প্রয়াত যৌন নিপীড়ক জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে কোনো ধরনের সম্পর্ক বা সংশ্লিষ্টতা ছিল না বলে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প। তাদের নিয়ে ছড়ানো ‘মিথ্যা রটনার’ অবসান চেয়ে তিনি এ বিষয়ে মুখ খোলেন।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) হোয়াইট হাউসে এক আকস্মিক ব্রিফিংয়ে লিখিত বিবৃতি পড়ে শোনান মেলানিয়া। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের কোনো প্রশ্ন নেননি বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।
মেলানিয়া বলেন, “আমি কোনোভাবেই এপস্টেইনের নিপীড়নের শিকার নই এবং তার কর্মকাণ্ড সম্পর্কে কিছুই জানতাম না।” তিনি জানান, ২০০০ সালে এপস্টেইনের সঙ্গে তার কেবল স্বল্প সময়ের পরিচয় ছিল এবং তিনি কখনো তার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না।
এপস্টেইনই তাকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন-অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া এমন গুঞ্জনও নাকচ করে দেন তিনি। এসবকে নিজের চরিত্রহানির অপচেষ্টা বলেও উল্লেখ করেন ফার্স্ট লেডি।
এপস্টেইনের সহযোগী গিসলেইন ম্যাক্সওয়েলের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়েও মেলানিয়া বলেন, সেটি ছিল খুবই সীমিত এবং আনুষ্ঠানিক। ২০০২ সালের একটি ইমেইলের প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, সেটি ছিল কেবল সৌজন্য রক্ষার সাধারণ যোগাযোগ।
ব্রিফিংয়ে মেলানিয়া এপস্টেইনের নিপীড়নের শিকারদের জন্য কংগ্রেসে শুনানির আহ্বান জানান। তার মতে, ভুক্তভোগীরা প্রকাশ্যে সাক্ষ্য দিলে সত্য উদঘাটনে তা সহায়ক হবে এবং বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নথিভুক্ত হবে।
সাম্প্রতিক সময়ে এপস্টেইন সংশ্লিষ্ট নতুন তথ্য প্রকাশের পর বিভিন্ন মহলে আলোচনার প্রেক্ষাপটে তার এই বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। একই সঙ্গে এপস্টেইন সংক্রান্ত তদন্ত ও নথি প্রকাশে মার্কিন কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প এপস্টেইনের সঙ্গে পরিচয়ের কথা স্বীকার করলেও পরে তাকে নিজের ক্লাব থেকে বের করে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। তবে প্রকাশিত নথিতে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
সানা/আপ্র/১০/৪/২০২৬