প্রতিদিনের অত্যন্ত সাধারণ একটি কাজ—কাপড় ধোয়া। কিন্তু এই ছোট কাজটিই আমাদের জীবনকে পরিচ্ছন্ন, সতেজ ও গুছিয়ে রাখতে বড় ভূমিকা রাখে। সেই গুরুত্ব তুলে ধরতেই আজ পালিত হচ্ছে বিশ্ব ধোলাই দিবস।
অনেকের কাছে কাপড় ধোয়া ঝামেলার মনে হলেও এটি দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য অংশ। পরিষ্কার পোশাক শুধু আরাম দেয় না, বরং সুস্বাস্থ্যের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। এ দিনটি তাই তাঁদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানানোর একটি উপলক্ষ, যারা নিয়মিত পরিবারের সবার কাপড় পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব পালন করেন।
ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, মানুষ যখন থেকে পোশাক ব্যবহার শুরু করেছে, তখন থেকেই কাপড় পরিষ্কার রাখার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। একসময় নদী, পুকুর বা কূপের ধারে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পরিশ্রম করে কাপড় ধোয়া হতো, যা ছিল সময়সাপেক্ষ ও কষ্টকর।
১৮৫১ সালে জেমস কিং প্রথম ড্রামযুক্ত কাপড় ধোয়ার যন্ত্র উদ্ভাবন করেন। এরপর সময়ের সঙ্গে প্রযুক্তির উন্নয়নে কাপড় ধোয়া ও শুকানোর পদ্ধতিতে এসেছে আমূল পরিবর্তন। আধুনিক যন্ত্রের ব্যবহারে এ কাজ এখন অনেক সহজ হলেও কাপড় ধুয়ে ভাঁজ করে গুছিয়ে রাখার মতো পূর্ণাঙ্গ স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা এখনও তৈরি হয়নি।
২০১৯ সালে ওয়ার্লপুল কর্পোরেশন প্রথমবারের মতো বিশ্ব ধোলাই দিবস চালু করে। এর লক্ষ্য ছিল পরিবারের যাঁরা নিয়মিত এ কাজটি করেন, তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং পরিচ্ছন্ন জীবনের গুরুত্ব তুলে ধরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কাপড় ধোয়া ছোট কাজ মনে হলেও এটি ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য, পরিচ্ছন্নতা ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশ্ব ধোলাই দিবস সেই প্রয়োজনীয়তাকেই নতুন করে স্মরণ করিয়ে দেয়।
এসি/আপ্র/১৫/০৪/২০২৬