রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রোববার (২৩ আগস্ট) বঙ্গভবনে উঠবেন। সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে রাজধানীর মিন্টো রোডের সরকারি বাসভবন থেকে বঙ্গভবনের উদ্দেশে রওনা হবেন তিনি।
রাষ্ট্রপতির কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বঙ্গভবনের ২ নম্বর গেটে পৌঁছানোর পর রাষ্ট্রপতিকে পুলিশের একটি সুসজ্জিত দল ‘গার্ড অব অনার’ মঞ্চে নিয়ে যাবে। সেখানে রাষ্ট্রপ্রধানকে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের একটি চৌকশ দল গার্ড অব অনার দেবে। এ পর্ব শেষে রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনে তার কার্যালয়ে যাবেন।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের দরবার হলে বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাকে শপথবাক্য পাঠ করান জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল। শপথের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতি হিসেবে তার দায়িত্ব গ্রহণ আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পন্ন হয়।
দীর্ঘদিন বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্বে থাকা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর দলীয় পদ থেকে সরে দাঁড়ান। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ২৫৫ ভোট পেয়ে তিনি নির্বাচিত হন।
শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে শপথ নেওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন মির্জা ফখরুল। শপথ অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা: রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল ১০টা ২৭ মিনিটে তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদিতে এ পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর তিন বাহিনীর পক্ষ থেকে নতুন রাষ্ট্রপতিকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।
রাষ্ট্রপতি স্মৃতিসৌধের পরিদর্শন-বইয়ে স্বাক্ষর করেন। সেখানে তিনি লেখেন, জাতীয় স্মৃতিসৌধে উপস্থিত হয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধে জীবন উৎসর্গকারী সব বীর শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি। তাদের সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ, অসীম সাহস ও অকৃত্রিম দেশপ্রেমের বিনিময়ে আমরা অর্জন করেছি আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি- স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ।
তিনি লেখেন, এই পবিত্র জাতীয় স্মৃতিসৌধ- আমাদের জাতীয় গৌরব, আত্মত্যাগ, ঐক্য ও দেশপ্রেমের চিরন্তন স্মারক, যা চিরকাল দেশপ্রেম ও দেশ গঠনে অনুপ্রেরণা জোগাবে। আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, বীরউত্তম এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে স্মরণ করছি। তাদের দেশপ্রেম, নেতৃত্ব ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম আমাদের জাতীয় ইতিহাসে চিরভাস্বর হয়ে থাকবে।
তিনি আরো লেখেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, সংবিধানের আদর্শ এবং বীর শহীদদের আত্মত্যাগের মর্যাদা সমুন্নত রেখে একটি শান্তিপূর্ণ, ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক, কল্যাণমুখী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করব-এই হোক আমাদের অঙ্গীকার।
সবশেষে তিনি লেখেন, মহান আল্লাহতায়ালা বীর শহীদদের রুহের মাগফিরাত দান করুন এবং প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশের ওপর অব্যাহত শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ বর্ষণ করুন। আমিন। বাংলাদেশ জিন্দাবাদ। এরপর রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর একটি উদয় পদ্মবৃক্ষের চারা রোপণ শেষে স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন।
এসি/আপ্র/২৩/০৮/২০২৬