গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬

মেনু

স্বাধীনতা দিবসের আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী

২৬ মার্চ রাত সোয়া ২টায় কী হয়েছিল, তা গুরুত্বপূর্ণ দলিল হতে পারে

নিজেস্ব প্রতিবেদক

নিজেস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১:৪০ পিএম, ২৭ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ২৩:১৩ এএম ২০২৬
২৬ মার্চ রাত সোয়া ২টায় কী হয়েছিল, তা গুরুত্বপূর্ণ দলিল হতে পারে
ছবি

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে শুক্রবার বিএনপির আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান -ছবি সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম ‘অনিবার্য’ চরিত্র। তিনি হঠাৎ করেই ‘স্বাধীনতার ঘোষণা’ দেননি।

জিয়াউর রহমানের লেখা একটি প্রবন্ধের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একাত্তরের ২৬ মার্চ রাত ২টা ১৫ মিনিটে কী হয়েছিল, তা গবেষকের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘দলিল’ হতে পারে।

শুক্রবার (২৭ মার্চ) বিকালে রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে সরকারি দল বিএনপি আয়োজিত স্বাধীনতা দিবসের আলোচনায় দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। আগের দিন বৃহস্পতিবার অভ্যুদয়ের ৫৫তম বার্ষিকী উদযাপন করেছে বাংলাদেশ। একাত্তরের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণার পথ ধরে নয় মাসের সশস্ত্র সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বিশ্বমানচিত্রে জায়গা করে নেয় বাংলাদেশ।
স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বিএনপির এ আয়োজনের শুরুতে দলের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাত করা হয়।

অতীতকে ভুলে যাব না: প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বড় ছেলে তারেক রহমান বলেন, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের যে গৌরব গাথা তা নিয়ে আলোচনা হবে, গবেষণা চলবে এবং এটাই স্বাভাবিক ব্যাপার। তবে আলোচনা-সমালোচনা কিংবা গবেষণার নামে এমন কিছু করা বা বলা অবশ্যই আমাদের জন্য ঠিক হবে না, যেটি আমাদের স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের যে গৌরব ইতিহাস, তাকে কোনোভাবে খাটো করতে পারে। তিনি বলেন, যে কথাটি আমি আপনাদের সামনে বলেছিলাম, সেটি হল, অতীত নিয়ে সবসময় পড়ে থাকলে এক চোখ অন্ধ। আর অতীতকে যদি আমরা ভুলে যাই তাহলে আমাদের দুইচোখ অন্ধ। সুতরাং আমরা যেমন অতীতকে একদম ভুলে যাবো না, ভুলে যাওয়া চলবে না। ঠিক একইভাবে অতীতেও আমরা দেখেছি, খুব বেশিদিন না, নিকট অতীতেও আমরা দেখেছি যে অতীত নিয়ে এত বেশি চর্চা হয়েছে, যেটা আমাদের সামনে যে সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ আছে, সেই ভবিষ্যৎকে বাধাগ্রস্ত করেছে।

মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম অনিবার্য চরিত্র জিয়াউর রহমান: স্বাধীনতার ঘোষণা এবং এর প্রেক্ষাপট নিয়ে অন্য বক্তাদের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেকেরই হয়তো অনেক কিছু জানা ছিল না। কিন্তু আলোচকবৃন্দের বক্তব্যে এরকম অনেকগুলো বিষয় উঠে এসেছে। আলোচনায় সভায় ভিড় করা তরুণ প্রজন্মের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম অনিবার্য চরিত্র শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। আমরা দেখেছি অতীতে যেভাবে শহীদ জিয়াউর রহমানকে, তার অবদানকে, তার কাজকে খাটো করার চেষ্টা করা হয়েছে, এর থেকেই প্রমাণিত হয়েছে তিনি অবশ্যই বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের একজন অনিবার্য চরিত্র। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হঠাৎ করেই কিন্তু স্বাধীনতার ঘোষণাটি দেননি।
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, শহীদ জিয়া প্রথম জীবনে অবশ্যই একজন রাজনৈতিক কর্মী ছিলেন না। তিনি একজন সামরিক সৈনিক ছিলেন। তবে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার যে স্বপ্ন, সেটি যে তার মনের মধ্যে, সেই বোধ শক্তির পথ থেকে লালন করতেন, এটি কিন্তু তার একটি লেখায় ফুটে উঠেছে। স্বাধীনতার চিন্তা চেতনা যে তিনি ধারণ করতেন, একটি স্বাধীন বাংলাদেশের জন্য যে তার একটা দীর্ঘ মানসিক প্রস্তুতি ছিল সেটি আমরা তার একটি লেখা থেকেই পরিষ্কারভাবে বুঝতে পারি। কথাগুলো আমার নয়, কথাগুলো কারো মনগড়াও নয়। এই কথাগুলো আমরা তার নিজের লেখনী থেকে, আমরা জানতে পারছি।

