গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬

মেনু

ইমরান খান অপসারণে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে নথি ফাঁস

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২১:০৪ পিএম, ১৮ মে ২০২৬ | আপডেট: ০৪:২৫ এএম ২০২৬
ইমরান খান অপসারণে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে নথি ফাঁস
ছবি

ছবি সংগৃহীত

ফাঁস হওয়া এক গোপন কূটনৈতিক নথিকে ঘিরে পাকিস্তানের কারাবন্দী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিরুদ্ধে ‘বিদেশি ষড়যন্ত্রের’ অভিযোগ আবারো আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনায় এসেছে। দেশটিতে ‘সাইফার’ নামে পরিচিত ওই নথিতে ২০২২ সালের মার্চে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত তৎকালীন পাকিস্তানি রাষ্ট্রদূত আসাদ মাজিদ খান ও মার্কিন কূটনীতিক ডোনাল্ড লুর কথোপকথনের বিস্তারিত উল্লেখ রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অনুসন্ধানী সংবাদমাধ্যম ড্রপ সাইট প্রকাশিত মূল নথি (ক্যাবল আই-০৬৭৮) অনুযায়ী, ২০২২ সালের ৭ মার্চের ওই বৈঠকে তৎকালীন মার্কিন প্রশাসন ইমরান খানকে ক্ষমতা থেকে সরানোর বিষয়ে ইসলামাবাদকে উৎসাহিত করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার প্রতি পাকিস্তানের তৎকালীন নিরপেক্ষ অবস্থান এবং আফগানিস্তানে মার্কিন বাহিনীর জন্য ঘাঁটি ব্যবহার না দেওয়ার সিদ্ধান্ত ওয়াশিংটনের অসন্তোষের মূল কারণ ছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ ও অবস্থান: প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, মার্কিন পক্ষের দাবি ছিল-

* ইমরান খানের সরকার রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ইস্যুতে নিরপেক্ষ অবস্থান নিয়েছিল
* আফগানিস্তানে মার্কিন সামরিক কার্যক্রমের জন্য পাকিস্তানের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেয়নি
* এসব কারণে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক ক্রমশ অবনতির দিকে যায়

নথির ভাষ্য অনুযায়ী, মার্কিন কূটনীতিক ডোনাল্ড লু পাকিস্তানি রাষ্ট্রদূতকে ইঙ্গিত দেন যে অনাস্থা ভোটে ইমরান খান ক্ষমতাচ্যুত হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক পুনরায় স্বাভাবিক হতে পারে। একই সঙ্গে সতর্ক করে বলা হয়, বর্তমান অবস্থায় পাকিস্তান ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরো বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারে।


ইমরান খানের অভিযোগ ও বক্তব্য: ইমরান খান বরাবরই দাবি করে আসছেন যে, তার সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে দেশীয় রাজনৈতিক শক্তির পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রও ভূমিকা রেখেছে। তার অভিযোগ অনুযায়ী-

* তিনি স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করেছিলেন
* রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন পশ্চিমা চাপের বিপরীতে গেছে
* আফগানিস্তানে মার্কিন ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ায় ওয়াশিংটন ক্ষুব্ধ হয়
* পাকিস্তানের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোকে সঙ্গে নিয়ে তাকে সরানোর চেষ্টা করা হয়

২০২২ সালের এক ভাষণে তিনি বলেছিলেন, “যুক্তরাষ্ট্র আমাকে সরাতে চায় এবং অনাস্থা ভোটে হেরে গেলে তাদের ক্ষোভ প্রশমিত হবে বলে জানানো হয়েছে।”

যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া: তৎকালীন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এসব অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করে। তাদের বক্তব্য ছিল-

* পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো হস্তক্ষেপ নেই
* দেশটির সাংবিধানিক প্রক্রিয়া ও আইনের শাসনকে ওয়াশিংটন সম্মান করে
* অভিযোগগুলোর কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই

ক্ষমতাচ্যুতি ও পরবর্তী পরিস্থিতি: প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও আন্তর্জাতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই ২০২২ সালের ৯ এপ্রিল অনাস্থা ভোটে ইমরান খান ক্ষমতা হারান। পরে তিনি দাবি করেন, এটি একটি পরিকল্পিত রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার ফল।

পরবর্তী সময়ে-
* তিনি দুর্নীতি ও রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা ফাঁসসহ একাধিক মামলায় দণ্ডিত হন
* বর্তমানে তিনি কারাবন্দী রয়েছেন
* তার দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) রাজনৈতিক ও নির্বাচনী চাপে পড়ে

আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক প্রেক্ষাপট: প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, সেই সময়ের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিও ঘটনাপ্রবাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যেমন-

* রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের সময় ইমরান খান মস্কো সফরে ছিলেন
* জাতিসংঘে রাশিয়ার বিরুদ্ধে প্রস্তাবে পাকিস্তান ভোটদানে বিরত থাকে
* আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর আঞ্চলিক নীতিতে টানাপোড়েন বাড়ে
* সৌদি আরবসহ কিছু দেশও পাকিস্তানের ওপর কৌশলগত চাপ তৈরি করেছিল

সামরিক ও কূটনৈতিক প্রভাব: ড্রপ সাইটের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী তখনকার সরকারের পররাষ্ট্রনীতিকে দেশের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ মনে করেছিল। পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর পাকিস্তান পশ্চিমা কৌশলগত অবস্থানের দিকে বেশি ঝুঁকে পড়ে বলেও উল্লেখ করা হয়।

এতে আরো বলা হয়, ইউক্রেন যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সামরিক সরবরাহ সংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যক্রম এবং আন্তর্জাতিক ঋণ সহায়তার সঙ্গে কৌশলগত শর্ত যুক্ত ছিল-যদিও এসব দাবির স্বতন্ত্র যাচাই পাওয়া যায়নি।

ফাঁস হওয়া এই নথিকে ঘিরে আবারো প্রশ্ন উঠেছে-ইমরান খানের ক্ষমতাচ্যুতি কি শুধুই অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক প্রক্রিয়া ছিল, নাকি এর পেছনে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক চাপও কাজ করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে অস্বীকার করা হয়েছে।
সানা/ডিসি/আপ্র/১৮/৫/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

ইরানকে ‘সর্বকালের শ্রেষ্ঠ ধ্বংসাত্মক অর্থনৈতিক আঘাতের’ ঘোষণা ট্রাম্পের
২০ আগস্ট ২০২৬

ইরানকে ‘সর্বকালের শ্রেষ্ঠ ধ্বংসাত্মক অর্থনৈতিক আঘাতের’ ঘোষণা ট্রাম্পের

ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পাঁ...

কলকাতার হোটেলে আগুনে ৯ মৃত্যু, কুষ্টিয়ার একই পরিবারের চারজন
২০ আগস্ট ২০২৬

কলকাতার হোটেলে আগুনে ৯ মৃত্যু, কুষ্টিয়ার একই পরিবারের চারজন

ভারতের কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৯...

প্রিন্সেস ডায়ানার অজানা গল্প জানাতে ভাইয়ের নতুন বই
১৯ আগস্ট ২০২৬

প্রিন্সেস ডায়ানার অজানা গল্প জানাতে ভাইয়ের নতুন বই

প্রয়াত ব্রিটিশ রাজবধূ প্রিন্সেস ডায়ানার জীবন, ব্যক্তিত্ব ও মৃত্যুকে ভাইয়ের দৃষ্টিকোণ থেকে তুলে ধরে ন...

আমিরাতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র, হরমুজের উত্তেজনা বাড়ছে
১৯ আগস্ট ২০২৬

আমিরাতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র, হরমুজের উত্তেজনা বাড়ছে

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান সংঘাতের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিকে ইরান থেকে দুটি ব্যা...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

প্রধানমন্ত্রীর কাজে সন্তুষ্ট ৬৬ শতাংশ, সরকারের প্রতি ৫৪ শতাংশ

সরকারের ছয় মাস পূর্তি উপলক্ষে পরিচালিত এক জনমত জরিপে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দায়িত্ব পালনে ৬৬ দশমিক ৩০ শতাংশ উত্তরদাতা সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, প্রধানমন্ত্রী ভালোভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। অন্যদিকে সরকারের সামগ্রিক কর্মকাণ্ডে সন্তুষ্টির কথা জানিয়েছেন ৫৪ দশমিক ৫০ শতাংশ মানুষ। সরকারের কর্মকাণ্ডকে খারাপ বলেছেন ৩২ দশমিক ৯০ শতাংশ। ডপলার অপিনিয়ন রিসার্চের ‘অ্যাপ্রুভাল রেটিং সার্ভে ২০২৬’-এ এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন এই জরিপে সরকারের সঠিক মূল্যায়ন হয়েছে?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 15 ঘন্টা আগে