জ্বালানির ‘পর্যাপ্ত’ মজুদ থাকলেও সংকট এড়াতে বিভিন্ন উৎস থেকে আমদানি বাড়ানোর কথা বলেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি বলেন, এপ্রিল মাসেও আমি জানি যতদূর জানি যে, আমাদের আরও তেল আসবে। সৌদি আরব থেকে আসতেছে, ভারত থেকে আসবে; আমাদের মালয়েশিয়া থেকে আসার কথা, ইন্দোনেশিয়া থেকে আসার কথা, এগুলো সব প্রসেসিং হচ্ছে কিন্তু।
এদিন খনিজ ও জ্বালানি বিভাগের সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়েছে যে জ্বালানি তেলের সংকট নেই।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জ্বালানি খাতে চাপ তৈরি হওয়ায় পেট্রোল পাম্পগুলোতে তেল নিতে যানবাহনে দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে বেশকিছু দিন ধরে। তবে সংবাদ সম্মেলনে জ্বালানি বিভাগের যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী বলেছেন, দেশে বর্তমানে প্রায় ১ লাখ ৯২ হাজার টন জ্বালানি তেল মজুদ আছে। তিনি জ্বালানি সংকট নেই বলে দাবি করেছেন।
এর মধ্যেই জ্বালানি সাশ্রয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি অফিসে সাপ্তাহিক ছুটি বাড়ানোর বিষয়ে সরকারের চিন্তাভাবনার করার খবর এসেছে। এই প্রেক্ষাপটে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে মিলে তেল আমদানিতে কাজ করার কথা তুলে ধরলেন। তিনি বলেন, মালয়েশিয়ার সাথে আমি জানি ফলপ্রসু আলাপ হয়েছে। মালয়েশিয়ার সাথে আমাদের এমওইউ আছে, গত বছর যেটা সই হয়েছে, ইন্দোনেশিয়ার সাথে আমাদের ফলপ্রসু আলোচনা হয়েছে।
তো আমাদের জ্বালানির সোর্সগুলা ডাইভার্সিফাই করার জন্য যা যা করার দরকার, আমাদের মন্ত্রণালয় থেকে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, যেই সোর্সগুলা থেকে আমরা এখন যুদ্ধের কারণে তেল আনতে পারছি না, সেই কারণে অন্য সোর্সগুলো থেকে যাতে আমরা তেল আনতে পারি, জ্বালানি আনতে পারি, সেক্ষেত্রে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে যতটুক সহযোগিতা জ্বালানি মন্ত্রণালয়কে করার সেটা আমরা শতভাগ করছি এবং আমার জানা মতে, আমাদের তথ্য অনুযায়ী এখনো কোনো জ্বালানি সংকট নেই।
সংসদে জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর বক্তব্যের কথা তুলে ধরে শামা ওবায়েদ বলেন, আমরা যেটা গতকালকেও আমরা শুনেছি, আমাদের জ্বালানিমন্ত্রী খুব পরিষ্কারভাবে বলেছেন যে, বিভিন্ন জায়গায় জ্বালানি বা তেল আপনার মজুদ করে রাখা হচ্ছে, হোর্ডিং করা হচ্ছে, অসাধু ব্যবসায়ীরা এই কাজগুলো করছে।
সে কারণে কৃত্রিম উপায়ে জ্বালানি সংকট তৈরি করার চেষ্টা হচ্ছে। তো, জ্বালানি সংকটটা নেই। আমাদের যেরকম সাশ্রয়ী হতে হবে, একইভাবে ভবিষ্যতে যাতে আমাদের জ্বালানি এবং অর্থনীতির উপরে কোনো চাপ না পড়ে, সেই জন্যই কিন্তু আমরা এখন থেকেই সোর্সিংগুলা করে যাচ্ছি।
যুক্তরাষ্ট্র থেকে জ্বালানি আমদানির আলোচনা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের যেহেতু প্রয়োজন, আমরা তো বিভিন্ন জায়গা থেকে সব আমাদের বন্ধু রাষ্ট্রগুলো যেখান থেকে আমাদের সহজে আমরা আনতে পারব এবং সেই জায়গায় জ্বালানি আনার সেই ব্যবস্থা আমরা করছি। আমরা যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়ার সব সোর্সিং আমরা করছি। যেখান থেকে আমরা আগে পাই, সেখানে আমরা মজুদ করেছি। পুরোটাই কিন্তু বাংলাদেশের অর্থনীতি, বাংলাদেশের সাধারণ জনগণের কথা মাথায় রেখে প্রধান প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে কাজগুলো হচ্ছে।
সানা/আপ্র/৩১/৩/২০২৬