চীন তাদের মহাকাশ স্টেশনে এক বছর থাকার জন্য একজন নভোচারীকে পাঠাচ্ছে, যা দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদি মহাকাশ অভিযান হিসেবে বিবেচিত হবে।
এই অভিযানের মাধ্যমে মহাকাশে দীর্ঘ সময় অবস্থানের ফলে মানুষের শরীরে কী ধরনের পরিবর্তন ঘটে, তা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণার সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদে মানুষ পাঠানোর লক্ষ্য বাস্তবায়নে এটি সহায়ক হবে।
চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জিউকুয়ান স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ কেন্দ্র থেকে রোববার (২৪ মে) স্থানীয় সময় রাত ১১টা ৮ মিনিটে লং মার্চ-২ এফ ওয়াই ২৩ রকেটের মাধ্যমে শেনঝৌ–২৩ মহাকাশযান উৎক্ষেপণের কথা রয়েছে।
এই মহাকাশযানে তিনজন নভোচারী থাকবেন। তাদের একজন পে–লোড বিশেষজ্ঞ লি জিয়াইং, যিনি আগে হংকং পুলিশের পরিদর্শক ছিলেন এবং হংকং থেকে চীনের মহাকাশ মিশনে অংশ নেওয়া প্রথম ব্যক্তি। অন্য দুইজন হলেন কমান্ডার ঝু ইয়াংঝু এবং পাইলট ঝ্যাং ইউয়ানঝি, যারা পিপলস লিবারেশন আর্মির নভোচারী বিভাগের সদস্য।
তিনজনের মধ্যে একজন তিয়ানগং মহাকাশ স্টেশনে পুরো এক বছর অবস্থান করবেন। চীনের মহাকাশ সংস্থা জানিয়েছে, মিশনের অগ্রগতির ওপর ভিত্তি করে পরে নির্ধারণ করা হবে কে এই দীর্ঘমেয়াদি দায়িত্ব পালন করবেন।
এটি হবে ইতিহাসের দীর্ঘতম মহাকাশ অভিযানের একটি, যদিও এটি ১৯৯৫ সালে রুশ মহাকাশচারীর প্রায় সাড়ে ১৪ মাসের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে যাবে না।
চীন ইতিমধ্যে একাধিকবার তাদের মহাকাশ স্টেশনে নভোচারী পাঠিয়েছে। তবে এবারের মিশন এমন সময়ে হচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে চাঁদে পৌঁছানোর প্রতিযোগিতা আরো তীব্র হয়েছে।
মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসা ২০২৮ সালের মধ্যে চাঁদে মানুষ পাঠানোর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে এবং দীর্ঘমেয়াদি চন্দ্রঘাঁটি গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে।
গত এপ্রিল মাসে নাসার চার নভোচারী আর্টেমিস-২ মিশনের অংশ হিসেবে চাঁদের চারপাশে ঐতিহাসিক ভ্রমণ সম্পন্ন করেন, যা অর্ধশতাব্দীর মধ্যে প্রথম মনুষ্যবাহী চন্দ্রাভিযান।
এদিকে ইলন মাস্কের স্পেসএক্স সম্প্রতি তাদের স্টারশিপ রকেটের পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন সম্পন্ন করেছে, যা ভবিষ্যতে চন্দ্র ও মহাকাশ অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
চীনের লক্ষ্য অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদে মানুষ পাঠাতে হলে আগামী কয়েক বছরে নতুন প্রযুক্তি ও সক্ষমতা অর্জন করতে হবে, যা ভবিষ্যৎ চন্দ্র অভিযানের ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে। সূত্র: রয়টার্স
সানা/ডিসি/আপ্র/২৪/৫/২০২৬