সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারওয়ার ও মেহরুন রুনি হত্যার বিচার দীর্ঘ দেড় দশকেও না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাংবাদিক সমিতির নেতারা। তাদের দাবি, তদন্তে অবহেলা ও ‘ডিপ স্টেট’-এর প্রভাবের কারণেই এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য এখনো উদঘাটিত হয়নি।
সোমবার (৬এপ্রিল) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সামনে সাগর-রুনি হত্যার বিচার দাবিতে আয়োজিত এক সমাবেশে বলা হয়, অবিলম্বে এই হত্যাকাণ্ডের বিচার না হলে সাংবাদিক সমাজ কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে। ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকন বলেন, সাগর-রুনি হত্যার বিচারের জন্য শুরুতে সাংবাদিকদের মধ্যে যে ঐক্য ছিল, তা সময়ের সঙ্গে দুর্বল হয়ে পড়েছে। এই সুযোগে একটি মহল সুবিধা নিয়েছে।
ডিআরইউ সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল বলেন, সাগর সরওয়ার ও মেহরুন রুনি হত্যাকাণ্ডের বিচার না হওয়ায় সাংবাদিক সমাজ ক্ষুব্ধ। এই হত্যার বিচার না হলে ভবিষ্যতে কেউই নিরাপদ থাকবে না।
ডিআরইউর সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদ বলেন, এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার তারিখ ১২৩ বার পেছানো হয়েছে, যা নজিরবিহীন। কেন র্যাবের হাতে তদন্ত দেওয়া হল, সেটিও খতিয়ে দেখা দরকার।
সাংবাদিক হারুনুর রশিদ স্বপন বলেন, সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের পর ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অগ্রগতির কথা বলা হলেও ১৪ বছরেও তা বাস্তবে দেখা যায়নি। পর্দার আড়ালে শক্তিশালী কোনো গোষ্ঠী এই ঘটনাকে নিয়ন্ত্রণ করেছে বলে সন্দেহ রয়েছে। বিগত সরকারের পাশাপাশি পরবর্তী সময়েও মামলাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। এখন আমাদের দায়িত্ব, এই ধামাচাপার সংস্কৃতি ভেঙে দেওয়া।
সাংবাদিকরা ডিআরইউসহ অন্যান্য পেশাজীবী সংগঠনকে আবারো ঐক্যবদ্ধ হয়ে সাগর-রুনি হত্যার বিচারের জন্য আন্দোলনের ডাক দেওয়ার আহ্বান জানান।
২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারে নিজ বাসায় খুন হন মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সারওয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি। রুনির ভাই নওশের আলম রোমান সে সময় শেরেবাংলা নগর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা না পড়ায় বিচার প্রক্রিয়া শুরুই হয়নি।
সানা/আপ্র/৬/৪/২০২৬