ওয়াকিল হোসেন বগা (৪২)। চট্টগ্রাম নগরীতে ‘বিহারি বগা’ নামে পরিচিত। খুলশী থানার পাহাড়তলী ওয়ার্ডের ওয়্যারলেস কলোনি এলাকায় তার বাড়ি। পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ১৯টি মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে। অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গত ৮ জুন তাকে চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়কের পদ থেকেও বহিষ্কার করা হয়।
সম্প্রতি পাহাড়তলী কলেজের অস্থায়ী শিক্ষক মিজানুর রহমানকে তুলে নিয়ে মারধরের ঘটনায় ওয়াকিলকে আসামি করে খুলশী থানায় মামলা হয়। ওই মামলা নেওয়াকে কেন্দ্র করে তিনি থানার ওসি মোহাম্মদ আবদুর রহিমকে মুঠোফোনে অকথ্য ভাষায় গালাগাল ও হুমকি দেন বলে অভিযোগ। এ ঘটনায় ওসি সাধারণ ডায়েরি করেন। পরে গত ৪ সেপ্টেম্বর ওয়াকিলকে গ্রেফতার করতে গিয়ে তার অনুসারীদের হামলার শিকার হন ওসিসহ ছয় পুলিশ সদস্য। ক্ষতিগ্রস্ত হয় পুলিশের সরকারি গাড়িও। ওই ঘটনায় ওয়াকিলকে প্রধান আসামি করে আরো একটি মামলা করা হয়।
পুলিশের অভিযানের পরও ওয়াকিলকে গ্রেফতার করা যায়নি। এর মধ্যেই গত রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) তার বাবা মোহাম্মদ জাবেদ খুলশী থানার ওসিসহ আটজনের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেছেন। মামলায় ৪ সেপ্টেম্বর ভোরে বাড়িতে বেআইনিভাবে প্রবেশ, ভাঙচুর, লুটপাট ও পরিবারের সদস্যদের মারধরের অভিযোগ করা হয়েছে। এতে প্রায় ১৭ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি পুত্রবধূ রীখা বেগমের কাছ থেকে আট লাখ টাকা ও প্রায় তিন ভরি স্বর্ণালংকার নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম মহানগর আদালতে কর্মরত খুলশী থানার জিআরো এসআই রাজীব কান্তি দে জানান, আদালত মামলাটি গ্রহণ করে সিআইডিকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। আদালতের নির্দেশের বিষয়টি প্রকাশিত প্রতিবেদনেও নিশ্চিত করা হয়েছে।
অন্যদিকে ওয়াকিল হোসেন বগা বলেন, ‘আমাদের ঘরে পুলিশ তাণ্ডব চালিয়েছে। খুলশী থানার ওসি আমার নামে বারবার বিভিন্ন মিথ্যা অভিযোগ করছেন। আমাকে কেন সন্ত্রাসী বলা হচ্ছে আমি নিজেই জানি না। আমার পরিবারের সদস্যদের হয়রানি করা হচ্ছে। আমার আব্বা আইনের আশ্রয় নিয়েছেন।’
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ওসি মোহাম্মদ আবদুর রহিম বলেন, ‘আমরা যখন তার বাসায় ঢুকি, আমাদের সবার বডি ওর্ন ক্যামেরা অন করা ছিল। পুরো অভিযানের ভিডিও রেকর্ড আছে। পরিবারের সদস্যদের অত্যন্ত ভদ্রতার সঙ্গে মা ডেকে, বাবা ডেকে ঘরে তল্লাশি করা হয়েছে। আমরাই বরং সেদিন হামলার শিকার হয়েছি।’
পুলিশের দাবি, ৪ সেপ্টেম্বর ওয়াকিলকে গ্রেফতার করতে গেলে তার অনুসারীরা রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। ওই ঘটনায় ওসিসহ ছয় পুলিশ সদস্য আহত হন এবং সরকারি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় ওয়াকিলসহ বহুজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং কয়েকজন গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এদিকে মামলা মাথায় নিয়েও এলাকায় সক্রিয় রয়েছেন ওয়াকিল। স্থানীয় রাজনীতিতে তিনি চট্টগ্রাম নগর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। কাউন্সিলর নির্বাচনের প্রস্তুতিও চালাচ্ছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তার বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর বিচারিক অবস্থান এবং অভিযোগগুলোর সত্যতা আদালতের নিষ্পত্তির বিষয়।
সানা/আপ্র/১৫/৯/২০২৬