যুক্তরাজ্যের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে লেবার পার্টির বড় ধরনের ভরাডুবির পরও পদত্যাগ না করার ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। তিনি জানিয়েছেন, আগামী সাধারণ নির্বাচনেও তিনিই দলের নেতৃত্ব দেবেন বলে আশা করছেন।
শুক্রবার (৮ মে) নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর স্টারমার বলেন, লেবার পার্টির জন্য এটি একটি অত্যন্ত কঠিন ফল। তিনি দায় স্বীকার করে বলেন, তিনি দায়িত্ব ছেড়ে দিয়ে দেশকে বিশৃঙ্খলার মুখে ঠেলে দিতে চান না।
স্টারমার আরো বলেন, এই ফলাফল আড়াল করার সুযোগ নেই। দেশজুড়ে অনেক যোগ্য প্রতিনিধি হারানোর বিষয়টি তিনি বেদনাদায়ক হিসেবে উল্লেখ করেন এবং এর পূর্ণ দায় নিজের ওপর নেন।
দুই বছর আগে দীর্ঘ কনজারভেটিভ শাসনের অবসান ঘটিয়ে ক্ষমতায় আসা স্টারমারের জন্য এবারের নির্বাচনকে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছিল। কিন্তু জনমত জরিপের পূর্বাভাসকে ছাপিয়ে ফলাফলের শুরুতেই লেবার পার্টির বিপর্যয় স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
প্রাথমিক ফলাফলে দেখা যায়, অভিবাসনবিরোধী দল রিফর্ম ইউকে বিপুল সংখ্যক আসনে জয় পেয়েছে, অন্যদিকে লেবার পার্টি শতাধিক আসন হারিয়েছে।
এই ফলাফল স্টারমারের নেতৃত্বে চাপ আরো বাড়াতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা। তবে তিনি বলেন, পরিবর্তনের যে প্রতিশ্রুতি তিনি দিয়েছেন, তা বাস্তবায়নের সংকল্প কোনোভাবেই দুর্বল হবে না।
এদিকে রিফর্ম ইউকের নেতা নাইজেল ফারাজ এই ফলাফলকে যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে ঐতিহাসিক পরিবর্তন হিসেবে অভিহিত করেছেন।
অন্যদিকে দলীয় অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, নেতৃত্ব পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে তা সমীচীন নয় বলে মনে করছেন অনেকেই।
ইংল্যান্ডের হাজার হাজার কাউন্সিলর পদ ছাড়াও ওয়েলস ও স্কটল্যান্ডে বিভিন্ন নির্বাচনে ভোটাররা অংশ নেন। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক চাপ এবং নীতিগত সমালোচনার কারণে লেবার পার্টির ওপর জনঅসন্তোষ বেড়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।
সানা/ডিসি/আপ্র/৯/৫/২০২৬