ইরানে চলমান যুদ্ধে সামরিকভাবে সরাসরি অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তকে ‘খুবই বোকার মতো ভুল’ বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত মঙ্গলবার (১৬ মার্চ) হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে দেওয়া বক্তব্যে তিনি নেটো মিত্রদের এই অবস্থানে হতাশা প্রকাশ করেন।
ট্রাম্প বলেন, নেটোর অধিকাংশ দেশ যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের সঙ্গে একমত হলেও তারা যুদ্ধে সহায়তা করতে আগ্রহী নয়। তার ভাষায়, “সবাই আমাদের সঙ্গে একমত, কিন্তু কেউ সাহায্য করতে চায় না-এটি বিস্ময়কর।”
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অভিযান শুরু হয় ২৮ ফেব্রুয়ারি এবং তা ইতোমধ্যে তৃতীয় সপ্তাহে গড়িয়েছে। ট্রাম্পের দাবি, এ যুদ্ধে পশ্চিমা সামরিক জোট নেটোর দেশগুলো সমর্থন দিলেও সরাসরি অংশগ্রহণ এড়িয়ে যাচ্ছে।
বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি সচল রাখতে এবং বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মিত্র দেশগুলোকে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ইউরোপীয় মিত্রদের প্রায় সবাই সেই আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছে।
ইরান ড্রোন ও নৌ-মাইন ব্যবহার করে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে, ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি বেড়েছে। এ নৌপথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলায়িত গ্যাস পরিবাহিত হয়।
জার্মানি, স্পেন ও ইতালিসহ একাধিক দেশ জানিয়েছে, তারা এই প্রণালিতে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর কোনো তাৎক্ষণিক পরিকল্পনা করছে না। জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস বলেন, প্রয়োজনীয় আন্তর্জাতিক অনুমোদন না থাকায় তাদের পক্ষে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব নয়। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, যুদ্ধ শুরুর আগে ওয়াশিংটন ও ইসরায়েল জার্মানির সঙ্গে পরামর্শ করেনি।
একই দিনে নিজের সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া বার্তায় ট্রাম্প নেটোর সমালোচনা করে দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র সামরিকভাবে বড় সাফল্য অর্জন করেছে এবং এ অবস্থায় মিত্রদের সহায়তা আর প্রয়োজন নেই।
মিত্র দেশগুলোর অনীহায় হতাশা প্রকাশ করে ট্রাম্প বলেন, বহু বছর ধরে যেসব দেশকে যুক্তরাষ্ট্র সহায়তা করেছে, তাদের কেউ কেউ এখন পর্যাপ্ত আগ্রহ দেখাচ্ছে না-যা তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।
সানা/ডিসি/আপ্র/১৮/৩/২০২৬