একটি জাতির জন্ম: প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে শহীদ জিয়ার নিজের লেখা একটি প্রবন্ধ আছে, যার শিরোনাম ‘একটি জাতির জন্ম’। প্রবন্ধটি যথেষ্ট বড়। আমি খুব সংক্ষেপে সেই প্রবন্ধের দুই একটি লাইন আপনাদের সামনে বলব। যেখান থেকে পরিষ্কার হয়ে যাবে পুরো বিষয়টি। এই প্রবন্ধের মাধ্যমেই আমরা জানতে পারি যে স্বাধীন বাংলাদেশ, সার্বভৌম একটি বাংলাদেশের স্বপ্ন, বহু দিন যাবত শহীদ জিয়ার মনে, শহীদ জিয়া লালন করছিলেন। তিনি বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের লেখা নিবন্ধটি দৈনিক বাংলা পত্রিকায় প্রথম ১৯৭২ সালের ২৬ মার্চ প্রকাশিত হয়েছিল। এই প্রবন্ধটি বাংলাদেশের প্রথম স্বাধীনতা দিবসের প্রকাশিত ক্রোড়পত্রে ছাপা হয়েছিল। এই প্রবন্ধটি বা নিবন্ধটির শেষ প্যারায় শহীদ জিয়াউর রহমান লিখেছিলেন, তখন রাত ২টা বেজে ১৫ মিনিট, ২৬ মার্চ ১৯৭১ সাল। রক্তের আখরে বাঙালির হৃদয়ে লেখা একটি দিন। বাংলাদেশের জনগণ চিরদিন স্মরণ রাখবে, এ দিনটিকে ভালোবাসবে। এই দিনটি তারা কোনদিন ভুলবে না, কোন দিন নাৃএভাবেই উনি লিখেছিলেন।
১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ রাত ২টা বেজে ১৫ মিনিটে কী হয়েছিল, আমি মনে করি স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে যারা গবেষণা করেন এই তথ্যটি অবশ্যই তাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হতে পারে।
তিনি বলেন, শহীদ জিয়ার লেখা এই প্রবন্ধটি যখন প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল, তখন কিন্তু মাত্র মুক্তিযুদ্ধ শেষ হয়েছে। যারা মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন, যারা মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত ছিলেন, তারা কিন্তু প্রত্যেকেই তখন বেঁচে ছিলেন। এই প্রবন্ধটি প্রকাশিত হওয়ার পরে কারো পক্ষ থেকেই আমরা কোনোরকম এমন কিছু আপত্তি বা এমন কিছু কথা পাইনি যা এই প্রবন্ধ বা লেখাটিকে কন্ট্রাডিক্ট করে।

জিয়াউর রহমানের এ প্রবন্ধটি যে শুধু বাহাত্তর সালের ২৬ মার্চই প্রকাশিত ছিল তা নয়, এ কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরবর্তীতে আমরা দেখেছি, শহীদ জিয়াকে খাটো করার জন্য বহু অপচেষ্টা হয়েছে। এখন আপনাদেরকে যে তথ্যটি আমি দিব ৃতার মাধ্যমে একদম সঠিক যুক্তিতর্কের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়ে যাবে যে, শহীদ জিয়াকে খাটো করার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু আগেই আমি বলেছি যা সত্য, তা সত্যই। শহীদ জিয়া যে মুক্তিযুদ্ধের একজন অনবদ্য চরিত্র, এটিকে লুকানোর কোনোই উপায় নেই।

