চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হচ্ছে আজ। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল ১০টা থেকে সারাদেশে একযোগে পরীক্ষা শুরু হবে, যা চলবে দুপুর ১টা পর্যন্ত।
এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ড থেকে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে সাড়ে ১৮ লাখেরও বেশি পরীক্ষার্থী। এ পরীক্ষা সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্নে শিক্ষার্থী, কক্ষ পরিদর্শক, কেন্দ্র সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের জন্য ১৪টি জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে শিক্ষা বোর্ডগুলো।
মানতে হবে যে ১৪ জরুরি নির্দেশনা-
১. সকাল সাড়ে ৮টা থেকে শিক্ষার্থীরা কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবে। আর পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে, অর্থাৎ ৯টা ৩০ মিনিটের মধ্যে অবশ্যই পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষাকক্ষে আসনে বসতে হবে।
২. প্রশ্নপত্রে উল্লিখিত সময় অনুযায়ী পরীক্ষা নেওয়া হবে।
৩. প্রথমে বহুনির্বাচনী ও পরে সৃজনশীল/রচনামূলক (তত্ত্বীয়) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে এবং উভয় পরীক্ষার মধ্যে কোনো বিরতি থাকবে না।
৪. পরীক্ষার্থীরা তাদের প্রবেশপত্র নিজ নিজ প্রতিষ্ঠান প্রধানের কাছ থেকে পরীক্ষা শুরুর অন্তত সাতদিন আগে সংগ্রহ করবে এবং পরীক্ষার দিন তা সঙ্গে আনবে।
৫. শারীরিক শিক্ষা, স্বাস্থ্যবিজ্ঞান ও খেলাধুলা এবং ক্যারিয়ার শিক্ষা বিষয়গুলোর জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের নির্দেশনা অনুসারে ধারাবাহিক মূল্যায়নের মাধ্যমে প্রাপ্ত নম্বর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রকে সরবরাহ করবে। সংশ্লিষ্ট কেন্দ্র ব্যবহারিক পরীক্ষার নম্বরের সঙ্গে ধারাবাহিক মূল্যায়নে প্রাপ্ত নম্বর বোর্ডের ওয়েবসাইটে অনলাইনে পাঠাবে।
৬. পরীক্ষার্থীরা তাদের নিজ নিজ উত্তরপত্রের ওএমআর ফরমে পরীক্ষার রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর, বিষয় কোড ইত্যাদি যথাযথভাবে লিখে বৃত্ত ভরাট করবে। কোনো অবস্থাতেই উত্তরপত্র ভাঁজ করা যাবে না।
৭. পরীক্ষার্থীকে সৃজনশীল/রচনামূলক (তত্ত্বীয়), বহুনির্বাচনী ও ব্যবহারিক অংশে পৃথকভাবে পাস করতে হবে।
৮. প্রত্যেক পরীক্ষার্থী কেবল নিবন্ধনপত্রে বর্ণিত বিষয়/বিষয়গুলোর পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে। কোনো অবস্থাতেই ভিন্ন বিষয়ে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার অনুমতি দেওয়া যাবে না।
৯. পরীক্ষা শুরুর অন্তত সাতদিন আগে পরীক্ষার্থীদের ভেতর প্রবেশপত্র বিতরণ নিশ্চিত করতে হবে। এ বিষয়ে কোনো জটিলতা তৈরি হলে প্রতিষ্ঠানপ্রধান দায়ী থাকবেন।
১০. পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষায় শিক্ষা বোর্ড অনুমোদিত ক্যালকুলেটর ব্যবহার করতে পারবে।
১১. কেন্দ্রসচিব ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তি/পরীক্ষার্থী পরীক্ষাকেন্দ্রে মুঠোফোন আনতে বা ব্যবহার করতে পারবে না।
১২. সৃজনশীল/রচনামূলক (তত্ত্বীয়), বহুনির্বাচনী ও ব্যবহারিক পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীর উপস্থিতির জন্য একই উপস্থিতিপত্র ব্যবহার করতে হবে।
১৩. ব্যবহারিক পরীক্ষা নিজ নিজ কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে।
১৪. পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের সাতদিনের মধ্যে পুনঃনিরীক্ষণের জন্য অনলাইনে আবেদন করতে হবে। এ বিষয়ে দৈনিক পত্রিকা ও শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইটে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আবেদনপ্রক্রিয়া, তারিখ ও সময় জানিয়ে দেওয়া হবে।
প্রকাশিত সময়সূচি অনুযায়ী- ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে প্রথমদিনে বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। আর মাদরাসা বোর্ডের অধীনে দাখিলে প্রথমদিনে কোরআন মাজিদ ও তাজবিদ পরীক্ষা নেওয়া হবে। এছাড়া কারিগরি বোর্ডের অধীনে এসএসসি (ভোকেশনাল) ও দাখিল (ভোকেশনাল) পরীক্ষার প্রথমদিনে বাংলা-২ বিষয়ের পরীক্ষা হবে।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির তথ্যমতে, এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নিতে ফরম পূরণ করেছেন ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ জন। তার মধ্যে সাধারণ ৯টি বোর্ডে ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩৯৮ জন।
আর মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে তিন লাখ চার হাজার ২৮৬ জন ও কারিগরি বোর্ডে পরীক্ষার্থী এক লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ জন।
এবার নিয়মিত পরীক্ষার্থী ১৪ লাখ ৪৮ হাজার ৫১১ জন। আর অনিয়মিত পরীক্ষার্থী চার লাখের বেশি। তাদের মধ্যে এক বিষয়ে উত্তীর্ণ হতে পরীক্ষা দিচ্ছে ২ লাখ ৬১ হাজারের বেশি পরীক্ষার্থী। বাকিরা দুই, তিন, চার বা সব বিষয়ে পরীক্ষা দিচ্ছে।
সারাদেশের তিন হাজার ৮৮৫টি কেন্দ্রে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে দেশের ৩০ হাজার ৬৬৬টি স্কুল-মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।
এসি/আপ্র/২১/০৪/২০২৬