ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সংস্থার প্রধান আলী লারিজানি ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন। গত বুধবার (১৭ মার্চ) দুপুরে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল। হামলায় তার ছেলে মোর্তেজাসহ উপপ্রধান আলিরেজা বায়াত এবং একদল রক্ষীও নিহত হন।
এর আগে গত মঙ্গলবার (১৬ মার্চ) স্থানীয় সময় দুপুরে তেহরানে বিমান অভিযান চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। হামলার পরপরই ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী জানায়, লারিজানি নিহত অথবা আহত হয়েছেন। পরে বুধবার বিকেলে তার মৃত্যু নিশ্চিত করে ইরান।
ঘটনার পর ইরানের সেনাপ্রধান আমির হাতামি ‘চূড়ান্ত প্রতিশোধ’-এর হুমকি দিয়েছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “আলী লারিজানি এবং অন্যান্য শহীদদের হত্যার প্রতিশোধ নেওয়া হবে। উপযুক্ত সময়ে অপরাধী আমেরিকা ও জায়নবাদী শাসকগোষ্ঠীকে চূড়ান্ত জবাব দেওয়া হবে।”
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসও জানায়, প্রতিশোধ হিসেবে ইতোমধ্যে ইসরায়েলের কেন্দ্রস্থলে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার রাতেও তেহরান, শিরাজ ও তাব্রিজে একযোগে হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। তারা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্র ও কমান্ড সেন্টারকে লক্ষ্যবস্তু করার দাবি করে।
ইরানের ক্ষমতাকাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত লারিজানি দীর্ঘদিন ধরে দেশটির সমর কৌশল নির্ধারণে ভূমিকা রাখছিলেন। তিনি সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি-এর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং তাকে প্রায়ই ‘ডানহাত’ বলা হতো।
১৯৫৮ সালে ইরাকের নাজাফে জন্ম নেওয়া লারিজানি শিক্ষাজীবনে গণিত ও কম্পিউটার বিজ্ঞানে স্নাতক এবং পাশ্চাত্য দর্শনে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের পর তিনি রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। সংস্কৃতিমন্ত্রী, রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থার প্রধান এবং তিন মেয়াদে পার্লামেন্টের স্পিকার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
২০০৫ সালে সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব হন এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে পশ্চিমাদের সঙ্গে আলোচনায় নেতৃত্ব দেন। ২০২৫ সালের আগস্টে তিনি পুনরায় ওই পদে ফিরে আসেন।
চলমান যুদ্ধে নিহত সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে লারিজানি সর্বজ্যেষ্ঠ। সর্বশেষ তাকে জনসম্মুখে দেখা যায় ১৩ ফেব্রুয়ারি। ওই দিনই যুক্তরাষ্ট্র তার মাথার দাম ঘোষণা করেছিল।
ইরানের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দেশের জন্য আত্মত্যাগের মাধ্যমে তিনি শহীদের মর্যাদা অর্জন করেছেন।
সানা/ডিসি/আপ্র/১৮/৩/২০২৬