চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পর আটকে থাকা ১৪ হাজারের বেশি প্রার্থীকে অতি শিগগির সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। কাউকেই বাদ দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি। এ ক্ষেত্রে যেসব শর্ত দেওয়া হতে পারে তারও কিছু ইঙ্গিত দেন মন্ত্রী।
রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের প্রথম দিনে রোববার (৩ মে) শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত আলোচনা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী এ কথা বলেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন উপস্থিত ছিলেন।
গত ৮ ফেব্রুয়ারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্ত ফল প্রকাশিত হয়। এতে নির্বাচিত হন ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থী। তবে নিয়োগ না হওয়ায় তাঁরা আন্দোলন শুরু করেন।
এই নিয়োগটি কবে নাগাদ হতে পারে-জানতে চাইলে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এখন প্রক্রিয়াটি করা হচ্ছে।...অতি শিগগিরই।
কী কী শর্ত হতে পারে সে বিষয়ে সাংবাদিকদের করা প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, যিনি শিক্ষকতা করবেন, সেই শিক্ষকতা করার জন্য তাঁদের যোগ্যতা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, সেখানে কোনো ঘাটতি আছে কি না সেটা দেখা হবে। উদাহরণ হিসেবে মন্ত্রী বলেন, ধরুন তাঁরা যোগদানের পর শিক্ষকদের প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে (পিটিআই) পাঠিয়ে দেওয়া হবে। সেখানে তাঁরা প্রশিক্ষণ নেবেন, সেই জায়গায় যদি অকৃতকার্য হন তাহলে তারা শিক্ষক হতে পারবেন না। এ ছাড়া সরকারি বিধি-বিধান অনুযায়ী দুই বছর যদি সাফল্যের জন্য চাকরি করতে পারেন, তাহলে তাদের চাকরি স্থায়ী করা হবে। সবকিছুই দেশের শিক্ষার ভালোর জন্য করা হবে। খারাপ কোনো উদ্দেশ্যে নেই।
এমপিওভুক্ত হচ্ছেন ৩৭৩৬ শিক্ষক-কর্মচারী: বেসরকারি স্কুল-কলেজে কর্মরত সাড়ে তিন হাজারের বেশি শিক্ষক-কর্মচারীকে এমপিওভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শনিবার (২ এপ্রিল) মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) এমপিও কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভা সূত্রে জানা গেছে, তিন হাজার ৭৩৬ জন শিক্ষক-কর্মচারীকে এমপিওভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে স্কুলের দুই হাজার ৮২১ জন এবং কলেজের ৯১৫ জন শিক্ষক রয়েছেন।
স্কুলের দুই হাজার ৮২১ জন শিক্ষক-কর্মচারীর মধ্যে ঢাকা অঞ্চলের ৩৬৭, খুলনার ৩৯৯, বরিশালের ২৮২, চট্টগ্রামের ২৯৭, কুমিল্লার ২৪০, ময়মনসিংহের ২৮০, রংপুরের এক হাজার ৩৮৩, সিলেটের ১১০ এবং রাজশাহীর ৪৬৩ জন রয়েছেন।
এছাড়া, কলেজের ৯১৫ জন শিক্ষক-কর্মচারীর মধ্যে ঢাকা অঞ্চলের ৯১, খুলনার ১৫১, বরিশাল অঞ্চলের ৬৮, চট্টগ্রামের ৩৬, কুমিল্লার ৭২, ময়মনসিংহের ৬৮, রংপুরের ২২৯, সিলেটের ৩১ এবং রাজশাহীর ১৬৯ জন শিক্ষক রয়েছেন।
সানা/ডিসি/আপ্র/৩/৫/২০২৬