পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দক্ষিণাঞ্চলের ঘরমুখো যাত্রীদের চাপ সামাল দিতে বিশেষ লঞ্চ সার্ভিস চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ উপলক্ষে বিলাসবহুল লঞ্চগুলোর কেবিন টিকিট বিক্রিও শুরু হয়েছে।
ঢাকা নদীবন্দর সদরঘাট সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন রুটে যাত্রীচাপ সবচেয়ে বেশি থাকবে ২৫ থেকে ২৭ মে। তাই ওই সময়ে বাড়তি লঞ্চ চালানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে নদীপথে দক্ষিণাঞ্চলের ৪১টি রুটে শতাধিক বেসরকারি লঞ্চ চলাচল করছে। এসব লঞ্চে প্রায় ১০ হাজার ভিআইপি, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির কেবিন রয়েছে।
যাত্রীরা জানান, সড়কপথের ভোগান্তি এড়াতে অনেকে পরিবারসহ নৌপথকে বেছে নিচ্ছেন। নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক যাত্রার আশায় আগাম টিকিট সংগ্রহ করছেন বলেও জানান তাঁরা।
লঞ্চ মালিকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঈদযাত্রায় যাত্রীর চাপ বৃদ্ধি পেলে অতিরিক্ত লঞ্চ চালু করা হবে। পাশাপাশি সরকার নির্ধারিত ভাড়ায় যাত্রী পরিবহন করা হবে।
অভ্যন্তরীণ লঞ্চ মালিক সমিতির মহাসচিব সিদ্দিকুর রহমান পাটোয়ারী বলেন, আবহাওয়ার ঝুঁকি বিবেচনায় বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। ঝড়ের মৌসুম হওয়ায় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে। অতিরিক্ত যাত্রী বহন না করা এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তা সরঞ্জাম নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
তিনি আরো জানান, ছোট নৌকায় যাত্রী পারাপার করে লঞ্চে ওঠানোর কার্যক্রমেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে, যাতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমে।
বিভিন্ন লঞ্চ কোম্পানির বুকিং কাউন্টারেও যাত্রীদের আগ্রহ বাড়ছে। এমভি তাসরিফ লঞ্চের বুকিং কর্মকর্তারা জানান, গত সপ্তাহ থেকেই আগ্রহীদের নাম তালিকাভুক্ত করা হচ্ছিল। এখন আনুষ্ঠানিকভাবে টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ২৬ ও ২৭ মে’র যাত্রার চাহিদা সবচেয়ে বেশি।
এমভি ফারহান লঞ্চের ব্যবস্থাপক মফিজুল ইসলাম জানান, ২৪ থেকে ২৭ মে পর্যন্ত বিশেষ সার্ভিস থাকবে। সিঙ্গেল কেবিনের ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ২০০ টাকা এবং ডাবল কেবিন ২ হাজার ৪০০ টাকা।
নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঈদের আগে ও পরে যাত্রীচাপ বিবেচনায় সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে ২৫ থেকে ২৭ মে এবং ঈদের পরবর্তী কয়েকদিন রাজধানীমুখী যাত্রীর চাপ বেশি থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সানা/কেএমএএ/আপ্র/১৭/৫/২০২৬