বাংলাদেশের আকাশপ্রেমীদের জন্য শুরু হচ্ছে এক ব্যতিক্রমী মহাজাগতিক আয়োজন। আজ থেকে মাসের শেষ পর্যন্ত রাতের আকাশে দেখা মিলবে উল্কাপাতসহ নানা জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক দৃশ্য, যা সাধারণ দর্শক থেকে গবেষক—সবার জন্যই হতে পারে বিশেষ অভিজ্ঞতা।
মহাকাশ গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, এ সময়ের প্রধান আকর্ষণ লাইরিড উল্কাবৃষ্টি। প্রতি বছর পৃথিবী থ্যাচার ধূমকেতুর ফেলে যাওয়া ধূলিকণার মেঘের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করলে এই উল্কাবৃষ্টির সৃষ্টি হয়। চলতি বছর ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত এ উল্কাপাত দেখা যাবে, তবে ২২ এপ্রিল দিবাগত রাত থেকে ২৩ এপ্রিল ভোর পর্যন্ত এর তীব্রতা সর্বোচ্চ থাকবে। অনুকূল আবহাওয়ায় প্রতি ঘণ্টায় ১০ থেকে ২০টি পর্যন্ত উজ্জ্বল উল্কা দেখা যেতে পারে।
এ সময় আকাশে গ্রহ-নক্ষত্রের অবস্থানেও থাকবে বিশেষ বৈচিত্র্য। পশ্চিম আকাশে শুক্র গ্রহ উজ্জ্বলভাবে দৃশ্যমান থাকলেও ধীরে ধীরে তা দিগন্তের নিচে মিলিয়ে যাবে। সন্ধ্যার আকাশে লাল আভা ছড়িয়ে দৃশ্যমান থাকবে মঙ্গল গ্রহ।
ভোরের আকাশে দেখা যাবে শনি গ্রহ, যার কাছাকাছি অবস্থান করবে নেপচুন। তবে নেপচুন দেখতে শক্তিশালী দূরবীক্ষণ যন্ত্র প্রয়োজন হবে।
চাঁদের ক্ষীয়মাণ দশার কারণে ২১ এপ্রিলের দিকে এর আলো কিছুটা উল্কাপাত দেখায় বাধা সৃষ্টি করতে পারে। তবুও দক্ষিণ আকাশে করভাস নক্ষত্রপুঞ্জ, দক্ষিণ-পূর্বে কন্যা রাশির উজ্জ্বল নক্ষত্র স্পাইকা এবং উত্তর-পূর্বে আর্কটারাসসহ বিভিন্ন নাক্ষত্রিক দৃশ্য উপভোগ করা যাবে।
সব মিলিয়ে এপ্রিলের শেষভাগে বাংলাদেশের আকাশ এক মনোরম নাক্ষত্রিক মঞ্চে পরিণত হতে যাচ্ছে, যা আকাশপ্রেমীদের জন্য এনে দেবে অনন্য অভিজ্ঞতা।
এসি/আপ্র/১৭/০৪/২০২৬