গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

মেনু

পরিকল্পিত পদক্ষেপে ১৪ মিলিয়ন টনের বেশি কার্বন নিঃসরণ কমানো সম্ভব

নিজেস্ব প্রতিবেদক

নিজেস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২০:১৭ পিএম, ২৮ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ০৯:০৫ এএম ২০২৬
পরিকল্পিত পদক্ষেপে ১৪ মিলিয়ন টনের বেশি কার্বন নিঃসরণ কমানো সম্ভব
ছবি

পরিকল্পিত পদক্ষেপে ১৪ মিলিয়ন টনের বেশি কার্বন নিঃসরণ কমানো সম্ভব

বাংলাদেশের জলবায়ু ও শিল্পায়নের ভবিষ্যৎ সমৃদ্ধির মূলে থাকা ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাতে পরিকল্পিত পদক্ষেপ গ্রহণ করলে বিসিক শিল্পনগরীগুলো থেকে বছরে ১৪.০৯ মিলিয়ন টনের বেশি কার্বন নিঃসরণ কমানো সম্ভব বলে জানিয়েছে বেসরকারি উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভ।


প্রতিষ্ঠানটি বলছে, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাতে পরিকল্পিত পদক্ষেপ গ্রহণ করলে কার্বন ক্রেডিটের সুবিধা ব্যবহার করে বছরে প্রায় ০.৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার রাজস্ব আয় করাও সম্ভব হতে পারে।


শুধু তাই নয়, চীন, ভারত এবং ভিয়েতনামের সাফল্যকে মডেল হিসেবে গ্রহণ করে বাংলাদেশের এসএমই খাত বিকেন্দ্রীভূত রুফটপ সোলার প্যানেল ব্যবহারের মাধ্যমে তাদের পরিচালনা ব্যয় ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশগত মান বজায় রেখে বিশ্ববাজারে রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে।

ঢাকায় একটি হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে উপস্থাপিত গবেষণা প্রতিবেদনে এতথ্য উঠে এসেছে।
গবেষণা প্রতিবেদনে এসএমই ক্লাস্টারগুলোর জ্বালানি ব্যবহার এবং নিঃসরণের একটি বিস্তারিত ও কারখানা-ভিত্তিক মূল্যায়ন তুলে ধরা হয়।  গবেষণা তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের মোট শিল্প ইউনিটের ৯০ শতাংশের বেশি এসএমই খাতের অন্তর্ভুক্ত, যা শিল্প খাতের প্রায় ৮৫ শতাংশ শ্রমশক্তি নিয়োগ করে এবং জিডিপিতে ২৫-৩০ শতাংশ অবদান রাখে। তা সত্ত্বেও, এই খাতটি এমন একটি জ্বালানি ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল যার প্রায় ৯৫ শতাংশ বিদ্যুৎ জীবাশ্ম জ্বালানি ভিত্তিক, যা বিশ্ববাজারের অস্থিতিশীলতার কারণে উচ্চ ঝুঁকির মুখে রয়েছে।


বাংলাদেশের এনডিসি ৩.০ লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ২০৩৫ সালের মধ্যে জ্বালানি খাত থেকে ৬৯.৮৪ মিলিয়ন টন কার্বন ডাই অক্সাইড নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যা শিল্প খাতের জ্বালানি রূপান্তরকে জরুরি করে তুলেছে।


গবেষণায় বিসিক শিল্পনগরীর চারটি উচ্চ-প্রভাবশালী খাতের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে; চামড়া, প্লাস্টিক উৎপাদন, প্লাস্টিক প্যাকেজিং এবং হালকা প্রকৌশল। এই চারটি খাত সম্মিলিতভাবে বছরে আনুমানিক ৪৬.৯৯ মিলিয়ন টন কার্বন ডাই অক্সাইড কার্বন নিঃসরণ করে, যার মধ্যে কারিগরিভাবে বছরে ১৪.০৯৭ মিলিয়ন টন কার্বন ডাই অক্সাইড নিঃসরণ কমানো সম্ভব।


গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, খাতভিত্তিক বিশ্লেষণের ফলাফলে দেখা যায়- ১. চামড়া শিল্প: ১৯-৩৩% নিঃসরণ কমানোর সম্ভাবনা। ২. হালকা প্রকৌশল: ১৯-৩১% নিঃসরণ কমানোর সম্ভাবনা। ৩. প্লাস্টিক উৎপাদন: সর্বোচ্চ ৩৩-৪৯% নিঃসরণ কমানোর সম্ভাবনা। ৪. প্যাকেজিং: ১৫-২৮% নিঃসরণ কমানোর সম্ভাবনা।


গবেষণার প্রধান ফলাফল হিসেবে শিল্পনগরী পর্যায়ে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের রূপান্তরমূলক ক্ষমতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বিসিক শিল্পনগরীর মাত্র ১০ শতাংশ খালি জায়গা ব্যবহারের মাধ্যমে প্রায় ৫৭ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা তৈরি করা সম্ভব, যা বছরে ৮২ হাজার ৯৬৮.৮৮ মেগাওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে এবং বছরে ৫১ হাজার ৪৪০.৭১ টন কার্বন ডাই অক্সাইড কার্বন নিঃসরণ হ্রাস করবে। 

এই জায়গার ব্যবহার ২০ শতাংশে উন্নীত করলে ১১৪ মেগাওয়াট সক্ষমতা থেকে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৯৩৭.৭৬ মেগাওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়া সম্ভব, যা বছরে ১ লাখ ২ হাজার ৮৮১.৪১ টন কার্বন ডাই অক্সাইড নিঃসরণ কমাতে সাহায্য করবে।

অনুষ্ঠানে চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভের প্রধান গবেষক এম জাকির হোসেন খান এই গবেষণার কাঠামোগত প্রভাবের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, আর্থিক বিশ্লেষণের তথ্য এই রূপান্তরের যৌক্তিকতাকে আরো শক্তিশালী করে। একটি সাধারণ ২০ কিলোওয়াট রুফটপ সোলার সিস্টেম থেকে দিনে প্রায় ৭৯ ইউনিট বিদ্যুৎ পাওয়া সম্ভব, যা ৪.২ বছরেই বিনিয়োগের টাকা তুলে আনতে পারে এবং কেপেক্স মডেলে ২৩ শতাংশ ইন্টারনাল রেট অফ রিটার্ন নিশ্চিত করে।

অন্যদিকে, ওপেক্স মডেলের আওতায় কোনো প্রাথমিক বিনিয়োগ ছাড়াই এসএমইগুলো সৌরবিদ্যুৎ গ্রহণ করতে পারে এবং তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যুৎ বিলের খরচ কমাতে পারে।

 

তিনি বলেন, জ্বালানি সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করতে হলে বিএনপির নবায়নযোগ্য জ্বালানি লক্ষ্যমাত্রা শুধু কাগজের লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে আমাদের এসএমই খাতের জন্য নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে হবে, যা বাংলাদেশের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের মূল চালিকাশক্তি। 

চীন, ভারত এবং ভিয়েতনামের নবায়নযোগ্য জ্বালানি রূপান্তর তাদের ছোট ব্যবসাগুলোকে গ্রিডের অস্থিরতা এবং আমদানিকৃত জীবাশ্ম জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি থেকে সুরক্ষা দিয়েছে, যা তাদের কর্মসংস্থান ও সক্ষমতা হারানো ছাড়াই সম্ভব হয়েছে।

গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষ্যে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সহ-গবেষক সাবরিন সুলতানা ও নাজিফা আলম তোরসা।

গবেষণাটিতে যন্ত্রাংশ-ভিত্তিক জ্বালানি মূল্যায়ন, উৎপাদন ম্যাপিং এবং বিদ্যুৎ ব্যবহারের যাচাইকৃত ডেটা ব্যবহার করে নিঃসরণের একটি শক্তিশালী বেজলাইন তৈরি করা হয়েছে।

প্রযুক্তিগত সমাধানের পাশাপাশি গবেষণায় কিছু কাঠামোগত বাধাও চিহ্নিত করা হয়েছে, যেমন: স্বল্প সুদে অর্থায়নের অভাব, উচ্চ প্রাথমিক বিনিয়োগ, সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের কারিগরি জ্ঞানের ঘাটতি এবং মানসম্মত জ্বালানি অডিট ব্যবস্থার অনুপস্থিতি। এই বাধাগুলো দূর করতে গবেষণায় তিনটি মূল স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করে একটি ক্লাস্টার-ভিত্তিক ডিকার্বোনাইজেশন পাথওয়ে বা পথনকশা প্রস্তাব করা হয়েছে।

