মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে চলমান যুদ্ধের ছায়ায় এ বছরের ঈদুল ফিতরের আনন্দ ম্লান হয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আক্রমণের প্রতিক্রিয়ায় ইরানের পাল্টা হামলার পর উপসাগরীয় দেশগুলোতে তীব্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ফলশ্রুতিতে পবিত্র ঈদের ছুটির সময় ভ্রমণ, সমাবেশ ও উৎসবের পূর্বের উল্লাস আজ নেই বললেই চলে।
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের ইমাম তুর্কি বিন আবদুল্লাহ গ্র্যান্ড মসজিদে মুসুল্লিরা ঈদের নামাজ আদায় করেছেন। তবে রমজানের পরের আনন্দ আর মজাদার খাবারের উৎসবের পূর্বপরিকল্পনা নিরাপত্তার কারণে সীমিত। সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার ও অন্যান্য দেশগুলোতে খোলা মাঠে ঈদের জামাতের অনুমতি নেই। দেশগুলোতে মসজিদে নামাজ আদায় করতে মুসল্লিরা সীমিত উপস্থিতি নিশ্চিত করছেন।
বাহরাইনে প্রবাসীদের ঈদ: আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার ছায়া
বাহরাইনে প্রায় দেড় লাখ বাংলাদেশি প্রবাসী আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে ঈদ উদযাপন করছেন। চাঁদরাতেও ঘুম নেই, সাইরেনের শব্দে আতঙ্ক বেড়েছে। প্রবাসী নুরুল আমিন বলেন, “আমরা শান্তিতে ছিলাম, এখন মনে হচ্ছে যে কোনো সময় বড় বিপদ হতে পারে। ঈদের দিনও আল্লাহর কাছে দোয়া করছি যেন যুদ্ধ থেমে যায়।”
অন্য প্রবাসীরা জানান, কাজের অনিশ্চয়তা, বন্ধ হয়ে যাওয়া কর্মস্থল এবং পরিবারের সঙ্গে দূরত্ব তাদের মনোবল নষ্ট করছে। বাহরাইন সরকারের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত সহায়তা পাওয়া গেলেও, প্রবাসীরা আতঙ্কমুক্ত নন।
পবিত্র আল-আকসায় হামলা ও উত্তেজনা
পবিত্র আল-আকসা মসজিদে ঈদের নামাজের সময় মুসল্লিদের ওপর ইসরায়েলি বাহিনী কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করেছে। ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষিতে এই হামলা সংঘটিত হয়েছে। মুসল্লিরা বাধ্য হয়েছেন সীমিত নিরাপত্তার মধ্যে নামাজ আদায় করতে।
অঞ্চল জুড়ে ভয় আর সতর্কতার মধ্যেই ঈদ
ফাইটার জেট, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের শব্দ মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে তীব্র আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। কনসার্ট, খেলা এবং জনসমাবেশ বন্ধ থাকায় উৎসবের পূর্বের উচ্ছ্বাস নেই। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিজেপ তায়িপ এরদোয়ান মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও পুনর্জীবনের বার্তা দিয়েছেন। সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাদশা সালমানও দেশবাসীর উদ্দেশে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তবে এই ভয়, সাইরেন এবং নিরাপত্তা কড়াকড়ির মাঝেও মুসল্লিরা মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় করছেন। মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিমরা আতঙ্কের মধ্যে হলেও ঈদের তাৎপর্য ও ঐক্যের বার্তা বহন করছে।
সানা/আপ্র/২০/৩/২০২৬