্দ্র হয়ে ওঠা টার্মিনালটি স্থানান্তর কিংবা বহুতল ভবনে রূপান্তরের বিষয়েও ভাবছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন।
মহাখালী বাস টার্মিনালের সামনের সড়কের দুই পাশজুড়ে সারি সারি বাস দাঁড়িয়ে থাকা, যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা এবং তেল নেওয়ার জন্য দীর্ঘ লাইনের কারণে এলাকাটিতে প্রায় সারাদিনই তীব্র যানজট লেগে থাকে। গাজীপুর থেকে আসা বাসচালক সালাম জানান, টার্মিনাল এলাকা পার হতে প্রায়ই আধাঘণ্টার বেশি সময় লেগে যায়।
ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মো. আনিছুর রহমান বলেছেন, রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে এআই ক্যামেরা বসানোর অংশ হিসেবে মহাখালীকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তার ভাষ্য, “মহাখালী বাস টার্মিনাল এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। এটি জটিল সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
ইতোমধ্যে রাজধানীর ৩০টি গুরুত্বপূর্ণ ক্রসিংয়ে এআইভিত্তিক ‘প্যান-টিল্ট-জুম’ বা পিটিজেড ক্যামেরা বসানো হয়েছে। এসব ক্যামেরা সড়ক পরিবহন আইন লঙ্ঘনকারী যানবাহনের নম্বরপ্লেট শনাক্ত করে ছবি ও ভিডিও সংরক্ষণ করছে। পরে ট্রাফিক টেকনিক্যাল ইউনিটের মাধ্যমে সেসব তথ্য যাচাই করে ই-ট্রাফিক প্রসিকিউশন সফটওয়্যারের সাহায্যে মামলা পাঠানো হচ্ছে গাড়ির মালিকদের ঠিকানায়।
পুলিশ জানিয়েছে, মহাখালী টার্মিনাল এলাকায় এআই ক্যামেরা স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে এবং দ্রুতই তা চালু হতে পারে। বিশেষ করে সড়কের পাশে বাস দাঁড় করানো ও তেল নেওয়ার জন্য নির্ধারিত লেনের বাইরে যানবাহন রাখলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলা দেওয়া হবে।
মহাখালী বাস টার্মিনাল ঘিরে অতীতে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগও কার্যকর হয়নি। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর টার্মিনাল থেকে গেইটলক পদ্ধতিতে বাস ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও কয়েকদিন পরই পুরোনো পরিস্থিতি ফিরে আসে। পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যাত্রীরা টার্মিনালে না গিয়ে সড়কের বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে বাসে ওঠায় এবং লোকাল বাসের যত্রতত্র থামার কারণে পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করা যায়নি।
১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠিত মহাখালী বাস টার্মিনাল মূলত ঢাকা-ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইল রুটের জন্য নির্মিত হলেও বর্তমানে এখান থেকে দেশের প্রায় সব অঞ্চলে বাস চলাচল করছে। প্রায় সাড়ে তিনশ বাস ধারণক্ষমতার টার্মিনালটিতে এখন চলাচল করছে ১২ শতাধিক বাস।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের পরিবহন বিভাগের কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান জানান, বর্তমান দোতলা অবকাঠামো ভেঙে বহুতল ভবন নির্মাণের আলোচনা রয়েছে, যাতে টার্মিনালের ধারণক্ষমতা বাড়ানো যায়। তবে টার্মিনাল স্থানান্তরের বিষয়টিই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।
তিনি বলেন, পূর্বাচল ও মেট্রোরেলের উত্তরা উত্তর স্টেশনের কাছাকাছি দিয়াবাড়ী-ভাটুলিয়া এলাকায় নতুন টার্মিনালের সম্ভাব্য স্থান নিয়ে ভাবা হচ্ছে। একই সঙ্গে তেজগাঁও ট্রাক স্ট্যান্ড সরানোর বিষয়েও আলোচনা চলছে। তবে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি।
সানা/আপ্র/২২/৫/২০২৬