যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই লেবাননে ইসরায়েলের ব্যাপক বিমান হামলায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা এই হামলাকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখছে।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার রাজধানী বৈরুত, বেকা ভ্যালি, মাউন্ট লেবানন, সিদোনসহ বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলের হামলায় অন্তত ২০৩ জন নিহত এবং প্রায় এক হাজার মানুষ আহত হয়েছে। এর আগে লেবাননের সিভিল ডিফেন্স নিহতের সংখ্যা ২৫০ জনের বেশি বলে জানিয়েছিল। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এটিকে ২ মার্চের পর লেবাননে তাদের বৃহত্তম সমন্বিত হামলা হিসেবে উল্লেখ করেছে।
এই হামলাকে লেবাননের পার্লামেন্ট স্পিকার নাবিহ বেরি ‘পূর্ণমাত্রার যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, এটি আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। একই সঙ্গে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ গোষ্ঠী হামলার জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে এবং একে যুদ্ধবিরতির মারাত্মক লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছে।
অন্যদিকে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী দাবি করেছেন, লেবাননের পরিস্থিতি পরিবর্তনের লক্ষ্যেই এই হামলা চালানো হচ্ছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রীও জানিয়েছেন, হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় হামলা অব্যাহত থাকবে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে লেবাননের পরিস্থিতিকে যুদ্ধবিরতির বাইরে একটি ‘স্বতন্ত্র সংঘর্ষ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যদিও এ বিষয়ে কিছু বিভ্রান্তির কথাও স্বীকার করেছেন মার্কিন প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
ইরান এই হামলার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সতর্ক করেছে, হামলা বন্ধ না হলে তারা পাল্টা ব্যবস্থা নেবে। একই সঙ্গে পাকিস্তান, যারা যুদ্ধবিরতিতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে, তারা লেবাননে হামলাকে শান্তি প্রক্রিয়ার জন্য নেতিবাচক বলে উল্লেখ করেছে।
ইউরোপীয় দেশগুলোও এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ফ্রান্স লেবাননকে যুদ্ধবিরতির আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছে, ইতালি হামলাকে ‘অযৌক্তিক’ বলে উল্লেখ করেছে এবং স্পেন ইসরায়েলের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের চুক্তি স্থগিতের দাবি তুলেছে।
যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়া উভয়েই জোর দিয়ে বলেছে, যুদ্ধবিরতি লেবাননেও কার্যকর হওয়া উচিত। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি দিয়ে অবাধ জাহাজ চলাচলের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
আরব বিশ্বেও এ হামলার তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কাতার, মিশর ও তুরস্ক একে বর্বর হামলা আখ্যা দিয়ে আঞ্চলিক অস্থিরতা বৃদ্ধির আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।
জাতিসংঘের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক তৎপরতা সদ্য ঘোষিত যুদ্ধবিরতির জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এই ধরনের হামলায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
সামগ্রিকভাবে, লেবাননে এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতকে আরো জটিল করে তুলেছে এবং আন্তর্জাতিক শান্তি প্রচেষ্টাকে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
সানা/আপ্র/১০/৪/২০২৬