যুক্তরাষ্ট্র থেকে সম্প্রতি যুক্তরাজ্যে ফিরেছেন প্রিন্স হ্যারি ও তার স্ত্রী মেগান মার্কেল। তবে দেশে ফিরলেও তারা রাজপরিবারের ‘কার্যকর সদস্য’ হিসেবে কোনো দায়িত্ব পালন করবেন না। এমনকি রাজপরিবারের আনুষ্ঠানিক ‘রয়্যাল হাইনেস’ সম্বোধনও তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) এক চিঠির মাধ্যমে বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন রাজা তৃতীয় চার্লস। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
হ্যারি-মেগানের যুক্তরাজ্যে ফেরার পর তাদের অবস্থান ও ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে নির্দেশনা চাওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে রাজপ্রাসাদের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা লর্ড চেম্বারলেইনের পক্ষ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি দেওয়া হয়। বিভ্রান্তি এড়াতে দেওয়া ওই চিঠিতে রাজা চার্লস স্পষ্ট করেন, বর্তমানে এই দম্পতির মর্যাদা সাধারণ নাগরিকদের মতো। ফলে তাদের ‘হিজ রয়্যাল হাইনেস’ বা ‘হার রয়্যাল হাইনেস’ উপাধিতে সম্বোধন করা যাবে না।
চিঠিতে বলা হয়, ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে সাসেক্সের ডিউক ও ডাচেস রাজপরিবারের প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। তারা আর ‘কার্যকর রাজপরিবারের সদস্য’ নন—এ বিষয়টি বহুল পরিচিত। এই অবস্থান তাদের ব্যক্তিগত স্বায়ত্তশাসন, আর্থিক স্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বজায় রাখার সুযোগ দিয়েছে, যা ভবিষ্যতেও পূর্ণ সম্মান পাবে।
রাজপরিবারের ‘কার্যকর সদস্য’ বলতে সাধারণত সেইসব সদস্যকে বোঝায়, যারা সম্রাটের পক্ষে আনুষ্ঠানিক ও রাজকীয় বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন এবং এর বিনিময়ে রাজপ্রাসাদ থেকে প্রশাসনিক সুবিধা ও অন্যান্য সহায়তা পান। বর্তমানে যুক্তরাজ্যের সক্রিয় রাজপরিবারের সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন রাজা তৃতীয় চার্লস, রানি ক্যামিলা, চার্লসের বড় ছেলে ও উত্তরাধিকারী প্রিন্স উইলিয়াম, তার স্ত্রী ক্যাথরিন, প্রিন্সেস অ্যান, প্রিন্স এডওয়ার্ড ও তার স্ত্রী সোফি। প্রয়াত রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের কয়েকজন নিকটাত্মীয়ও এই তালিকায় রয়েছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাসেক্সের ডিউক ও ডাচেস বর্তমানে মধ্য ইংল্যান্ডের কোটসওল্ডস এলাকায় বসবাস করছেন। আগামী শিক্ষাবর্ষের জন্য তারা সন্তানদের সেখানকার একটি বেসরকারি স্কুলে ভর্তি করিয়েছেন।
এদিকে যুক্তরাজ্যে ফেরার পর হ্যারি-মেগানের নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। ২০২০ সালে রাজকীয় দায়িত্ব ছাড়ার পর তাদের সরকারি তহবিল ও সার্বক্ষণিক পুলিশি নিরাপত্তা প্রত্যাহার করা হয়। পরে এ সিদ্ধান্ত নিয়ে সরকারের সঙ্গে আইনি লড়াই চালালেও হ্যারি হেরে যান।
তবে স্থায়ীভাবে যুক্তরাজ্যে ফিরে আসার পর হ্যারির নিরাপত্তা পরিস্থিতি পুনর্মূল্যায়ন করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে ব্রিটেনের রাজপরিবারের সদস্য ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত কমিটি তার নিরাপত্তা হুমকি নতুন করে পর্যালোচনা করতে পারে।
রাজপরিবারের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের জেরে ২০২০ সালে রাজকীয় দায়িত্ব ছেড়ে যুক্তরাজ্য ত্যাগ করেছিলেন হ্যারি ও মেগান। তবে গত মাসে সবাইকে অবাক করে দিয়ে সাত বছর বয়সী ছেলে আর্চি ও পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে লিলিবেটকে সঙ্গে নিয়ে ৪১ বছর বয়সী হ্যারি ও ৪৫ বছর বয়সী মেগান আবারো যুক্তরাজ্যে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন।
সানা/কেএমএএ/আপ্র/৮/৯/২০২৬