দেশে পৌঁছেছে কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সারের নিথর দেহ। রোববার (১৭ মে) বিকেলে তার মরদেহ বহনকারী ফ্লাইট ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। অভিনেত্রীর বাবা, জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক খেলোয়াড় কায়সার হামিদ মেয়ের লাশ গ্রহণ করতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
বিমানবন্দর থেকে কারিনার মরদেহ নিয়ে বিকেল সাড়ে ৫টায় বনানীর বাসার উদ্দেশে রওনা দেন তিনি। সন্ধ্যা ৭টায় বনানী ডিওএইচএস জামে মসজিদে কারিনার জানাজা হবে। পরে রাত ৮টায় বনানী দরবার শরিফ মসজিদে এবং রাত ১০টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আরো দুই দফা জানাজা হয় কারিনার।
সোমবার (১৮ মে) সকাল ৭টায় মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ার আব্দুল্লাপুরে জানাজা শেষে সেখানেই তাকে দাফন করা হবে।
লিভারের জটিলতায় আক্রান্ত কারিনা এক সপ্তাহের বেশি সময় রাজধানীর একটি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। অবস্থার অবনতি হলে তাকে লাইফ সাপোর্ট নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১১ মে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে চেন্নাইতে নিয়ে যাওয়া হয়। ভর্তি করা হয় ভেলোরের খ্রিষ্টান মেডিক্যাল কলেজ (সিএমসি) হাসপাতালে। সেখানে তার লিভার প্রতিস্থাপন করার কথা ভাবা হলেও বড় ধরনের অস্ত্রোপচারের ধকল নেওয়ার মত শারীরিক অবস্থায় তার ছিল না। তাছাড়া কারিনার ফুসফুসে অনেকটা তরল ও কফ জমে গিয়েছিল। তাই সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে এনে তাকে স্থিতিশীল করার দিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছিলেন চিকিৎসকরা। তবে অস্ত্রোপচরের পর্যায়ে আর যেতে পারেননি তারা। শুক্রবার রাতে কারিনার মৃত্যু হয়।
কায়সার হামিদ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘হঠাৎ করেই ওর ব্লাড প্রেশার কমে গিয়েছিল। পরে তা আর নিয়ন্ত্রণে আসেনি।’
‘এ’ লেভেল শেষ করে পড়ালেখার জন্য অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার আগে একজন শিক্ষানবিশ হিসেবে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের ইংরেজি ডেস্কে কিছুদিন কাজ করেছেন কারিনা কায়সার। দেশে ফিরে কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে পরিচিতি পেলেও গত কিছুদিন ধরে কারিনা অভিনয়ে নিয়মিত হচ্ছিলেন। অভিনয়ের পাশাপাশি চিত্রনাট্যকার হিসেবেও পরিচিতি তৈরি হচ্ছিল। তার কিছু কাজের মধ্যে রয়েছে ‘ইন্টার্নশিপ’ ও ‘৩৬-২৪-৩৬’।
সানা/কেএমএএ/আপ্র/১৭/৫/২০২৬