যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের দেওয়া নতুন শান্তি প্রস্তাব খতিয়ে দেখা হচ্ছে; তবে এর গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে তিনি গভীর সংশয় প্রকাশ করেছেন। তাঁর ভাষায়, তেহরান এখনো তাদের অতীত কর্মকাণ্ডের জন্য ‘যথেষ্ট মূল্য’ দেয়নি।
গত শনিবার (২ মে) ফ্লোরিডার পাম বিচ বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ইরান প্রস্তাবের পূর্ণ বিবরণ পাঠাচ্ছে, যা পর্যালোচনার পর বিস্তারিত জানানো হবে। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি ইঙ্গিত দেন, প্রস্তাবটি গ্রহণযোগ্য হওয়ার সম্ভাবনা কম।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর ঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের মাধ্যমে ১৪ দফার একটি প্রস্তাব ওয়াশিংটনে পাঠিয়েছে তেহরান। এতে সীমান্তবর্তী অঞ্চল থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার, ইরানি বন্দরগুলোর ওপর থেকে অবরোধ তুলে নেওয়া এবং জব্দ অর্থ ফেরত দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, ক্ষতিপূরণ প্রদান, লেবাননসহ বিভিন্ন ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণে নতুন ব্যবস্থার কথাও উল্লেখ রয়েছে।
এর আগে চলতি সপ্তাহেই ইরানের একটি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন ট্রাম্প। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, পারমাণবিক সমস্যার স্থায়ী সমাধানের আগেই হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল তেহরান।
একই সঙ্গে নতুন সামরিক অভিযানের ইঙ্গিত দিয়ে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, ইরান যদি ‘অসদাচরণ’ করে, তবে আবারো হামলার সম্ভাবনা রয়েছে। গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে; যদিও ৮ এপ্রিল থেকে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে।
বর্তমান অচলাবস্থা নিয়ে ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজিম গরিবাবাদি বলেছেন, সিদ্ধান্ত এখন যুক্তরাষ্ট্রের-তারা কূটনীতির পথ বেছে নেবে, নাকি সংঘাত অব্যাহত রাখবে। একই সময়ে ওয়াশিংটন স্পষ্ট করেছে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ না হলে যুদ্ধ বন্ধের প্রশ্নই ওঠে না।
হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা বিশ্ববাজারেও প্রভাব ফেলেছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে প্রণালিটি কার্যত অচল থাকায় তেল, গ্যাস ও সারের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে, যার ফলে জ্বালানির দাম যুদ্ধ-পূর্ব সময়ের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে। পাশাপাশি ইরানের তেলের আয় বন্ধ করতে দেশটির বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধ জারি রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র।
এ পরিস্থিতিতে জাহাজ কোম্পানিগুলোকে সতর্ক করে ওয়াশিংটন জানিয়েছে, ইরানকে কোনো ধরনের অর্থ-নগদ, ডিজিটাল সম্পদ বা পণ্য বিনিময়ের মাধ্যমেও-প্রদান করা যাবে না; এ নির্দেশ অমান্য করলে কঠোর নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হবে।
সানা/ডিসি/আপ্র/৩/৫/২০২৬