টানা ৯৬ ঘণ্টার টানটান উত্তেজনার অবসান ঘটতে চলেছে সোমবার (৪ মে)। দুপুরের মধ্যেই স্পষ্ট হয়ে যাবে-পশ্চিমবঙ্গে শেষ হাসি কে হাসবেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি না মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
স্বাধীনতা-উত্তর সময়ে রাজ্য দখলের এমন তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং অনিশ্চয়তায় ভরা নির্বাচনী পরিস্থিতি আগে দেখা যায়নি। ফলে গোটা ভারতের দৃষ্টি এখন পশ্চিমবঙ্গমুখী; সমান আগ্রহ রয়েছে বাংলাদেশের মানুষদের মধ্যেও, সম্ভাব্য রাজনৈতিক পালাবদলের প্রভাব বিবেচনায়।
স্থানীয় সময় সোমবার সকাল আটটায় শুরু হবে ভোট গণনা। প্রথমে গণনা হবে ডাকযোগে প্রাপ্ত ভোট, এরপর খোলা হবে ইলেকট্রনিক ভোটযন্ত্র।
এবারের গণনাকেন্দ্রের সংখ্যা কমিয়ে ৭৭ করা হয়েছে; কলকাতার ১১টি আসনের ভোট গণনা হবে পাঁচটি কেন্দ্রে। ভোটগ্রহণ শেষে প্রার্থীদের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে সিল করা যন্ত্রগুলো বিভিন্ন এলাকায় সংরক্ষিত রাখা হয়েছে, যেগুলো চার দিন ধরে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির নেতা-কর্মীরা পালাক্রমে পাহারা দিচ্ছেন; সঙ্গে রয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী।
গণনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূল কংগ্রেস ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ভার্চ্যুয়াল বৈঠকে কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন, কোনো অবস্থাতেই ভোটে কারচুপি হতে দেওয়া যাবে না।
প্রতিটি গণনাকেন্দ্রের বাইরে পাঁচ হাজার কর্মী অবস্থান করবেন বলে জানানো হয়েছে; পাশাপাশি পার্টি অফিসগুলো সকাল থেকেই সক্রিয় রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে যেকোনো অনিয়ম দ্রুত জানানো যায়।
বিজেপিও তাদের কর্মীদের সতর্ক ও প্রস্তুত থাকতে বলেছে। রাজ্য নেতৃত্ব ‘পরিবর্তনের হাওয়া’ অনুভব করার কথা জানিয়ে সংগঠনের দুর্বলতা কাটাতে প্রশিক্ষণ ও কর্মশালার আয়োজন করেছে।
তারা মনে করছে, নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর তৎপরতায় ভোটগ্রহণ ছিল তুলনামূলকভাবে শান্তিপূর্ণ; গণনাতেও তার প্রতিফলন ঘটবে। তবে সম্ভাব্য গোলযোগ ঠেকাতে কর্মীদের কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শেষ মুহূর্তে কে এগিয়ে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো পূর্বাভাস নেই। পরিচিত সমীক্ষা সংস্থাগুলোও নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেনি। যদিও কিছু সমীক্ষায় বিজেপিকে এগিয়ে রাখা হয়েছে, তবু ফলাফল নিয়ে সংশয় রয়ে গেছে।
সংখ্যালঘু মুসলমান ও নারী ভোটারদের অবস্থান, ‘বাঙালি বনাম বহিরাগত’ ইস্যুর প্রভাব, গ্রাম ও শহরে পরিবর্তনের হাওয়ার বিস্তার-এসব প্রশ্নের নির্ভরযোগ্য উত্তর এখনো অজানা।
বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে সরকারবিরোধী মনোভাব, অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা-এই দুইয়ের টানাপোড়েনেই দোলাচল তৈরি হয়েছে।
সংখ্যালঘু ও নারী ভোটারদের সমর্থন যদি অটুট থাকে, তবে ফলাফল কোন দিকে যাবে, তা নির্ধারণ করা কঠিন। সেই অনিশ্চয়তার অবসান ঘটবে সোমবার দুপুরেই; ততক্ষণ টানটান উত্তেজনায় অপেক্ষা গোটা বাংলার।
সানা/ডিসি/আপ্র/৩/৫/২০২৬