গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

মেনু

বেইলি রোড অগ্নিকাণ্ডের অভিযোগপত্র জমা

নিজেস্ব প্রতিবেদক

নিজেস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১:২৪ পিএম, ০৩ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ১১:৪৭ এএম ২০২৬
বেইলি রোড অগ্নিকাণ্ডের অভিযোগপত্র জমা
ছবি

রাজধানীর বেইলি রোডের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৪৬ জনের মৃত্যুর ঘটনায় দুই বছর পর তদন্ত শেষে ২২ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে সিআইডি -ছবি সংগৃহীত

রাজধানীর বেইলি রোডের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৪৬ জনের মৃত্যুর ঘটনায় দুই বছর পর তদন্ত শেষে ২২ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

গত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) ঢাকার আদালতের প্রসিকিউশন বিভাগে এই অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, ২০২৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি রাত পৌনে ১০টার দিকে বেইলি রোডের গ্রিন কোজি কটেজ নামের সাততলা ভবনে আগুনের সূত্রপাত হয়, যাতে ৪৬ জন নিহত এবং ৭৫ জন জীবিত উদ্ধার হন। নিহতদের মধ্যে ২০ জন পুরুষ, ১৮ জন নারী ও ৮ জন শিশু।

তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ভবনের নিচতলার ‘চায়ের চুমুক’ কফিশপে ব্যবহৃত একটি বৈদ্যুতিক কেটলি থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে বলে প্রাথমিকভাবে জানা যায়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ও ঘন ধোঁয়া পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে এবং আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।

অভিযোগপত্রে আরো বলা হয়, ভবনের অধিকাংশ রেস্টুরেন্ট ও কফিশপে পর্যাপ্ত অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা, জরুরি নির্গমন পথ কিংবা বৈধ ট্রেড লাইসেন্স ছিল না। ভবনটি অনুমোদিত নকশা অমান্য করে নবম তলা পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা হয় এবং আবাসিক অংশও বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করা হচ্ছিল।

তদন্তে বলা হয়, আগুন লাগার পর ভবনের বিভিন্ন তলায় থাকা মানুষজন বের হওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু প্রধান সিঁড়ি ছিল একমাত্র নির্গমন পথ, যা গ্যাস সিলিন্ডারসহ বিভিন্ন সামগ্রী দিয়ে আংশিকভাবে বাধাগ্রস্ত ছিল। ফলে দ্রুত বের হতে না পেরে অনেকেই ধোঁয়ার মধ্যে আটকা পড়েন এবং শ্বাসরোধে অচেতন হয়ে পরে আগুনে দগ্ধ হয়ে মারা যান।

বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়, ‘কাচ্চি ভাই’ রেস্টুরেন্টে আগুনের পর প্রধান ফটক বন্ধ থাকায় ভেতরে থাকা মানুষজন বের হতে পারেননি। অভিযোগ অনুযায়ী, বিল পরিশোধ ছাড়া কাউকে বের হতে না দেওয়ার অনিয়মিত প্রথার অংশ হিসেবে ফটক বন্ধ রাখা হয়েছিল, যা দুর্ঘটনার সময়ও খোলা হয়নি। ফলে ওই রেস্টুরেন্টেই সর্বাধিক প্রাণহানি ঘটে।

অভিযোগপত্রে ভবনে দাহ্য পদার্থ, গ্যাস সিলিন্ডার এবং অবৈধ স্থাপনার উপস্থিতিকে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এতে অনেকে দিক হারিয়ে ফেলেন এবং বের হওয়ার সুযোগ পাননি।

এ ঘটনায় রমনা থানার উপপরিদর্শক মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম মামলা দায়ের করেন। পরে তদন্তের দায়িত্ব পায় সিআইডি। তদন্ত শেষে পরিদর্শক শাহজালাল মুন্সী আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন- চায়ের চুমুক কফিশপের স্বত্বাধিকারী আনোয়ারুল হক, আমিন মোহাম্মদ ফাউন্ডেশনের স্বত্বাধিকারী মো. রমজানুল হক নিহাদ, ম্যানেজার মুন্সি হামিমুল আলম বিপুল, কাচ্চি ভাই, খানাজ ও তাওয়াজ রেস্টুরেন্টের স্বত্বাধিকারী মো. সোহেল সিরাজ, চায়ের চুমুক কফিশপের স্পেস মালিক ইকবাল হোসেন কাউসার, কাচ্চি ভাই রেস্টুরেন্টের ম্যানেজার জেইন উদ্দিন জিসান, জেস্টি রেস্টুরেন্টের স্বত্বাধিকারী মোহর আলী পলাশ ও মো. ফরহাদ নাসিম আলীম, ফুকো রেস্টুরেন্টের স্বত্বাধিকারী আব্দুল্লাহ আল মতিন, ষষ্ঠ তলার ম্যানেজার মো. নজরুল ইসলাম খান, মেজবানিখানা রেস্টুরেন্টের স্বত্বাধিকারী লতিফুর নেহার, খালেদ মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ ও অঞ্জন কুমার সাহা, অ্যামব্রোশিয়া রেস্টুরেন্টের স্বত্বাধিকারী মো. মুসফিকুর রহমান, পিৎজা ইন রেস্টুরেন্টের স্বত্বাধিকারী জগলুল হাসান, স্ট্রিট ওভেন রেস্টুরেন্টের স্বত্বাধিকারী আশিকুর রহমান ও হোসাইন মোহাম্মদ তারেক, ফুকো রেস্টুরেন্টের স্বত্বাধিকারী রাসেল আহমেদ, মো. সাদরিল আহম্মেদ শুভ, আদিব আলম, রাফি উজ-জাহেদ ও শাহ ফয়সাল নাবিদ।