তারেক রহমান বলেন, শহীদ জিয়ার নিবন্ধনটি ১৯৭৪ সালে আবারো প্রকাশিত হয়েছিল সাপ্তাহিক বিচিত্রায়। তার লেখা ‘একটি জাতির জন্ম’ প্রবন্ধটি আমাদের মুক্তিযুদ্ধের একটি অনন্য দলিল। ৭৪ সালেও আবার যখন প্রকাশিত হয়েছিল, কারোরই কোনো আপত্তি ছিল না এবং শহীদ জিয়া তার লেখায় যা যা বলেছিলেন অবিকল ছিল। সেই সময় সরকারে কারা ছিল, রাজনৈতিকভাবে কারা কোথায় অবস্থান করছিল, আমাদের কমবেশি প্রত্যেকেরই ধারণা আছে। কিন্তু সেই সময় তৎকালীন সরকার অথবা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব কেউ শহীদ জিয়ার কোনো লেখার, প্রবন্ধটির কোনো বক্তব্যকে কেউ কোনোভাবেই খণ্ড করেননি, চেষ্টাও তারা করেননি। কারণ সেই সময় যারা ছিলেন তারা জানতেন শহীদ জিয়ার প্রতিটি বাক্য, প্রতিটি শব্দ প্রবন্ধে উল্লেখিত, সত্য সেগুলো।

স্বাধীনতার গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে আমরা ১৯৭১ সালে আমাদের স্বাধীনতা অর্জন করেছি, হাজারো প্রাণের বিনিময়ে আমরা ২০২৪ সালে দেশ এবং স্বাধীনতা রক্ষা করেছি। ২০২৪ সালের যারা বিভিন্ন প্রতিকূল পরিস্থিতির ভিতরে থেকেও, বিভিন্ন অত্যাচার নির্যাতন সহ্য করেও, আপনারা কীভাবে প্রতিরোধ গড়েছিলেন, কীভাবে আপনারা স্বৈরাচারকে দেশ থেকে বিতাড়িত করেছিলেন।

বহু সহকর্মীকে হারানো কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রতিটি প্রাণের স্বপ্ন আছে, আকাঙ্ক্ষা আছেৃস্বপ্ন ছিল, আকাঙ্ক্ষাও ছিল। সেই আকাঙ্ক্ষা পূরণেই তারা সাহসের সঙ্গে সেদিন লড়াই করেছিল ৭১, ৯০, ২৪ এ। ১৯৭১ থেকে আজ পর্যন্ত সকল প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামের সকল শহীদদের আকাঙ্ক্ষা ছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা এবং সামাজিক ন্যায়বিচারভিত্তিক তাবেদারমুক্ত একটি স্বাধীন সার্বভৌম নিরাপদ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা।
সানা/আপ্র/২৭/৩/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

গ্লোবাল সামিটে শিশুস্বাস্থ্য নিয়ে প্রতিশ্রুতি ডা. জুবাইদা রহমানের
২৭ মার্চ ২০২৬

গ্লোবাল সামিটে শিশুস্বাস্থ্য নিয়ে প্রতিশ্রুতি ডা. জুবাইদা রহমানের

একজন চিকিৎসক হিসেবে প্রতিটি শিশুর জন্য সহজলভ্য ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত...

সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে তেল মজুত ও বাইরে বিক্রি করা হচ্ছে: অর্থমন্ত্রী
২৭ মার্চ ২০২৬

সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে তেল মজুত ও বাইরে বিক্রি করা হচ্ছে: অর্থমন্ত্রী

দেশে জ্বালানি তেলের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সৃষ্ট অস্থিরতার পেছনে কালোবাজারি ও মজুতদারদের হাত রয়েছে ব...

ফের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ইতিবাচক চিত্র
২৭ মার্চ ২০২৬

ফের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ইতিবাচক চিত্র

দিল্লিতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস অনুষ্ঠানে ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীসহ বিশিষ্টজনেরা

বাংলাদেশের প্রতি অবিচল সমর্থন-সংহতি পুনর্ব্যক্ত জাতিসংঘ মহাসচিবের
২৭ মার্চ ২০২৬

বাংলাদেশের প্রতি অবিচল সমর্থন-সংহতি পুনর্ব্যক্ত জাতিসংঘ মহাসচিবের

বাংলাদেশের প্রতি জাতিসংঘের অবিচল সমর্থন ও সংহতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন সংস্থার মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

কোনো সক্রিয় জরিপ নেই