চব্বিশের গণআন্দোলনের সঙ্গে স্বাধীনতাকে সমান করে ফেললে তা ‘বড় বিপর্যয়ের কারণ হবে’ বলে মন্তব্য করেছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা একবারই এসেছে। এর আগেও আসেনি, এর পরেও আসবে না। এই স্বাধীনতার পর আমাদের যে রাজনৈতিক অর্জনগুলো, সেখানে অনেক অর্জন আমাদের আছে। নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আমাদের বড় একটা অর্জন আমরা স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছিলাম। চব্বিশের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আমরা ফ্যাসিবাদের পতন ঘটিয়েছি। আমাদের বড় একটা অর্জন, নিঃসন্দেহে। স্বাধীন দেশে এই রাজনৈতিক অর্জনগুলোকে আমরা শ্রদ্ধা করি, সম্মান করি। তাই বলে এই অর্জনগুলোর সঙ্গে আমরা যদি স্বাধীনতাকে সমানতালে করে ফেলি, সেটা আমাদের জন্য হবে অনেক বড় একটা বিপর্যয়ের কারণ।
স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে শনিবার (২৮ মার্চ) ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন আয়োজিত বীর মুক্তিযোদ্ধা সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব বলেন। মন্ত্রী বলেন, আমাদের ঠিকানা মুক্তিযুদ্ধ, আমাদের ঠিকানা ৭১। কাজেই আমরা যারা মুক্তিযুদ্ধ করেছি, এই মহান স্বাধীনতা এনেছি, আপনাদের সঙ্গে একমত হয়ে বলতে চাই, বাংলাদেশের স্বাধীনতা একবারই এসেছে। এর আগেও আসেনি, এর পরেও আসবে না। তাই আমি মনে করি আমাদের হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ অর্জন আমাদের স্বাধীনতা।
অনুষ্ঠানে সঠিক মুক্তিযোদ্ধা, একাত্তরের শহীদ ও রাজকারদের তালিকা হালনাগাদ করার কথা বলেন আহমেদ আযম খান।
ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার ব্যাপারে মন্ত্রী বলেন, ‘এটা বহুল আলোচিত একটি বিষয় যে, স্বাধীনতার মাত্র ২৩ দিন পর হঠাৎ করেই কোনো রকমের জরিপ ছাড়া, তথ্য-উপাত্ত ছাড়া নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের তালিকা কী করে এলো, হুট করে একটি তালিকা ৩০ লক্ষ বলে দিলেন। তাই আমি মনে করি যে, এই শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিক তালিকা প্রণয়ন, মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিক তালিকা প্রণয়ন এবং ওই মুহূর্তে যারা মুক্তিযুদ্ধবিরোধী ছিল-রাজাকার, আলবদর, আলশামস-তাদেরও সঠিক তালিকা প্রণয়ন আমার মন্ত্রণালয়ের একটি বড় চ্যালেঞ্জ। একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
মন্ত্রী বলেন, এই চ্যালেঞ্জকে যদি আমি এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকি, তাহলে আমি এই চ্যালেঞ্জকে গ্রহণ করে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে সংসদের মাধ্যমে জাতীয় ঐক্য তৈরি করে এই চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করে সঠিক তালিকা জাতির সামনে প্রকাশ করব ইনশাআল্লাহ, আপনাদের কাছে কথা দিচ্ছি।
মুক্তিযোদ্ধাদের আবাসন, ভাতা, বিনা খরচায় সুচিকিৎসা সরকারের ‘বিবেচনাধীন’ রয়েছে বলেও জানান তিনি। অনুষ্ঠানের ডিএসসিসির প্রশাসক মো. আবদুস সালামও বক্তব্য দেন।
সানা/আপ্র/২৮/৩/২০২৬