ব্রিকসে যোগ দিতে পাকিস্তানের আবেদন কয়েক বছর ধরে ঝুলে আছে। ইসলামাবাদের অভিযোগ, জোটের সদস্য হওয়ার পথে ভারতের আপত্তিই বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০২৩ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করার পর রাশিয়া ও চীনের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করলেও এখনো ব্রিকসের সদস্য হতে পারেনি পাকিস্তান।
পাকিস্তানের এই প্রচেষ্টার বিষয়টি প্রথম দিকেই প্রকাশ্যে আনেন রাশিয়ায় নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত মুহাম্মদ খালিদ জামালি। ২০২৩ সালের নভেম্বরে রুশ সংবাদ সংস্থা তাসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, পাকিস্তান ব্রিকসের সদস্যপদের জন্য আবেদন করেছে এবং রাশিয়ার সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করছে। একই সময়ে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও জানিয়েছিল, ইসলামাবাদ বৈশ্বিক দক্ষিণের এই জোটে যোগ দিতে আগ্রহী এবং ব্রিকসের অধিকাংশ সদস্যের সঙ্গে তাদের উষ্ণ সম্পর্ক রয়েছে।
ব্রিকসে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে বিদ্যমান সদস্যদের সম্মতির প্রয়োজন হওয়ায় ভারতের অবস্থান পাকিস্তানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৪ সালে মিসর, ইথিওপিয়া, ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ২০২৫ সালে ইন্দোনেশিয়া পূর্ণ সদস্য হওয়ার পরও পাকিস্তান বাইরে রয়েছে।
অর্থনৈতিক কারণেও ব্রিকসে ঢুকতে আগ্রহী ইসলামাবাদ। বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে অর্থায়নের উৎস বহুমুখী করতে ব্রিকস-সমর্থিত নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকে ৫৮ কোটি ডলারের অংশীদারত্বও কিনেছে পাকিস্তান।
পাকিস্তানের আবেদনকে রাশিয়া ও চীনের সমর্থন রয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হলেও ভারতের আপত্তি কাটিয়ে ঐকমত্য তৈরি হয়নি। ফলে ২০২৩ সালে আবেদন করার পরও ব্রিকসের দরজায় অপেক্ষায় রয়েছে ইসলামাবাদ।
সানা/আপ্র/১২/৯/২০২৬