যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধ শেষ করতে ইরানের পাঠানো ১৪ দফার একটি নতুন শান্তি প্রস্তাব পর্যালোচনা করে দেখছেন বলে জানিয়েছেন।
এই ১৪ দফা প্রস্তাবে মার্কিন নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়া, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ এবং জব্দ করা সব সম্পদ অবমুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়েছে বলে জানা গেছে। এর পাশাপাশি ৩০ দিনের মধ্যে শান্তিচুক্তির শর্তাবলী চূড়ান্ত করার শর্ত দিয়েছে তেহরান।
ইরানি বার্তা সংস্থা তাসনিমের বরাত দিয়ে আল জাজিরা জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের নয় দফার এক পরিকল্পনার জবাবে ইরান ১৪ দফার এ প্রস্তাব প্রণয়ন করেছে।
তাসনিম জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রস্তাবে দুই মাসের যুদ্ধবিরতির জন্য অনুরোধ করেছে, কিন্তু ইরান চায় ৩০ দিনের মধ্যে সব সমস্যার নিষ্পত্তি আর যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর বদলে যুদ্ধের ‘চূড়ান্ত সমাপ্তি’।
ইরানি প্রস্তাবে, ভবিষ্যতে কোনো হামলা হবে না এমন কঠোর নিশ্চয়তা চাওয়া হয়েছে, ইরানের আশপাশের সব সামরিক ঘাঁটি থেকে মার্কিন বাহিনীর প্রত্যাহার দাবি করা হয়েছে। এর পাশাপাশি ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন ব্যাংকে আটকে থাকা ইরানে জব্দ করা সম্পদ অবমুক্ত করার এবং সব ধরনের অর্থনৈতিক ও ব্যাংকিং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়েছে।
এছাড়া যুদ্ধের জন্য পূর্ণ ক্ষতিপূরণসহ লেবানন, সিরিয়া ও ইয়েমেনসহ সব ফ্রন্টে তাৎক্ষণিকভাবে সব ধরনের শত্রুতা বন্ধ করার এবং ‘হরমুজ প্রণালির জন্য একটি নতুন আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাপনা কাঠামোর’ প্রস্তাব করা হয়েছে।
মার্কিন সংবাদ মাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, ইরানি প্রস্তাবে ‘হরমুজ প্রণালি ফের খুলে দেওয়া, মার্কিন নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার এবং ইরান ও লেবাননে স্থায়ীভাবে যুদ্ধ শেষ করার’ জন্য এক মাসের সময়সীমা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।
অ্যাক্সিওস দুই সূত্রকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, ৩০ দিনের মধ্যে একটি চুক্তি হওয়ার পর ‘তেহরানের পারমাণবিক প্রকল্প নিয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর চেষ্টায় আলোচনার জন্য আরেকটি মাস বরাদ্দ রাখার’ প্রস্তাব করা হয়েছে।
তেহরান জানিয়েছে, তারা তাদের দেওয়া এই ১৪ দফা প্রস্তাবের বিষয়ে ওয়াশিংটনের আনুষ্ঠানিক জবাবের জন্য অপেক্ষা করছে।
সানা/ডিসি/আপ্র/৩/৫/২০২৬