পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলকে ‘ঐতিহাসিক ও নজিরবিহীন’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেছেন, এই ফলাফলের মধ্য দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে এক নতুন ভোরের সূচনা হয়েছে এবং এটি উন্নয়নভিত্তিক রাজনীতির প্রতি জনগণের আস্থার প্রতিফলন।
সোমবার (৪ মে) নয়াদিল্লিতে বিজেপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে ভাষণ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গসহ আসাম, তামিলনাড়ু, কেরালা ও পদুচেরির ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংকটের কারণে বিশ্বজুড়ে অনিশ্চয়তার মধ্যেও ভোটাররা স্থিতিশীল শাসনের পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে রায় দিয়েছেন।
গণতন্ত্রের গুরুত্ব তুলে ধরে মোদি বলেন, এটি শুধু একটি ব্যবস্থা নয়, বরং একটি ঐতিহ্য, যা ভারতের মানুষের রক্তে প্রবাহিত। তাঁর ভাষায়, ‘আজ শুধু গণতন্ত্র নয়, সংবিধান, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াও বিজয়ী হয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রী জানান, বর্তমানে ২০টির বেশি রাজ্যে বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট ক্ষমতায় রয়েছে এবং ‘নাগরিকই দেবতা’ এই মন্ত্রে পরিচালিত হয়ে সরকার জনগণের সেবায় কাজ করছে। তিনি দাবি করেন, যেখানে বিজেপি আছে, সেখানে সুশাসন ও উন্নয়ন নিশ্চিত হচ্ছে।
পশ্চিমবঙ্গে ‘শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ বাংলা’ গড়ে তোলার সুযোগ পেয়েছে বিজেপি-এ কথা উল্লেখ করে মোদি বলেন, রাজ্যের ভাগ্যে নতুন অধ্যায় যুক্ত হয়েছে, যা হবে ভয়মুক্ত ও আশাব্যঞ্জক।
রাজ্যের নাগরিকদের উদ্দেশে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, নারীদের নিরাপত্তা, তরুণদের কর্মসংস্থান এবং অভিবাসন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকেই ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্প অনুমোদনের কথাও জানান তিনি। পাশাপাশি অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেন।
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর ‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য’ স্বপ্ন বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করে মোদি বলেন, পশ্চিমবঙ্গকে সেই আদর্শেই গড়ে তোলা হবে।
রাজনৈতিক সহিংসতার অবসান ঘটাতে সব দলকে আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিনের দুষ্টচক্র থেকে বেরিয়ে আসা প্রয়োজন। তাঁর ভাষায়, ‘আজ প্রতিশোধ নয়, পরিবর্তনের কথা বলা উচিত; ভয় নয়, ভবিষ্যতের কথা বলা উচিত।’
এদিন বিরোধীদের সমালোচনা করে মোদি অভিযোগ করেন, নারীদের জন্য আইনসভায় আসন সংরক্ষণের উদ্যোগ বাস্তবায়নে বিরোধীরা বাধা দিয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, এর জন্য তারা জনগণের রায়ে শাস্তি পেয়েছে এবং ভবিষ্যতেও পাবে।
নির্বাচনের ফলাফলে ২৯৪ আসনের মধ্যে ২৯৩টির ঘোষিত ফলে বিজেপি ২০৬টিতে জয়ী বা এগিয়ে রয়েছে। অপরদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছে ৮১টি আসন। নিজ আসনেও পরাজিত হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, যেখানে তিনি বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী-এর কাছে হেরে যান।
উল্লেখ্য, টানা ১৫ বছর পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় ছিল তৃণমূল কংগ্রেস। ২০১১ সালে ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে ক্ষমতায় আসে দলটি।
সানা/ডিসি/আপ্র/৫/৫/২০২৬