চাঁদে মানুষের ভবিষ্যৎ বসতি স্থাপনের স্বপ্নে যোগ হল এক নতুন মাত্রা। এবার চাঁদের মাটিতে সফলভাবে ছোলা ফলানোর দাবি করেছেন বিজ্ঞানীরা। তারা বলছেন, আমরা এবার চাঁদেও ছোলা চাষ করতে পারি।
নতুন গবেষণায় চাঁদের মাটি, যাকে বৈজ্ঞানিকভাবে ‘রেগোলিথ’ বলে তা এক কৃত্রিম পরিবেশ তৈরি করে সেখানে প্রথমবারের মতো নির্দিষ্ট প্রজাতির ছোলা জন্মাতে পেরেছেন গবেষকরা।
বিজ্ঞানীদের দাবি, ভবিষ্যতে মানুষ কীভাবে চাঁদে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে পারে তা বোঝার ক্ষেত্রে এ গবেষণা বড় এক মাইলফলক। ব্রিটিশ পত্রিকা ইন্ডিপেনডেন্ট প্রতিবেদনে লিখেছে, নাসা ও অন্যান্য মহাকাশ সংস্থা আশা করছে, আগামী বছরগুলোতে মানুষ চাঁদের পৃষ্ঠে অবতরণ ও সেখানে বসবাস শুরু করবে। তবে সেখানে জীবনধারণের ক্ষেত্রে অন্যতম প্রধান প্রশ্ন হচ্ছে খাবার। কারণ চাঁদের রুক্ষ পরিবেশ ও কঠিন মাটিতে কোনো কিছু চাষ করা দুষ্কর। তবে নতুন গবেষণায় প্রমাণ মিলেছে, চাঁদে ফসল ফলানো সম্ভব, যা ভবিষ্যতে সেখানে মানুষের খাবারের যোগান দেবে।
এ গবেষণায় বিজ্ঞানীরা নাসার অ্যাপোলো মিশনে আনা নমুনার ভিত্তিতে চাঁদের মাটির এক কৃত্রিম সংস্করণ তৈরি করেছেন। সাধারণত এ মাটিতে গাছ বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় জৈব উপাদানের অভাব থাকে এবং এতে এমন কিছু ভারী ধাতু থাকে যা উদ্ভিদের জন্য বিষাক্ত হতে পারে।
বিজ্ঞানীরা এ মাটিতে ‘ভার্মিকম্পোস্ট’ বা কেঁচো সার মিশিয়েছেন, যা লাল কেঁচো থেকে তৈরি ও এতে প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান থাকে। নভোচারীদের সঙ্গে থাকা উচ্ছিষ্ট খাবার, সুতি কাপড় বা ব্যবহৃত হাইজিন পণ্যের মতো জৈব উপাদান খেয়েই কেঁচোরা এই সার তৈরি করতে পারে।
ছোলা রোপণের আগে গবেষক দলটি সেখানে ‘আর্বাসকুলার মাইকোরাইজা’ নামের এক ধরনের ছত্রাকও যোগ করেছেন। এ ছত্রাক ছোলার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করে, যা মাটি থেকে গুরুত্বপূর্ণ জৈব উপাদান শোষণে সাহায্য করে এবং ক্ষতিকর ভারী ধাতুর প্রভাব কমিয়ে দেয়। এরপর কৃত্রিমভাবে তৈরি চাঁদের মাটির বিভিন্ন মিশ্রণে ছোলার বীজ বোনা হয়। গবেষকরা বলছেন, ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত চাঁদের মাটির মিশ্রণেও সফলভাবে ছোলা উৎপাদন সম্ভব। একবার যোগের পর এসব ছত্রাক সেখানে বেঁচে থাকতে পারে। যার মানে, এ ছত্রাক কেবল একবার ব্যবহার করলেই তা দীর্ঘমেয়াদে কাজ করতে পারবে।
গবেষকরা বলেছেন, এসব ছোলা আসলে কতটা পুষ্টিকর তা এখনও স্পষ্ট নয়। যেমন, বেড়ে ওঠার প্রক্রিয়ায় এগুলো মাটি থেকে বিষাক্ত উপাদান শোষণ করে নিতে পারে।
‘বায়োরিমিডিয়েশন অফ লুনার রেগোলিথ স্টিমিউল্যান্ট থ্রু মাইকোরাইজাল ফাঙ্গি অ্যান্ড প্ল্যান্ট সিম্বায়োসিস এনাবল চানা টু সি’ শিরোনামে গবেষণাপত্রটির ফলাফল প্রকাশ পেয়েছে বিজ্ঞানভিত্তিক সাময়িকী ‘সায়েন্টিফিক রিপোর্টস’-এ।
সানা/ডিসি/আপ্র/৭/৩/২০২৬