গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মেনু

ভোটের মাঠে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন ৫০ শতাংশ সংখ্যালঘু: সিজিএস জরিপ

নিজেস্ব প্রতিবেদক

নিজেস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৪:০৪ পিএম, ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | আপডেট: ২২:৩১ এএম ২০২৬
ভোটের মাঠে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন ৫০ শতাংশ সংখ্যালঘু: সিজিএস জরিপ
ছবি

ছবি সংগৃহীত

আসছে ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচনকেন্দ্রিক পরিবেশে নিরাপত্তা নিয়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষদের মধ্যে ২৩ দশমিক ৪ শতাংশ সংখ্যালঘু ভোটার নিজেদের সম্পূর্ণ নিরাপদ মনে করছেন। বিপরীতে ৫০ দশমিক ৭ শতাংশ নিজেদের উদ্বিগ্ন বলে জানিয়েছেন এবং ২৫ দশমিক ৮ শতাংশ ভোটগ্রহণে অংশগ্রহণকে অনিরাপদ বা অত্যন্ত অনিরাপদ মনে করছেন।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘অঙ্গীকার থেকে অনুশীলন: রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তি এবং গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতা বাংলাদেশের নির্বাচন ২০২৬’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস)। ওই প্রতিবেদনে এসব তথ্য উপস্থাপন করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অর্থনীতিবিদ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, ড. সেলিম জাহান এবং সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার। এছাড়াও অনুষ্ঠানে রাজনীতিক, শিক্ষক, অর্থনীতিবিদ, নাগরিক সমাজ, গণমাধ্যম প্রতিনিধি এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে ফলাফল উপস্থাপন করেন সিজিএসের জিল্লুর রহমান।

সিজিএস জানায়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ৫০৫ জন সংখ্যালঘু অংশগ্রহণকারীর ওপর পরিচালিত জরিপের মাধ্যমে ভোটদানের আচরণ, রাজনৈতিক সচেতনতা, নিরাপত্তাবোধ ও প্রতিনিধিত্ব সম্পর্কে পরিসংখ্যানগত তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

৫৭ দশমিক ২ শতাংশ জানিয়েছেন ভোটে অনিয়ম হলে তারা ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের জানাবেন। ৪৭ দশমিক ৪ শতাংশ স্থানীয় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করবেন এবং ৪২ দশমিক ৬ শতাংশ নিরাপত্তা বাহিনীকে অবহিত করবেন। ২০ দশমিক ৩ শতাংশ বলেছেন, তারা কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে নীরব থাকবেন। মাত্র ১৩ দশমিক ৭ শতাংশ প্রতিবাদে অংশ নেওয়ার কথা বলেছেন, ১২ দশমিক ৫ শতাংশ গণমাধ্যমকে জানাবেন এবং ১১ দশমিক ২ শতাংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি তুলে ধরবেন বলে জানিয়েছেন।

জরিপের ফলাফলে আরো বলা হয়, রাজনৈতিক হয়রানি বা হুমকির ঘটনায় অভিযোগ জানানোর প্রবণতাও অত্যন্ত কম। জরিপে ৭০ দশমিক ৭ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, তারা কখনো এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হননি যাতে অভিযোগ জানানো প্রয়োজন হয়েছে। তবে যারা হুমকি বা সহিংসতার শিকার হয়েছেন, তাদের মধ্যে ২২ শতাংশ ইচ্ছাকৃতভাবে বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন এবং কোনো অভিযোগ করেননি।

অভিযোগ জানানো হলেও তা মূলত সামাজিক পরিসরেই সীমাবদ্ধ থাকে। মাত্র ১ দশমিক ৯ শতাংশ নির্বাচন কমিশনে এবং ১ দশমিক ৫ শতাংশ থানায় অভিযোগ করেছেন।

জরিপ অনুযায়ী, অভিযোগের পর আরো বিপদের আশঙ্কাই সবচেয়ে বড় বাধা। ৪৮ দশমিক ৭ শতাংশ মনে করেন, অভিযোগ করলে ভবিষ্যতে আরো ক্ষতির শিকার হতে পারেন। পাশাপাশি ২৮ দশমিক ৬ শতাংশ আইনি ব্যবস্থার ওপর আস্থা না থাকার কথা জানিয়েছেন।

রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ঘটার পর কেন মানুষ অভিযোগ জানায় না এই প্রশ্নে একাধিক কারণ উঠে এসেছে। সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে ৪৮ দশমিক ৭ শতাংশ নিরাপত্তাহীনতার কথা বলেছেন। এছাড়া ৩২ দশমিক ৮ শতাংশ পরিচয় প্রকাশ হয়ে সামাজিক অপমান বা কলঙ্কের আশঙ্কা করেন।

২৯ দশমিক ৭ শতাংশ জানিয়েছেন, পরিবার, সমাজ বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা পান না। ২৮ দশমিক ৬ শতাংশ আইনি ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে সন্দিহান। ২০ দশমিক ২ শতাংশ মনে করেন, প্রতিপক্ষের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব এতটাই শক্তিশালী যে অভিযোগ করেও কোনো লাভ হবে না।

যারা নির্বাচনি অনিয়ম প্রত্যক্ষ করেও কোনো পদক্ষেপ নেননি এমন প্রশ্নের জবাবে, তাদের মধ্যে ৫৫ দশমিক ৮ শতাংশ জানিয়েছেন, নিজেদের বা পরিবারের সদস্যদের ওপর শারীরিক কিংবা মানসিক ক্ষতির আশঙ্কাই নীরব থাকার প্রধান কারণ। একই সঙ্গে ৪৩ দশমিক ৩ শতাংশ উত্তরদাতা পুলিশি হয়রানি বা আইনি জটিলতার ভয় প্রকাশ করেছেন। সমানসংখ্যক উত্তরদাতা জানিয়েছেন, ‘ব্যক্তিগত শান্তি বজায় রাখতে’ তারা কোনো ঝামেলায় জড়াতে চান না।

জরিপে আরো দেখা যায়, ১৫ দশমিক ৪ শতাংশ মনে করেন অভিযোগ করলেও কোনো বিচার বা প্রতিকার পাওয়া যাবে না। অন্যদিকে, ৯ দশমিক ৬ শতাংশ সরাসরি নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েই সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। এসব তথ্য নির্বাচনি ব্যবস্থার প্রতি সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর গভীর অনাস্থার ইঙ্গিত দেয়।

এসি/আপ্র/০৮/০২/২০২৬

সংশ্লিষ্ট খবর

আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের এক ইউনিট বন্ধ, বাড়ছে লোডশেডিং
১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের এক ইউনিট বন্ধ, বাড়ছে লোডশেডিং

ভারতের ঝাড়খন্ডে নির্মিত আদানির কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদনে গত এক মাস ধরে কয়লা সংকটের কারণে...

খালে ভাসছিল লাশ, ৩৬ ঘণ্টায় হত্যার রহস্য উন্মোচন
১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

খালে ভাসছিল লাশ, ৩৬ ঘণ্টায় হত্যার রহস্য উন্মোচন

রাজধানীর খিলগাঁওয়ের ত্রিমোহনীতে জিরানী খালের পানিতে ভাসমান অবস্থায় অজ্ঞাত এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধারের প...

লালবাগে বন্ধুর বাসার পেছনে মাটিচাপা ব্যবসায়ীর লাশ
১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

লালবাগে বন্ধুর বাসার পেছনে মাটিচাপা ব্যবসায়ীর লাশ

নিখোঁজের তিন দিন পর ঢাকার লালবাগে বন্ধুর বাসার পেছন থেকে শেখ ওয়াসিম রনি নামে এক ব্যবসায়ীর মাটিচাপা...

ভারতের সঙ্গে ১০১ চুক্তি-সমঝোতা পর্যালোচনা করছে সরকার
১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভারতের সঙ্গে ১০১ চুক্তি-সমঝোতা পর্যালোচনা করছে সরকার

জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেছেন, ভারতের সঙ্গে হওয়া ১০১টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক পর্যালো...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে হবে ড. ইউনূসকে

বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মালিকানাধীন গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে হবে বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়ার নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। এই কর পরিশোধের জন্য ড. মুহাম্মদ ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণকে ৩ অর্থবছর সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন এই রায় সঠিক?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 18 ঘন্টা আগে