তদন্তে আরো বলা হয়, ভবনের অনুমোদিত নকশা লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে একাধিক রেস্টুরেন্ট পরিচালনা করা হতো এবং অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের কোনো অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না।

এছাড়া ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা থাকলেও মৃত্যুর কারণে স্পেস মালিক এ.কে নাসিম হায়দার ও ক্যাপ্টেন সরদার মো. মিজানুর রহমানকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে। একইভাবে আনোয়ার হোসেন সুমন ও শফিকুর রহমান রিমনের বিরুদ্ধেও জড়িত থাকার প্রমাণ না পাওয়ায় অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।

মামলায় বলা হয়, নিচতলার একটি রেস্টুরেন্টে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ ঘটেও আগুনের সূত্রপাত হতে পারে বলে ভিন্ন বর্ণনাও তদন্তে উঠে এসেছে। মুহূর্তেই আগুন ও ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে পুরো ভবনে, ফলে ভেতরে থাকা মানুষজন আটকা পড়ে প্রাণ হারান ও আহত হন।

এ ঘটনায় বর্তমানে ১১ জন আসামি গ্রেফতার হলেও সবাই জামিনে আছেন এবং ১৩ জন এখনো পলাতক রয়েছেন। আদালত আগামী ১৯ এপ্রিল পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেছে।
সানা/আপ্র/৩/৪/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

ঢাকা থেকে রিয়াদগামী ১০ ফ্লাইট স্থগিত, ভোগান্তিতে ৩৪৩১ যাত্রী
১২ অক্টোবর ২০২৬

ঢাকা থেকে রিয়াদগামী ১০ ফ্লাইট স্থগিত, ভোগান্তিতে ৩৪৩১ যাত্রী

সৌদি আরবের রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় ঢাকা থেকে ১০টি ফ্লাইট স্থ...

রিকশা ভাড়া থেকে দান, ১ নভেম্বর থেকে চালু হচ্ছে ডিজিটাল লেনদেন
১২ অক্টোবর ২০২৬

রিকশা ভাড়া থেকে দান, ১ নভেম্বর থেকে চালু হচ্ছে ডিজিটাল লেনদেন

বাংলাদেশে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক পর্যায়ের আর্থিক লেনদেনকে ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনতে আগামী ১ নভেম্বর...

সেবার মান বাড়ানো গেলে চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়ার প্রবণতা কমবে: রাষ্ট্রপতি
১২ অক্টোবর ২০২৬

সেবার মান বাড়ানো গেলে চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়ার প্রবণতা কমবে: রাষ্ট্রপতি

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশে বিশ্বমানের চিকিৎসাব্যবস্থা রয়েছে। সেবার মান আরো বা...

দিল্লিতে বিমসটেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের প্রথম বৈঠকে যাচ্ছেন না সালাহউদ্দিন
১২ অক্টোবর ২০২৬

দিল্লিতে বিমসটেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের প্রথম বৈঠকে যাচ্ছেন না সালাহউদ্দিন

প্রতিষ্ঠার প্রায় তিন দশক পর বিমসটেকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ভারত...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

অটোরিকশার দাবির পক্ষে বলা নেতার আছে ৭০০ বাহন

অটোরিকশা চালকদের দাবি মেনে নেওয়ার পক্ষে বক্তব্য দেওয়া জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের ৭০০টি অটোরিকশা রয়েছে বলে দাবি করেছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান। তিনি বলেছেন, জনগণের কাছে বারবার খোলস বদলে পার পাওয়া যাবে না। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর মিরপুর-১২ থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত মেট্রোরেলের পিলারে জুলাইয়ের চিত্রাঙ্কন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি এ দাবি করেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের সাত শ অটোরিকশা থাকার অভিযোগকে কাল্পনিক, অসত্য ও ভিত্তিহীন আখ্যা দিয়ে এর পক্ষে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ চেয়েছে দলটি| প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন প্রশাসক সত্য বলেছেন?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 2 দিন আগে