গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মেনু

ছয় মাসে ১২০০ কিলোমিটার খাল খনন করবে সরকার

জেলা প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম

জেলা প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম

প্রকাশিত: ২১:২৮ পিএম, ১৬ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ০৩:০১ এএম ২০২৬
ছয় মাসে ১২০০ কিলোমিটার খাল খনন করবে সরকার
ছবি

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী -ছবি সংগৃহীত

অর্থনৈতিক ‘খারাপ সময়ের’ মধ্যেও সরকার সব কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
গতকাল সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুরে চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলার বানাতলী জলদাসপাড়া এলাকার বামনসুন্দর খাল খনন কর্মসূচি উদ্বোধন করতে এসে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “একটা খারাপ সময়ের মধ্যে দিয়ে আমরা যাচ্ছি। অর্থনৈতিকভাবে দেশ খুব খারাপ অবস্থায় আছে, আপনারা জানেন। এরমধ্যে আবার যুদ্ধ লেগেছে। এরমধ্যে এনার্জি ক্রাইসিস হয়েছে।

এর মধ্যেও কিন্তু আমরা আমাদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। কিছু থেমে নেই কিন্তু। আমরা চালিয়ে যাচ্ছি, চালিয়ে যাব। এবং আশা করি বাংলাদেশের মানুষের যে প্রত্যাশা, আস্থা ও বিশ্বাস নিয়ে আমাদেরকে নির্বাচিত করেছে আমরা সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারব।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নির্বাচনি ইশতেহারে খাল খনন একটি বিশাল কর্মসূচির প্রস্তাব আছে। আমরা নির্বাচনি ইশতেহারে যতগুলো জনগণের কাছে ওয়াদা করেছি, একটার পর একটা বাস্তবায়ন কাজ চলছে। এর মধ্যে খাল খনন কর্মসূচিতে সমগ্র বাংলাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করা হবে। এবং আগামী ছয় মাসের মধ্যে এক হাজার দুইশ কিলোমিটার আমাদেরকে সম্পন্ন করতে হবে। এখানে তিন কিলোমিটার আজকে আমরা শুরু করেছি। বাকিটা ক্রমান্বয়ে শেষ করতে পারব।
বামনসুন্দর খালের কাজ পুরোপুরি শেষ হলে ১৫ হাজার হেক্টর জমি চাষাবাদের আওতায় নতুনভাবে আসবে এবং সেই জমিতে আরো ৫ হাজার মেট্রিক টন অতিরিক্ত খাদ্য উৎপাদিত হবে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।
আমির খসরু বলেন, বুঝতেই পারছেন, এই অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার কতটুকু উন্নয়ন হবে। খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতায় যে গ্যাপটা আছে সেটা আমরা পূরণ করতে যাচ্ছি ইনশাল্লাহ। তদুপরি পানি নিষ্কাশনের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা থেকে আমার মুক্তি পাব এবং এখানে সেচের কাজ হবে। সাথে সাথে মাছের চাষও হবে এইখানে। পাশাপাশি খালের দুই পাড়ে যে বৃক্ষ রোপণ করব সেটাও আমার অর্থনীতিতে যথেষ্ট অবদান রাখবে। গাছ লাগানো কার্বন ট্রেডিং এর মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বড় ধরণের অবদান রাখবে।
পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের খাল কাটা কর্মসূচির আলোকে নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে দেশব্যাপী ২০ হাজার কিলোমিটার খাল, নদী, নাল, জলাধার খনন করা হবে। জিয়াউর রহমানের সময় এ কর্মসূচির প্রথম পর্যায়ে ৬৭৫.১৮ মাইল দীর্ঘ ১৯৩টি খাল খনন ও পুনঃখনন করা হয়।
২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের কাজ শেষ হলে সমগ্র বাংলাদেশে চিত্র বদলে যাবে মন্তব্য করে অর্থমন্ত্রী বলেন, খাদ্যের ঘাটতি কমে আসবে। জলবায়ুর উপর একটা বড় ধরণের পরিবর্তন আসবে। সেচ ব্যবস্থার পরিবর্তণ আসবে। এই কাজটা জিয়াউর রহমান সাহেব শুরু করেছিলেন। পরিবর্তীতে এটা আমরা শেষ করতে পারিনি। সেই ভাবনায় এই প্রকল্পটা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী হাতে নিয়েছেন। এই খালগুলোর মালিকানা সরকারের। ইতোমধ্যে ডিমারকেশন হয়ে যাচ্ছে। ওই সীমানার ভেতরে যতই প্রভাবশালী ব্যক্তি থাকার চেষ্টা করবে কোনো সুযোগ থাকবে না। যতটুকু সীমানা নির্ধারণ হবে অতটুকু খাল আমরা খনন করব। কেউ দখল করার কোনো সুযোগ থাকবে না।
খাল খনন প্রকল্পের অর্থায়নের বিষয়ে জানতে চাইলে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, অর্থের সব হিসাব করেই তো আমরা এই কাজটা করতে নেমেছি। সবগুলো বাজেটেড। কস্টেড অ্যান্ড বাজেটেড। এই জন্য আমরা ক্রমান্বয়ে পুরো প্রকল্পগুলো সময়ের উপর আমরা শেষ করতে চাচ্ছি। যখন শেষ হতে থাকবে আপনারা দেখবেন এর প্রভাব অর্থনীতিতে, মানুষের জীবন যাত্রার মানে ও পরিবেশের উপরে। পরিবর্তিত রূপান্তরিত বাংলাদেশে যে সরকার এগুলো হচ্ছে তার অংশ। বাংলাদেশের অর্থনীতির সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়ার যে চেষ্টা সেগুলো হচ্ছে এটা। দুর্নীতি, ওয়েস্টেজ এবং ডেলিভারির মধ্যে যে লিকেজ থাকে সেগুলোকে অ্যাড্রেস করা হয়েছে। প্রত্যেক কিছুকে অ্যাড্রেস করে কিভাবে সব প্রকল্প স্বচ্ছতার সাথে সম্পাদন করতে পারি এটাই এই সরকারের সবচেয়ে বড় চিন্তা। এবং দুর্নীতিকে বাইরে রেখে সম্পূর্ণভাবে।
খাল খনন কর্মসূচি উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, খাল খনন আমাদের কমিটমেন্ট ছিল। আপনারা জানেন, এখানে কাজ শুরু হয়েছে। হাটহাজারীতেও ভঞ্জন খাল এবং মিঠাছড়া খাল খনন করা হবে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান চট্টগ্রামে যে খাল খনন উদ্বোধন করেছিলেন সেটাই মিঠাছড়া খাল। ওটা অলরেডি সাড়ে পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে তিন কিলোমিটার কাজ হয়ে গেছে। বাকিটাও চলমান আছে। এরকম করে যতগুলো খাল আছে এবং ছোট ছোট ছড়া আছে, এগুলো সব আমাদের ২০ হাজার কিলোমিটারের মধ্যে অর্ন্তভুক্ত।
সানা/আপ্র/১৬/৩/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিকল্প উৎস খুঁজছে সরকার: শামা ওবায়েদ
০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিকল্প উৎস খুঁজছে সরকার: শামা ওবায়েদ

দেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার বিকল্প উৎস খুঁজছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবা...

ভিডিও কলে স্বজনদের সঙ্গে কথা বলবেন কারাবন্দিরা
০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভিডিও কলে স্বজনদের সঙ্গে কথা বলবেন কারাবন্দিরা

কারাগারে বন্দিজীবনে স্বজনদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ বাড়াতে চালু হচ্ছে ভিডিও কল সুবিধা। ইতোমধ্য...

আইনের সীমাবদ্ধতায় অপরাধীরা বারবার ফিরছে: আইজিপি
০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আইনের সীমাবদ্ধতায় অপরাধীরা বারবার ফিরছে: আইজিপি

মাদক ও ছিনতাইবিরোধী অভিযানে অনেক অপরাধীকে একাধিকবার আইনের আওতায় আনা হলেও আইনের বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার ক...

আধুনিকায়ন হচ্ছে ইস্টার্ন রিফাইনারি, বছরে তেল শোধন হবে ৪৫ লাখ টন
০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আধুনিকায়ন হচ্ছে ইস্টার্ন রিফাইনারি, বছরে তেল শোধন হবে ৪৫ লাখ টন

দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার এবং পরিশোধিত তেলে আমদানি নির্ভরতা কমাতে ইস্টার্ন রিফাইনারির আধুনিকায়...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

র‌্যাব বিলুপ্ত করে এসআরবি গঠনের বিল সংসদে

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন বিলুপ্ত করে পুলিশের আওতাধীন ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ নামে নতুন একটি বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের বিধান রেখে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন আইন, ২০২৬’-এর বিল জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের চতুর্থ দিনে বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এ সময় সংসদের বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। প্রিয় পাঠক, আপনি মনে করেন র‌্যাব বিলুপ্তির এই উদ্যোগ সঠিক?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 1 দিন আগে