বিকেলের নাশতায় অনেকেই চা বা কফির সঙ্গে একটু মুখরোচক খাবার খুঁজে থাকেন। তবে নিয়মিত তেলে ভাজা খাবার খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য খুব একটা ভালো নয়। তাই কম তেল বা একেবারেই তেল ছাড়া তৈরি করা যায় এমন স্বাস্থ্যকর নাশতা হতে পারে সুস্বাদু সুজি-সবজি প্যানকেক। তাই নিচে দেওয়া হলো এর রেসিপি-
উপকরণ: সুজি এক কাপ, টক দই আধা কাপ, পেঁয়াজ কুচি ২ টেবিল চামচ, গাজর কুচি ২ টেবিল চামচ, ক্যাপসিকাম কুচি ২ টেবিল চামচ, কাঁচামরিচ কুচি একটি, ধনেপাতা কুচি ২ টেবিল চামচ, গোলমরিচের গুঁড়া আধা চা-চামচ, বেকিং সোডা এক চিমটি (ঐচ্ছিক), লবণ স্বাদ অনুযায়ী ও পানি প্রয়োজনমতো।
প্রণালি: প্রথমে একটি বড় বাটিতে সুজি ও টক দই নিন। এর সঙ্গে পরিমাণমতো পানি দিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। মিশ্রণটি খুব বেশি পাতলা বা ঘন না রেখে প্যানকেক তৈরির উপযোগী ব্যাটার তৈরি করুন। এরপর ঢেকে ১০ থেকে ১৫ মিনিট রেখে দিন। এতে সুজি পানি শুষে নিয়ে কিছতা নরম ও ফুলে উঠবে। এবার ব্যাটারের মধ্যে পেঁয়াজ, গাজর, ক্যাপসিকাম, কাঁচামরিচ ও ধনেপাতা কুচি দিয়ে দিন। সঙ্গে লবণ ও গোলমরিচের গুঁড়া মিশিয়ে সব উপকরণ ভালোভাবে একসঙ্গে মাখিয়ে নিন। প্যানকেককে আরও নরম ও ফ্লাফি করতে চাইলে এক চিমটি বেকিং সোডা যোগ করতে পারেন। তবে এটি না দিলেও রেসিপিতে কোনো সমস্যা হবে না। এরপর একটি নন-স্টিক প্যান মাঝারি আঁচে গরম করে নিন। তেল দেওয়ার প্রয়োজন নেই। প্যানে এক হাতা বা বড় চামচের সাহায্যে পরিমাণমতো ব্যাটার ঢেলে গোল করে ছড়িয়ে দিন। এবার ঢাকনা দিয়ে প্রায় ৩-৪ মিনিট অপেক্ষা করুন।প্যানকেকের নিচের দিকটা হালকা সোনালি হয়ে এলে সাবধানে উল্টে দিন। অন্য পাশও আরও ২-৩ মিনিট রান্না করুন। দুই পাশ ভালোভাবে সেঁকা হয়ে গেলে প্যানকেকটি তুলে নিন। একইভাবে বাকি ব্যাটার দিয়েও প্যানকেক তৈরি করে ফেলুন। গরম গরম সুজি-সবজি প্যানকেকের সঙ্গে টমেটো সস, ধনেপাতার চাটনি কিংবা পছন্দের কোনো ডিপ পরিবেশন করতে পারেন। এক কাপ গরম চায়ের সঙ্গে এই হালকা ও স্বাস্থ্যকর নাশতা বিকেলের আড্ডাকেও করে তুলতে পারে আরো উপভোগ্য।
লাউ দিয়ে তৈরি সুস্বাদু হালুয়া
লাউ বলতেই বাঙালির মনে ভেসে ওঠে লাউ-চিংড়ি, লাউঘণ্ট কিংবা লাউ ডালের মতো পরিচিত নানা পদ। তবে এ সবজিটি দিয়ে যে দারুণ স্বাদের মিষ্টিও তৈরি করা যায়, তা অনেকেরই অজানা। লাউ দিয়ে সহজেই তৈরি করা যায় সুস্বাদু হালুয়া বা পায়েস; এমনকি যারা লাউ খেতে খুব একটা পছন্দ করেন না, তারাও এই মিষ্টি পদটি বেশ তৃপ্তি নিয়ে খেতে পারেন। তাই নিচে দেওয়া হলো লাউয়ের হালুয়া দিয়ে মিষ্টিমুখের সহজ রেসিপি-
উপকরণ: লাউ ৩০০ গ্রাম, ঘি ৪ টেবিল চামচ, দুধ ২ কাপ, চিনি ৮ টেবিল চামচ, কুচোনো আমন্ড-পেস্তা-কাজু বাদাম ৩ টেবিল চামচ, এলাচের গুঁড়া এক চা-চামচ, গোলাপজল ৩ চা-চামচ ও সোনালি কিশমিশ এক টেবিল চামচ।
