আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক দল নয়, ‘মাফিয়া গ্যাং’ হিসেবে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। একই সঙ্গে ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর দাবি পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেছেন, ভারতে বসে বিভিন্ন গণমাধ্যমে শেখ হাসিনার বক্তব্য ও সাক্ষাৎকার দেওয়ার সুযোগ পাওয়া দুই দেশের সম্পর্কের জন্য ‘বিরক্তিকর’।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ের তথ্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলার প্রসঙ্গ টেনে আওয়ামী লীগ সম্পর্কে জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক দল কি না, এই আলোচনা আমরা অনেকে করেছি। আমি আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক দল মনে করি না। আমরা যে মাফিয়া গ্যাং বলছি, এই ঘটনা তার আরেকটি প্রমাণ।’
তিনি বলেন, অতীতে সহিংসতায় জড়িত কোনো রাজনৈতিক দল আবার রাজনীতিতে ফিরতে চাইলে অন্তত অনুশোচনা প্রকাশ এবং সহিংসতা থেকে সরে আসার প্রবণতা থাকা উচিত। কিন্তু আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনা আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক দল হিসেবে বিবেচনা করার প্রশ্নটি আবার সামনে এনেছে।
বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনায় সরকার আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে জানিয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে আমি নিশ্চিত করছি, এই ব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আমরা অবশ্যই এটা ছেড়ে দেব না।’
তিনি আরও বলেন, কোনো ব্যক্তি বা পক্ষের ওপর এ ধরনের হামলা হলে সরকার একইভাবে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।
শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড নিয়েও প্রশ্ন তোলেন জাহেদ উর রহমান। তাঁর মতে, সহিংস কর্মকাণ্ড অব্যাহত রেখে রাজনৈতিক অধিকারের দাবি তোলা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
আজমেরী হক বাঁধনের উদ্দেশে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, এ ধরনের হামলার শিকার হওয়াকে তাঁর অবস্থানের একটি ‘সম্মানপ্রাপ্তি’ হিসেবেও দেখা যেতে পারে। তাঁর ভাষায়, ‘এই ঘটনা এটাই প্রমাণ করে তিনি সঠিক পথে আছেন।’
এদিকে ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরে জাহেদ উর রহমান বলেন, শেখ হাসিনা বাংলাদেশের আদালতে দণ্ডিত। তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট। তাঁর ভাষায়, ‘তিনি নিজে আসুন অথবা আমরা তাঁকে ফিরিয়ে আনি, আমরা সেটা করতে চাই। এর মধ্যে কোনো কৌশল নেই।’
ভারতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠিত গণমাধ্যমে শেখ হাসিনার সাক্ষাৎকার ও বক্তব্য প্রচারের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, বাংলাদেশ তাঁকে প্রত্যর্পণের জন্য অনুরোধ জানিয়েছে। এমন অবস্থায় অন্তত তাঁকে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ সীমিত করার পদক্ষেপ ভারত নিতে পারত।
শেখ হাসিনা ভারতে কোন আইনি বা প্রশাসনিক মর্যাদায় অবস্থান করছেন এবং সেই অবস্থায় কী ধরনের অধিকার ভোগ করছেন, সে বিষয়েও স্পষ্টতা নেই বলে মন্তব্য করেন তথ্য উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে ভারত ইতিবাচক বার্তা দিতে চাইলে শেখ হাসিনার প্রকাশ্য রাজনৈতিক তৎপরতা নিয়ন্ত্রণ করা একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে।’
এ বিষয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনারকে সাংবাদিকদের প্রশ্ন করার আহ্বান জানান তিনি।
দুই দেশের সম্পর্কের আস্থার পরিবেশ তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে জাহেদ উর রহমান বলেন, একদিকে ইতিবাচক বার্তা দিতে হবে, অন্যদিকে বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়গুলোতে পরস্পরবিরোধী পদক্ষেপ এড়িয়ে চলতে হবে।
সবশেষে হামলার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা হামলার শিকার হতে পারি, কিন্তু তাতে কিছু যায় আসে না। তবে সরকার আইনগতভাবে এসব ঘটনা ছেড়ে দেবে না।’
সানা/ডিসি/আপ্র/৮/৯/২০২৬