অ্যান্টিসেমিটিক মন্তব্য ও ঘৃণাত্মক বক্তব্য ছড়ানোর অভিযোগে আলোচিত ইসলামি বক্তা মিজানুর রহমান আজহারীকে অস্ট্রেলিয়া থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তার জাতীয় পর্যায়ের বক্তৃতা সফরের মাঝপথেই তার ভিসা বাতিল করা হয় এবং বর্তমানে তিনি বহিষ্কারের অপেক্ষায় আছেন।
সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদন বলা হয়েছে, আজহারি তার বক্তব্যে অ্যাডলফ হিটলারকে ইহুদিদের বিরুদ্ধে ‘ঈশ্বরের শাস্তি’ হিসেবে উল্লেখ করেন। অ্যাডলফ হিটলারকে নিয়ে তার এমন মন্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র সমালোচনার জন্ম দেয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশি এই বক্তা প্রায় এক কোটি অনুসারীর মালিক এবং এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন প্রবাসী মুসলিম কমিউনিটিতে তিনি বক্তৃতা দিয়ে থাকেন। ‘লিগ্যাসি অব ফেইথ’ শীর্ষক ট্যুরের অংশ হিসেবে তিনি ইস্টার উপলক্ষে অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেন, মেলবোর্ন, সিডনি ও ক্যানবেরায় অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা ছিল।
অস্ট্রেলিয়ার লিবারেল সিনেটর জনাথন ডানিয়াম জানান, সংসদ সদস্যদের বিভিন্ন কমিউনিটি গ্রুপ অজহারির আগমনের বিষয়ে সতর্ক করেছিল। তিনি বলেন, সরকার ও মন্ত্রী পর্যায়ের অনেকেই এ বিষয়ে আগেই বার্তা পেয়েছিলেন।
২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে দেওয়া এক বক্তৃতায় অজহারি ইহুদিবিদ্বেষমূলক বিভিন্ন ষড়যন্ত্র তত্ত্ব প্রচার করেন এবং ইহুদিদের নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি হিটলারকে ‘ঈশ্বরের শাস্তি’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং ইহুদিদের ‘বিশ্বের সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী’ বলেও অভিহিত করেন।
ডানিয়াম আরো দাবি করেন, যুক্তরাজ্য ২০২১ সালে অজহারির প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছিল এবং বাংলাদেশেও তার বিরুদ্ধে উগ্র বক্তব্য ও জনশৃঙ্খলা বিঘ্নের অভিযোগে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন ধর্মীয় ও জাতিগত গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ঘৃণামূলক বক্তব্য ছড়ানোর অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এদিকে অজহারির অস্ট্রেলিয়া সফরের আয়োজন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের একটি সংগঠন বাংলাদেশে জাতিগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের জন্য অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেশন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানায়।
সংগঠনটি সতর্ক করে বলে, অজহারির বক্তব্য ধর্মীয় উত্তেজনা উসকে দিতে পারে এবং উগ্র মতাদর্শকে বৈধতা দিতে পারে।
অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানায়নি, তবে তার ভিসা বাতিলের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এসি/আপ্র/০১/০৪/২০২৬