মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি, বাণিজ্য এবং ভারতের স্বার্থের ওপর ক্রমবর্ধমান প্রভাবের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই সংঘাত নিরসন এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় সংলাপের জন্য ‘সম্মিলিত’ উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মোদী। এর পক্ষে তিনি ১০ দফা প্রস্তাব তুলে ধরেছেন।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভারতের সংসদ থেকে বিশ্বের উদ্দেশে শান্তি ও সংলাপের পক্ষে একটি ঐক্যবদ্ধ বার্তা যাওয়া জরুরি।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) নরেন্দ্র মোদী সংসদের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভা-তে দেওয়া বক্তব্যে এমন কথা বলেছেন বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে ভারতের সংবাদমাধ্যম দ্য স্টেটসম্যান।
সংসদে মোদির ১০ দফা: ১. চলমান সংঘাতের কারণে জ্বালানি খাতে গুরুতর সংকট তৈরি হয়েছে-পেট্রোল, ডিজেল, গ্যাস ও সার সরবরাহে প্রভাব পড়েছে।
২.গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য রুট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি ঘিরে পরিস্থিতি বেশ উদ্বেগজনক।
৩. উপসাগরীয় দেশগুলোতে প্রায় এক কোটি ভারতীয় বসবাস ও কাজ করেন। তাদের নিরাপত্তা এখন বড় উদ্বেগের বিষয়।
৪. হরমুজ প্রণালির দুই পাশে বহু জাহাজ আটকে আছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভারতীয় নাবিক রয়েছেন।
৫. কূটনৈতিকভাবে শান্তি ফিরিয়ে আনতে ভারত উপসাগরীয় দেশগুলোর পাশাপাশি ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্টের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে।
৬. সংঘাত শুরুর পর থেকে পশ্চিম এশিয়ার নেতাদের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা করেছেন মোদী।
৭. এখন পর্যন্ত ৩ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি ভারতীয় নিরাপদে দেশে ফিরেছেন, যার মধ্যে ১,০০০-এর বেশি ইরান থেকে।
৮. সংঘাত চললেও কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে ভারত নিজের জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখার চেষ্টা করছে।
৯. বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
সবশেষে ১০ নম্বর দফায় যুদ্ধে কারও প্রাণহানি মানবতা বিরোধী এবং সব পক্ষকে সংলাপের মাধ্যমে সংকট সমাধানের আহ্বান জানান নরেন্দ্র মোদী।
সানা/আপ্র/২৪/৩/২০২৬