যুক্তরাজ্যে ২০০৯ সালের ১ জানুয়ারি বা তার পরে জন্ম নেওয়া ব্যক্তিদের কাছে সিগারেট বিক্রি চিরতরে অবৈধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন আইনে বলা হয়েছে, ২০২৭ সালের নিউ ইয়ারের দিন যাদের বয়স ১৭ বছর বা তার কম থাকবে, তারা ভবিষ্যতে কখনোই আইনিভাবে তামাকজাত পণ্য কিনতে পারবেন না।
এই উদ্যোগকে তামাক নিয়ন্ত্রণে ‘প্রজন্মভিত্তিক নিষেধাজ্ঞা’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। অর্থাৎ, প্রতি বছর নতুন প্রজন্মকে ধূমপানের বাজারের বাইরে রাখা হবে, যাতে ধীরে ধীরে পুরো সমাজ থেকেই ধূমপান কমে আসে।
কেন এমন সিদ্ধান্ত?
বিশেষজ্ঞদের মতে, ধূমপান এখনো বিশ্বজুড়ে প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যুর অন্যতম বড় কারণ। দীর্ঘদিন ধরে গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, সিগারেট ফুসফুসের ক্যানসার, হৃদরোগ, স্ট্রোকসহ নানা জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
ব্রিটিশ সরকারের ধারণা, শুধু কর বাড়ানো বা সতর্কবার্তা দিয়ে ধূমপান পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই নতুন প্রজন্মকে শুরু থেকেই তামাকের বাইরে রাখার কৌশল নেওয়া হয়েছে।
ধূমপানবিরোধী নীতির দীর্ঘ পথ
গত কয়েক দশকে ধূমপান নিরুৎসাহিত করতে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। যেমন—
* সিগারেটের বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ
* প্যাকেটে ভয়াবহ স্বাস্থ্য সতর্কতা
* পাবলিক প্লেসে ধূমপান নিষিদ্ধ
* তামাকের ওপর উচ্চ কর
* তরুণদের কাছে বিক্রিতে কড়াকড়ি
এসব নীতির ফলে ধূমপায়ীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। উদাহরণ হিসেবে, ১৯৭০-এর দশকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ ধূমপান করলেও এখন তা নেমে এসেছে প্রায় ১০ শতাংশে।
সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন
একসময় ধূমপান সামাজিকভাবে স্বাভাবিক মনে হলেও এখন অনেক দেশে এটি নেতিবাচক অভ্যাস হিসেবে দেখা হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সামাজিক পরিবর্তনই এখন পূর্ণ নিষেধাজ্ঞার পথ সহজ করেছে।
যুক্তরাজ্যের পাশাপাশি মালদ্বীপ একই ধরনের আইন করেছে। আবার নিউজিল্যান্ড ২০২২ সালে এমন আইন পাস করলেও পরে তা বাতিল করা হয়।
সমালোচনা ও শঙ্কাও আছে
তবে এই নীতির বিরোধিতাও রয়েছে। সমালোচকদের আশঙ্কা—
* কালোবাজার বাড়তে পারে
* তরুণরা অবৈধভাবে সিগারেট সংগ্রহ করতে পারে
* নতুন ধরনের অপরাধচক্র তৈরি হতে পারে
এ ছাড়া, এটি ব্যক্তি স্বাধীনতার ওপর অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ কিনা, তা নিয়েও বিতর্ক রয়েছে।
ভবিষ্যতে অন্য ক্ষেত্রেও আসতে পারে এমন নীতি
বিশ্লেষকদের মতে, তামাকের পর ভবিষ্যতে সোশ্যাল মিডিয়া আসক্তি, অনলাইন জুয়া বা অন্যান্য আসক্তিমূলক পণ্যের ক্ষেত্রেও একই ধরনের কঠোর নীতি দেখা যেতে পারে।
কারণ, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর অনেক প্ল্যাটফর্ম মানুষের দীর্ঘমেয়াদি আসক্তি তৈরি করছে—এমন উদ্বেগ বিশ্বজুড়ে বাড়ছে।
এসি/আপ্র/১০/০৫/২০২৬