প্রণালি: প্রথমে লাউ ভালো করে ধুয়ে খোসা ছাড়িয়ে কুচি করে নিন। তবে কুচি করার আগে অবশ্যই লাউয়ের স্বাদ পরীক্ষা করে নেবেন। লাউ তেতো বা অস্বাভাবিক টক হলে সেটি ব্যবহার করবেন না। হালুয়া তৈরির জন্য টাটকা ও ভালো মানের লাউ বেছে নেওয়াই ভালো। এবার একটি ভারী ও অপেক্ষাকৃত বড় কড়াই চুলায় বসিয়ে মাঝারি আঁচে ঘি গরম করুন। কড়াই বড় হলে রান্নার সময় দুধ উপচে পড়ার আশঙ্কা কম থাকে। ঘি গরম হয়ে গেলে তাতে কুচোনো লাউ দিয়ে দিন। লাউকে ঘির সঙ্গে ভালোভাবে মিশিয়ে কিছুক্ষণ নেড়ে ভাজতে থাকুন। ধীরে ধীরে লাউ থেকে পানি বের হবে। সেই পানি শুকিয়ে যাওয়া পর্যন্ত লাউ নেড়ে ভাজতে হবে। এ সময় ঘিতে ভাজা লাউয়ের সুন্দর গন্ধ ছড়িয়ে পড়বে। লাউয়ের পানি শুকিয়ে এলে কড়াইয়ে দুধ ঢেলে দিন। দুধ ও লাউ ভালোভাবে মিশিয়ে মাঝারি আঁচে রান্না করতে থাকুন। এই সময় নিয়মিত নেড়ে দিতে হবে এবং চুলার কাছ থেকে সরে যাওয়া ঠিক হবে না, কারণ দুধ সহজেই উপচে পড়তে পারে। দুধ কিছুটা কমে এলে এবং লাউ বেশির ভাগ দুধ শুষে নিলে চিনি দিয়ে দিন। এরপর ভালোভাবে নেড়ে রান্না করতে থাকুন। মিশ্রণটি ধীরে ধীরে ঘন ও মাখা-মাখা হয়ে আসবে। এরপর কুচোনো বাদাম, কাজু, পেস্তা ও এলাচগুঁড়ো দিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। চাইলে এই পর্যায়ে গোলাপজলও যোগ করতে পারেন। আরও কিছুক্ষণ রান্না করার পর যখন হালুয়া ঘন হয়ে আসবে এবং কড়াইয়ের পাশ থেকে ঘি আলাদা হতে শুরু করবে, তখন চুলা বন্ধ করে দিন। পরিবেশনের আগে হালুয়ার ওপর ছড়িয়ে দিন সোনালি কিশমিশ ও সামান্য কুচোনো বাদাম। গরম বা ঠান্ডা-দুইভাবেই পরিবেশন করা যায় সুস্বাদু এই লাউয়ের হালুয়া।
টক-মিষ্টি পেয়ারার তরকারি
বছরের বেশির ভাগ সময় পেয়ারা পাওয়া গেলেও বর্ষাকালে সাধারণত বেশি পাওয়া যায়। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাস পেয়ারার প্রধান মৌসুম। এ সময় দেশের বিভিন্ন এলাকায় পেয়ারার ফলন হয়। আমাদের দেশে ফল হিসেবে পাকা পেয়ারা দিয়ে জ্যাম ও জেলি খাওয়ার প্রচলন থাকলেও তরকারি রান্না করে খাওয়ার প্রচলন নেই। কিন্তু পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে পেয়ারা দিয়ে বিভিন্ন খাবার রান্না করে খাওয়া হয়। তাই নিচে দেওয়া হলো পেয়ারা দিয়ে তৈরি ব্যতিক্রমী টক-মিষ্টি তরকারির রেসিপি-
উপকরণ: ২ কাপ ছোট টুকরা করে কাটা পেয়ারা, ২ টেবিল চামচ তেল, আধা চা-চামচ করে জিরা-শুকনা মরিচের গুঁড়া, এক চা-চামচের ৪ ভাগের এক ভাগ করে মেথি দানা-হলুদের গুঁড়া, ২ চা-চামচ ধনে গুঁড়া, এক চা-চামচ মৌরির গুঁড়া, আধা চা-চামচ লবণ, এক টেবিল চামচ পাতলা কুচি করা আদা, এক চা-চামচ লেবুর রস, ২ টেবিল চামচ বা স্বাদ অনুযায়ী চিনি, ২ টেবিল চামচ ধনেপাতা কুচি ও সম্ভব হলে আধা চা-চামচ আমচুর বা শুকনা আমের গুঁড়া।
প্রণালি: একটি সস প্যানে মাঝারি আঁচে তেল গরম করে জিরা, মেথি দানা, মৌরিগুঁড়া, ধনে, হলুদ এবং লাল মরিচের গুঁড়া দিয়ে কয়েক সেকেন্ড নাড়ুন। তারপর আদা ও পেয়ারা দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিন। সব শেষে এক কাপ পানি দিয়ে প্যানটি ঢেকে দিন। এই অবস্থায় মৃদু আঁচে পেয়ারা নরম হয়ে আসা পর্যন্ত রান্না করুন। তারপর আমচুর, লেবুর রস ও চিনি দিয়ে নাড়ুন। এরপর ধনেপাতাকুঁচি ছড়িয়ে দিন। আঁচ বন্ধ করে পাত্রটি কয়েক মিনিটের জন্য ঢেকে রাখুন। এরপর পাত্র থেকে নামিয়ে পছন্দমতো সাজিয়ে পরিবেশন করুন টক-মিষ্টি পেয়ারার তরকারি। এটি গরম-গরম পুরি বা পরোটার সঙ্গে খেতে ভালো লাগে।
জেনে নিন: পেয়ারার বীজ শক্ত হলে ফেলে দিন। এ ছাড়া পেয়ারা কতা মিষ্টি, এর ওপর ভিত্তি করে চিনির পরিমাণ কমবেশি করে নিতে পারেন।
কেএমএএ/আপ্র/১০.০৯.২০২৬