চীনে পোষা প্রাণীর যত্ন ও প্রশিক্ষণে নতুন এক প্রবণতার নজির তৈরি করেছেন এক নারী, যিনি তাঁর ছয় মাস বয়সী কুকুরছানাকে কিন্ডারগার্টেনে ভর্তি করাতে ব্যয় করেছেন ১২ হাজার ইউয়ান, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় দুই লাখ টাকার বেশি।
সাদা লম্বা লোম ও বন্ধুত্বপূর্ণ স্বভাবের স্যাময়েড প্রজাতির এই কুকুরছানাটিকে আচার-আচরণ শেখানো এবং ইশারা বোঝার সক্ষমতা গড়ে তুলতেই এমন সিদ্ধান্ত নেন তিনি। এ ধরনের প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রাণীদের আচরণগত পরীক্ষা নেওয়া হয়, যার মাধ্যমে তাদের মেজাজ ও প্রবণতা বুঝে উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এর ফলে প্রাণীগুলো অকারণে ঘেউ ঘেউ করা বা আক্রমণাত্মক আচরণ থেকে বিরত থাকতে শেখে।
কুকুরদের এসব কিন্ডারগার্টেনে সামাজিক কার্যক্রমেও যুক্ত করা হয়, যাতে তারা অন্য প্রাণীর সঙ্গে মিশতে পারে এবং স্বাভাবিক সামাজিক আচরণ গড়ে ওঠে। ভর্তি প্যাকেজের অংশ হিসেবে প্রতিদিন প্রাণীটিকে বাড়ি থেকে আনা-নেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া অতিরিক্ত খরচের বিনিময়ে খাবারের ব্যবস্থা রয়েছে। প্রাণীগুলো যখন প্রতিষ্ঠানে থাকে, তখন মালিকেরা অনলাইনের মাধ্যমে সরাসরি তাদের ওপর নজরদারি করতে পারেন। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার সুবিধাও এতে অন্তর্ভুক্ত।
জানা গেছে, কুকুরছানাটির মালিক তাওতাও কর্মব্যস্ততার কারণে পোষা প্রাণীটিকে যথেষ্ট সময় দিতে পারছিলেন না। তাই তিনি এই বিশেষ সেবার আশ্রয় নিয়েছেন। তাঁর ভাষায়, ব্যস্ততার কারণে কুকুরছানাকে সঙ্গ দেওয়া সম্ভব হচ্ছিল না বলেই এমন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।
চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ঘটনা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে দেশটিতে পোষা প্রাণীর জন্য কিন্ডারগার্টেন নতুন কিছু নয়; বরং ক্রমবর্ধমান শহুরে জীবনে এটি জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেকেই এখন পোষা প্রাণীকে পরিবারের সদস্য হিসেবে বিবেচনা করেন। ফলে উন্নত যত্ন ও প্রশিক্ষণের জন্য ব্যয় করতে দ্বিধা করছেন না।
এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে চীনের শহুরে পোষা প্রাণী শিল্পের বাজার প্রায় ৩১ হাজার ৪০০ কোটি ইউয়ানে পৌঁছেছে। ধারণা করা হচ্ছে, ২০২৮ সালের মধ্যে এ বাজারের আকার ৪০ হাজার ৫০০ কোটি ইউয়ান ছাড়িয়ে যাবে, যা এই খাতের দ্রুত বিস্তারের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সানা/ডিসি/আপ্র/৪/৪/২০২৬