পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পরও ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে পদত্যাগে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেসপ্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার (৫ মে) কলকাতার কালীঘাটে সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, তৃণমূল পরাজিত হয়নি; বরং ভোট ‘লুট’ করা হয়েছে।
মমতা অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশন পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করেছে এবং প্রায় ১০০টি আসনের ফল প্রভাবিত হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, এটি গণতন্ত্রের জন্য একটি কালো অধ্যায় এবং কমিশন মানুষের ভোটাধিকার ক্ষুণ্ন করেছে। তিনি আরো বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চায় এবং বিচারব্যবস্থাও কার্যকর নেই।
গত সোমবার (৪ মে) ঘোষিত ফলাফলে ২৯৩ আসনের মধ্যে বিজেপি ২০৭টি আসনে জয় পেয়ে সরকার গঠনের অবস্থানে পৌঁছায়, আর তৃণমূল কংগ্রেস পায় ৮০টি আসন। নিজ আসন ভবানীপুরেও বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ১৫ হাজারের বেশি ভোটে পরাজিত হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, স্বাভাবিকভাবে হারলে কোনো আপত্তি থাকত না। তবে তাঁর দাবি, গণনা প্রক্রিয়ায় অনিয়ম হয়েছে এবং বিজেপি ‘লুটপাটের মাধ্যমে’ জয় পেয়েছে।
মমতার অভিযোগ, গণনার শুরুতে বিভিন্ন স্থানে হামলা হয় এবং বিজেপি কর্মীরা কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে গণনাকেন্দ্রে ঢুকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। তিনি বলেন, এক পর্যায়ে তিনি ঘটনাস্থলে যেতে চাইলে তাঁর গাড়ি আটকে দেওয়া হয়। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।
নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ভোটের আগে বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে কর্মকর্তাদের বদলি করা হয়েছে এবং কমিশন ও বিজেপির মধ্যে সমন্বয় ছিল। তিনি প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধেও অভিযোগ তোলেন।
পদত্যাগ প্রসঙ্গে মমতা বলেন, “আমরা তো হারিনি, জোর করে ভোট লুট করা হয়েছে। তাহলে পদত্যাগ করব কেন?” তিনি জানান, দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার পর এখন তিনি সাধারণ মানুষের মতো আন্দোলনে সক্রিয় থাকবেন এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে রাজপথে লড়াই চালিয়ে যাবেন।
এদিকে বিজেপিবিরোধী জোটকে আরো শক্তিশালী করার কথাও জানান মমতা। তিনি বলেন, জোটের নেতারা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে সমর্থন জানিয়েছেন এবং আগামী দিনে ঐক্য জোরদার করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়সহ দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সানা/ডিসি/আপ্র/৫/৫/২০২৬