গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

মেনু

রাজনীতির পুরনো ব্যাখ্যা নতুন করে ভাবতে হচ্ছে

পশ্চিমবঙ্গের ভোটে উদ্ভূত নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রকাশিত: ০১:০৪ পিএম, ১১ মে ২০২৬ | আপডেট: ০৬:২৬ এএম ২০২৬
পশ্চিমবঙ্গের ভোটে উদ্ভূত নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ
ছবি

ছবি সংগৃহীত

পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল শুধু একটি দলগত বিজয় বা পরাজয়ের গল্প নয়; বরং এটি রাজ্যের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ভারসাম্যে এক গভীর ও তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করে। প্রচলিত আদর্শিক বিভাজনের বাইরে গিয়ে ভোটারদের একাংশ যে কৌশলগত অবস্থান নিয়েছে, তা রাজনীতির পুরনো ব্যাখ্যাকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে।

এই নির্বাচনে বামপন্থি ভোটারদের একটি বড় অংশ যে তৃণমূলবিরোধী অবস্থান থেকে বিজেপির দিকে ঝুঁকেছে, তা এখন স্পষ্ট। আদর্শগতভাবে দুই মেরুর অবস্থানে থাকা এই দুই শক্তির মধ্যে এমন সমীকরণ আগে এতটা প্রকাশ্য ছিল না। কিন্তু ক্ষমতা দখলের বাস্তব রাজনৈতিক লড়াইয়ে প্রতিপক্ষকে সরিয়ে দেওয়াই যখন প্রধান লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায়, তখন আদর্শ অনেক সময় দ্বিতীয় স্থানে চলে যায়। এই প্রবণতাই রাজনীতির বর্তমান বাস্তবতাকে আরো জটিল করে তুলেছে।

বাম রাজনৈতিক শিবির দীর্ঘদিন ধরেই সাংগঠনিক দুর্বলতা, নেতৃত্ব সংকট এবং গণভিত্তি হারানোর চাপে ছিল। অন্যদিকে শাসক দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ, অভিযোগ এবং রাজনৈতিক সংঘাতের আবহ বিরোধী ভোটকে একক ধারায় প্রবাহিত হতে দেয়নি। ফলাফল হিসেবে ভোটের একটি অংশ কৌশলগতভাবে এমন শক্তির দিকে গেছে, যাকে তারা সাময়িকভাবে ব্যবহারযোগ্য প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখেছে। এই রাজনৈতিক কৌশলই এখন আলোচনায় এসেছে “আগে রাম, পরে বাম” ধরনের ধারণা হিসেবে।

কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই ধরনের অস্থায়ী ও কৌশলগত ভোট কি দীর্ঘমেয়াদে গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য ইতিবাচক? গণতন্ত্রের ভিত্তি যদি হয় আদর্শ, নীতি ও স্থায়ী রাজনৈতিক আস্থা, তবে বারবার এ ধরনের অবস্থান পরিবর্তন সেই ভিত্তিকে দুর্বল করে দিতে পারে। ভোট যখন প্রতিশোধ বা সাময়িক ক্ষমতা পরিবর্তনের হাতিয়ার হয়ে ওঠে, তখন রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।

অন্যদিকে এই নির্বাচনের ফলাফল বিরোধী রাজনীতির জন্যও এক সতর্কবার্তা। দীর্ঘদিনের জনসংযোগহীনতা, সংগঠন দুর্বলতা এবং তৃণমূল পর্যায়ে কার্যকর উপস্থিতি না থাকলে রাজনৈতিক শূন্যতা অন্য শক্তি দখল করে নেয়। সেই শূন্যতাই এখানে নতুন সমীকরণের জন্ম দিয়েছে।

এছাড়া নির্বাচনের পরপরই বিভিন্ন অঞ্চলে দলীয় কার্যালয় পুনরুদ্ধারের যে প্রবণতা দেখা গেছে, তা প্রমাণ করে রাজনৈতিক শক্তি শুধু ভোটের সংখ্যায় সীমাবদ্ধ নয়; বরং সংগঠন, গ্রহণযোগ্যতা এবং জনগণের সঙ্গে সম্পর্কের ওপরও নির্ভরশীল।

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি সবসময়ই আবেগ, ইতিহাস ও মতাদর্শের গভীর মিশ্রণে গঠিত। কিন্তু বর্তমান পরিবর্তন দেখাচ্ছে, ভোটাররা এখন কেবল আবেগ বা ঐতিহ্য নয়, বরং বাস্তব রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। এই প্রবণতা ভবিষ্যতে আরো নতুন রাজনৈতিক জোট, বিভাজন ও পুনর্গঠনের পথ খুলে দিতে পারে।

তবে শেষ কথা হলো, গণতন্ত্রে কৌশল থাকতে পারে, কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী স্থিতিশীলতার জন্য প্রয়োজন বিশ্বাসযোগ্যতা ও নীতিনিষ্ঠ রাজনীতি। এই দুইয়ের ভারসাম্যই নির্ধারণ করবে আগামী দিনের পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ।
সানা/আপ্র/১১/৫/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

বাংলাদেশিসহ সব বিদেশিদের জন্য জরুরি বার্তা দিলো মার্কিন দূতাবাস
২৭ জুন ২০২৬

বাংলাদেশিসহ সব বিদেশিদের জন্য জরুরি বার্তা দিলো মার্কিন দূতাবাস

বাংলাদেশিসহ বিদেশি নাগরিকদের উদ্দেশ্যে এক জরুরি সতর্কবার্তা দিয়েছে ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস। যুক্তরাষ...

ভেনেজুয়েলায় আবারো ভূমিকম্প
২৭ জুন ২০২৬

ভেনেজুয়েলায় আবারো ভূমিকম্প

শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্পে লন্ডভন্ড ভেনেজুয়েলার উত্তর উপকূলের কাছে আবারো একটি নতুন ভূমিকম্প আঘাত হেনে...

জাহাজে হামলার জেরে ইরানে মার্কিন হামলা, ফের উত্তেজনা
২৭ জুন ২০২৬

জাহাজে হামলার জেরে ইরানে মার্কিন হামলা, ফের উত্তেজনা

হরমুজ প্রণালিতে একটি মালবাহী জাহাজে ড্রোন হামলার জেরে আবা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা তীব্র...

ইতালিতে একই পরিবারের ৩ বাংলাদেশিকে হত্যা
২৭ জুন ২০২৬

ইতালিতে একই পরিবারের ৩ বাংলাদেশিকে হত্যা

ইতালির রাজধানী রোমের অরেলিও এলাকায় ভয়াবহ এক হত্যাকাণ্ডে বাংলাদেশি একটি পরিবারের তিনজন নিহত হয়েছেন। ঘ...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

২০২৫ সালে সেবা খাতে ঘুষ লেনদেনের পরিমাণ ১২ হাজার ৬৩৩ কোটি ২০ লাখ টাকা

দেশের বিভিন্ন সেবা খাতে ২০২৫ সালে ঘুষ লেনদেনের পরিমাণ আনুমানিক ১২ হাজার ৬৩৩ কোটি ২০ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটির মতে, এই পরিমাণ ২০২৩ সালের তুলনায় প্রায় ১৫ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি। আপনি কি মনে করেন এই জরিপ সঠিক?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 1 দিন আগে