ভারতে প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকানো ও শিক্ষা সংস্কারের লক্ষ্যে গঠিত নতুন উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি নিয়েও শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক। কংগ্রেস নেত্রী ও লোকসভার সদস্য প্রিয়াঙ্কা গান্ধী অভিযোগ করেছেন, কমিটিতে এমন ব্যক্তিদের রাখা হয়েছে, যাদের শিক্ষা সংস্কারের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) লোকসভায় প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে কঠোর শাস্তির বিধানসংবলিত একটি বিল নিয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রিয়াঙ্কা বলেন, নতুন কমিটিতে একজন সাবেক গোয়েন্দা প্রধান, একটি তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রধান এবং একজন ‘গোমূত্র বিশেষজ্ঞ’ রয়েছেন। শিক্ষা সংস্কারে তাঁরা কী ভূমিকা রাখবেন-সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।
স্পিকার ওম বিড়লার উদ্দেশে প্রিয়াঙ্কা বলেন, ‘আপনার মাধ্যমে আমি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে বলতে চাই, তাঁর পরামর্শদাতাদের পরিবর্তন করা উচিত। নইলে নতুন কমিটি গঠন করেও কোনো লাভ হবে না।’
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে সরিয়ে দেওয়ার পর নরেন্দ্র মোদি সরকার শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার এবং প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করে। ওই কমিটির কয়েকজন সদস্যকে নিয়েই আপত্তি জানান প্রিয়াঙ্কা।
যদিও তিনি কারও নাম উল্লেখ করেননি, তবে ‘গোমূত্র বিশেষজ্ঞ’ বলতে তিনি আইআইটি মাদ্রাজের পরিচালক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিশেষজ্ঞ ভি কামাকোটিকে বোঝান বলে ধারণা করা হচ্ছে। অতীতে কামাকোটি গোমূত্রের ঔষধি গুণ নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, গোমূত্রে ছত্রাক ও জীবাণুনাশক উপাদান রয়েছে এবং এটি হজমশক্তি বাড়াতে ও কিছু রোগের ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে। ২০২৫ সালে চেন্নাইয়ের একটি অনুষ্ঠানে তাঁর এসব মন্তব্য নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়েছিল।
প্রিয়াঙ্কার মন্তব্যে আপত্তি জানান ক্ষমতাসীন বিজেপির সদস্যরা। বিজেপি নেতা অনুরাগ ঠাকুর বলেন, ভি কামাকোটির মতো একজন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদকে অপমান করার অধিকার কারও নেই। তাঁর সঙ্গে কোনো সংগঠনের যোগাযোগ থাকাকে সমালোচনার কারণ করা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির গঠিত শিক্ষা সংস্কার কমিটির চেয়ারম্যান করা হয়েছে প্রযুক্তিবিদ নন্দন নিলেকেনিকে। তিনি তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ইনফোসিসের সহপ্রতিষ্ঠাতা এবং ভারতের সর্বভারতীয় পরিচয়পত্র আধার ব্যবস্থার অন্যতম নির্মাতা।
কমিটির অন্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক স্কুলশিক্ষা সচিব ও শিক্ষা নীতিবিশেষজ্ঞ অনীতা করওয়াল, ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থার সাবেক চেয়ারম্যান এস সোমনাথ, সাবেক আইএএস কর্মকর্তা অমৃতলাল মীনা, ভি কামাকোটি এবং সাবেক গোয়েন্দা ব্যুরোপ্রধান তপন ডেকা।
এদিকে প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে সংসদে উত্থাপিত সংশোধনী বিলে সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ড এবং ১০ কোটি পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি এ ধরনের অভিযোগের তদন্ত দুই মাসের মধ্যে শেষ করার কথা বলা হয়েছে। এসব মামলা দ্রুত বিচার আদালতে পরিচালনার প্রস্তাবও রয়েছে।
ভারতে দ্রুত বিচার আদালত ব্যবস্থা চালু হয় ২০০০ সালে। পুরোনো ও দীর্ঘদিনের ঝুলে থাকা মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যেই এই ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল। বর্তমানে দেশটিতে এক হাজার ৬৩৬টি দ্রুত বিচার আদালত রয়েছে। চলতি বছরের জুলাইয়ে কেন্দ্রীয় আইন মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এসব আদালতে দুই লাখ ৪৫ হাজার ৫৭৯টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। ২০২৫ সালে এসব আদালতে এক লাখ ৪৩ হাজার ৯৩৬টি মামলা দায়ের হলেও নিষ্পত্তি হয়েছে ৬৬ হাজার ৫০০টি।
প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বলেন, পরীক্ষাব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনতে ২০২৪ সালে ইসরোর সাবেক চেয়ারম্যান কে রাধাকৃষ্ণনের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কিন্তু সেই কমিটির সুপারিশ এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। নতুন আরেকটি কমিটি গঠন করে সমস্যার সমাধান হবে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
সানা/ডিসি/আপ্র/২৯/৭/২০২৬