 

শিল্পনগরী পর্যায়ে অংশীদারিত্বমূলক নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তোলা। ওপেক্স এবং স্বল্প সুদে নবায়নযোগ্য জ্বালানি অর্থায়নের মতো উদ্ভাবনী আর্থিক মডেল প্রবর্তন করা। বিসিক এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় জোরদার করা।

 

ক্লাইমেট ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড (ঈওঋ) এবং এমডিবি ট্রাস্ট ফান্ডের স্বাধীন পর্যবেক্ষক এম জাকির হোসেন খান সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়ে বলেন, “বর্তমান সংকটে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের ২০৩০ সালের মধ্যে ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিশ্চিত করার লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এবং জ্বালানি বৈষম্য কমানোর ক্ষেত্রে এসএমই খাতের জন্য জ্বালানি সার্বভৌমত্ব কেবল একটি জলবায়ু ইস্যু নয়, বরং এটি একটি অর্থনৈতিক টিকে থাকার কৌশল। 

 

বিসিকের মতো ক্লাস্টারগুলোতে রুফটপ সোলার, গ্রিন ফাইন্যান্সিং এবং জ্বালানি দক্ষতাকে অগ্রাধিকার দিলে একটি শক্তিশালী ও স্বনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলা সম্ভব। 

 

ট্যাক্স বেনিফিট, ইনসেন্টিভ এবং উদ্ভাবনী অর্থায়ন যেমন প্রগতিশীল কার্বন ট্যাক্স ও জনহিতকর অনুদান আমাদের আর্থিক বোঝা এবং ঋণের ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।”

গবেষণার ফলাফলগুলো এসএমই ডিকার্বোনাইজেশনকে কেবল একটি জ্বালানি পরিকল্পনা হিসেবে নয়, বরং একটি উচ্চ-প্রভাবশালী অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। 

জীবাশ্ম জ্বালানি নির্ভরতা কমানোর ফলে সরাসরি উৎপাদন খরচ কমবে, মুনাফা বাড়বে এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মাধ্যমে শিল্পের সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে, যা কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি জলবায়ু লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহায়তা করবে।

সানা/ডিসি/আপ্র/২৮/৩/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

রোববার ২৪ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না যেসব এলাকায়
২৭ জুন ২০২৬

রোববার ২৪ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না যেসব এলাকায়

সাসেক প্রকল্পের আওতায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক উন্নয়ন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে রূপগঞ্জের গোলাকান্দাইল মোড়ে বি...

ভারতের মেডিকেল কলেজে ক্লাস নিচ্ছেন আওয়ামী লীগের পলাতক সাবেক এমপি
২৭ জুন ২০২৬

ভারতের মেডিকেল কলেজে ক্লাস নিচ্ছেন আওয়ামী লীগের পলাতক সাবেক এমপি

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে আড়ালে থাকা কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও চিকিৎসক অ...

প্রধানমন্ত্রীর সফরে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত: মির্জা ফখরুল
২৭ জুন ২০২৬

প্রধানমন্ত্রীর সফরে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত: মির্জা ফখরুল

প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া ও চীন সফরকে কূটনৈতিকভাবে এক বিশাল অর্জন হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন স্থানীয়...

প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ‘অভূতপূর্ব সাফল্য’ অভিহিত করে সংসদে ধন্যবাদ প্রস্তাব
২৭ জুন ২০২৬

প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ‘অভূতপূর্ব সাফল্য’ অভিহিত করে সংসদে ধন্যবাদ প্রস্তাব

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া ও চীন সফরের ‘অভূতপূর্ব সাফল্যের’ জন্য জাতীয় সংসদে ধন্যবাদ প...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

২০২৫ সালে সেবা খাতে ঘুষ লেনদেনের পরিমাণ ১২ হাজার ৬৩৩ কোটি ২০ লাখ টাকা

দেশের বিভিন্ন সেবা খাতে ২০২৫ সালে ঘুষ লেনদেনের পরিমাণ আনুমানিক ১২ হাজার ৬৩৩ কোটি ২০ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটির মতে, এই পরিমাণ ২০২৩ সালের তুলনায় প্রায় ১৫ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি। আপনি কি মনে করেন এই জরিপ সঠিক?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 1 দিন আগে