প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ড. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, র্যাব এক অর্থে আগের মতো থাকছে না, এমনকি বাহিনীটির নামও পরিবর্তন হতে পারে। তিনি জানান, এ বিষয়ে নতুন আইন প্রণয়নের কাজ চলছে এবং সরকার একটি আধুনিক, পেশাদার ও মানবাধিকারসম্মত এলিট বাহিনী গঠনের পরিকল্পনা করছে।
গত মঙ্গলবার (১৯ মে) সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয় আয়োজিত সরকারের তিন মাসের কর্মকাণ্ড বিষয়ক নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে সরকারের কার্যক্রম তুলে ধরেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ ও তথ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. ইয়াসীন।
গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডসহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও দেশীয় সংগঠনের পক্ষ থেকে র্যাব বিলুপ্তির সুপারিশ এসেছে। ২০২৪ সালের ১০ ডিসেম্বর বিএনপিও সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে র্যাব বিলুপ্তির দাবি জানায়।
এ প্রসঙ্গে জাহেদ উর রহমান বলেন, র্যাবের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে তিনি নিজেও উপস্থিত ছিলেন এবং সেখানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নতুন আইনের বিষয়টি ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘বিএনপি যে অর্থে র্যাব বিলুপ্তির দাবি করেছিল, এক অর্থে সেইভাবে র্যাব থাকছে না। নামও সম্ভবত পরিবর্তন হচ্ছে। কারণ, নতুন কাঠামো ও আইনের বিষয়ে সরকার কাজ করছে।’
তিনি আরো বলেন, রাষ্ট্রে একটি এলিট ফোর্স প্রয়োজন। তবে সেই বাহিনী র্যাব নামে হোক বা অন্য নামে-তার কার্যক্রম, জবাবদিহি ও ক্ষমতার পরিধি স্পষ্টভাবে আইনে সংজ্ঞায়িত থাকতে হবে।
এর আগে সোমবার র্যাবের ২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, মানবাধিকার সমুন্নত রেখে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে একটি আধুনিক ও পেশাদার এলিট বাহিনী গঠনে সরকার কাজ করছে।
শেখ হাসিনার প্রতিও ইনসাফ থাকবে: প্রধানমন্ত্রীর তথ্যবিষয়ক উপদেষ্টা ড. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে সরানোর পেছনে প্রধান কারণ ছিল ন্যায়বিচারের অভাব। নতুন বাংলাদেশে ইনসাফ প্রতিষ্ঠাই প্রধান লক্ষ্য এবং সেই ন্যায়বিচার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ক্ষেত্রেও নিশ্চিত করা হবে।
সচিবালয়ে সরকারের অগ্রগতি বিষয়ক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনার প্রতিও আমাদের ইনসাফ থাকবে।’ তিনি আরো বলেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরে এলে তার বিরুদ্ধে কোনো বিচারবহির্ভূত ব্যবস্থা নেওয়া হবে না; বরং বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই সবকিছু হবে।
ড. জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘তার বিচার হয়েছে, তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগও দেওয়া হবে। বিচারিক প্রক্রিয়ায় তিনি খালাস পেলে সেটাও মেনে নেওয়া হবে, আর দণ্ড বহাল থাকলে তা কার্যকর হবে। এটাই ইনসাফ।’
এ সময় তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, যেকোনো অভিযোগ তদন্ত, প্রসিকিউশন ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই নিষ্পত্তি হওয়া উচিত। তিনি বলেন, পলাতক সাবেক সরকারপ্রধান থেকে সাধারণ নাগরিক-সবাইয়ের ক্ষেত্রেই সরকার ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতি অনুসরণ করবে।
মামলা থাকা সাংবাদিকদের বিষয়ে যা বলছে সরকার: সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা নিয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরে ড. জাহেদ উর রহমান বলেন, কিছু ক্ষেত্রে দুর্নীতি ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ রয়েছে, আবার কোথাও ব্যক্তিগত উসকানির বিষয়ও থাকতে পারে। তবে যেকোনো অভিযোগের ক্ষেত্রে প্রকৃত অপরাধের বিচার হওয়াই সরকারের লক্ষ্য।
তিনি বলেন, কোনো সাংবাদিক প্রকৃতপক্ষে অপরাধে জড়িত হলে তার বিচার হবে, আবার কাউকে হয়রানিমূলকভাবে মামলায় জড়ানো হলে সেটিও সরকার গুরুত্বসহকারে দেখছে। সরকারের অবস্থান হলো-কেউ যেন অন্যায়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হন এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়।
এ প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, সম্পাদকদের সঙ্গে আলোচনায় কেউ কেউ স্বীকার করেছেন যে অপসাংবাদিকতার কারণেও দেশে বিভিন্ন সময় অরাজকতা তৈরি হয়েছে। তবে এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে সরাসরি অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করার মতো সুস্পষ্ট আইনগত কাঠামো এখনো নেই।
তিনি বলেন, বর্তমানে মানুষ অনেক ক্ষেত্রে ভিন্ন আইন ব্যবহার করে প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে, ফলে প্রকৃত অপরাধকে সুনির্দিষ্ট আইনি কাঠামোর আওতায় আনা যাচ্ছে না। সরকার এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতে কমিশনের মাধ্যমে আইনি কাঠামো তৈরির বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
তথ্যমন্ত্রী আরো জানান, নতুন কাঠামো ও সংস্কার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এসব বিষয়ে পরবর্তীতে বিস্তারিত কাজ করা হবে।
সানা/আপ্র/১৯/৫/২০২৬