গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মেনু

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত নিয়ে গণভোট চান রুহানি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯:৩২ পিএম, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ২০:৫৬ এএম ২০২৬
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত নিয়ে গণভোট চান রুহানি
ছবি

হাসান রুহানি -ছবি রয়টার্স

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাত অব্যাহত রাখা হবে কি না, সে বিষয়ে জনগণের মতামত নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি। যুদ্ধবিরতি যদি ইরানের অধিকাংশ মানুষের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, তবে চলতি সপ্তাহান্তেই যুদ্ধ শেষ করার পক্ষেও মত দিয়েছেন তিনি।

সাবেক প্রাদেশিক গভর্নরদের এক সমাবেশে দেওয়া বক্তব্যে রুহানি বলেন, দেশের লক্ষ্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জনগণের সামনে স্পষ্টভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন। তবে জনগণের কাছে কোনো লক্ষ্য বা পরিকল্পনা উপস্থাপনের আগে নীতিনির্ধারকদের নিজেদের কাছেও সেটির রূপরেখা সম্পূর্ণ পরিষ্কার থাকা জরুরি।

রুহানি বলেন, জনগণকে যদি বলা হয়, ‘আমাদের পরিকল্পনা হলো বিশ্বের বড় শক্তিগুলোর সঙ্গে আরো ২০ বছর লড়াই চালিয়ে যাওয়া’, তাহলে জনগণের কাছে জানতে হবে তারা সেটি মেনে নিচ্ছে কি না। জনগণ যদি এ পথে চলতে সম্মতি দেয়, তবে তা অব্যাহত রাখা যেতে পারে। কিন্তু তারা যদি এ পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করে অন্য কোনো পথের কথা বলে, তাহলে সেই পথও বিবেচনায় নিতে হবে।

রুহানি তার বক্তব্যে সরাসরি ‘গণভোট’ শব্দটি ব্যবহার করেননি। তবে তার এই বক্তব্যকে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা জনগণের মতামত জানতে গণভোট আয়োজনের আহ্বান হিসেবেই দেখছেন। ব্রিটিশ সংবাদপত্র দ্য টেলিগ্রাফের বরাত দিয়ে এ বক্তব্যের খবর প্রকাশ করা হয়েছে।

ইরানের সাবেক এই প্রেসিডেন্ট যুদ্ধ শেষ করার ক্ষেত্রেও জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছেন। তার মতে, যুদ্ধ ‘সম্মানজনকভাবে’ এবং জনগণের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের ভিত্তিতে শেষ করা হলে ইরান যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার সুযোগ পাবে। একই সঙ্গে দেশটিতে বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং তরুণদের মধ্যে ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ তৈরির পথও সহজ হবে।

বর্তমানে যারা যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে সবচেয়ে বেশি সরব, তারা ইরানি সমাজের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ নন বলেও মন্তব্য করেছেন রুহানি।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমেরও সমালোচনা করেছেন তিনি। তার অভিযোগ, কট্টরপন্থি ও সামরিক কণ্ঠস্বরের আধিপত্যে থাকা জাতীয় সম্প্রচারমাধ্যম যদি সমাজে বিভাজনের কেন্দ্রে পরিণত হয়, তাহলে প্রেসিডেন্ট থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ—সবাই এর প্রতি আগ্রহ হারাবেন।

২০১৩ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ইরানের প্রেসিডেন্ট ছিলেন হাসান রুহানি। তার শাসনামলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অর্জনগুলোর একটি ছিল ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের শক্তিধর দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক চুক্তি সম্পাদন। ওই চুক্তির আওতায় ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত রাখার বিনিময়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা থেকে স্বস্তি পাওয়ার সুযোগ পায়।

তবে ২০১৮ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ওই চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেয় এবং ইরানের ওপর আবারো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এরপর থেকেই দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা ক্রমে বাড়তে থাকে। বর্তমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে রুহানির জনগণের মতামতের ভিত্তিতে যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের আহ্বান তাই ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন করে গুরুত্বপূর্ণ বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।

সানা/কেএমএএ/আপ্র/৮/৯/২০২৬

সংশ্লিষ্ট খবর

৩৩ বছর পর জানা গেল মামলার বাদী ছিলেন মৃত
০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

৩৩ বছর পর জানা গেল মামলার বাদী ছিলেন মৃত

ভারতের কর্ণাটক হাইকোর্টে একটি জমি-সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে ৩৩ বছর পর সামনে এসেছে বিস্ময়কর এক আইনি অ...

হ্যারি-মেগানের রাজপরিবারের নতুন মর্যাদা জানালেন চার্লস
০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

হ্যারি-মেগানের রাজপরিবারের নতুন মর্যাদা জানালেন চার্লস

যুক্তরাষ্ট্র থেকে সম্প্রতি যুক্তরাজ্যে ফিরেছেন প্রিন্স হ্যারি ও তার স্ত্রী মেগান মার্কেল। তবে দেশে ফ...

এআইয়ের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি হচ্ছে ১০ লাখ চাকরি
০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এআইয়ের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি হচ্ছে ১০ লাখ চাকরি

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই মানুষের চাকরি কেড়ে নেবে—এমন আশঙ্কা দীর্ঘদিনের। তবে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজ...

নিজেদের দাবি জানাতে সড়কে নেমে পড়লো রোবটের দল
০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিজেদের দাবি জানাতে সড়কে নেমে পড়লো রোবটের দল

পোল্যান্ডের রাজধানী ওয়ারশতে এবার দেখা গেল এক অভিনব প্রতিবাদ। পতাকা নাড়তে নাড়তে সড়কে স্লোগান দিতে ও ব...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

প্রধানমন্ত্রীর দেড়শ টাকার খাবারের দাওয়াত পেলেন বিরোধীদলীয় নেতা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দুপুরের খাবারের খরচ ১০০ থেকে ১৫০ টাকা—এমন ব্যয়ের প্রশংসা করায় বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানকে সেই খাবার খাওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে জ্বালানি সংকট নিয়ে কার্যপ্রণালিবিধির ৬৮ বিধির আলোচনার একপর্যায়ে এ ঘটনা ঘটে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দুপুরের খাবারের খরচ ১০০ থেকে ১৫০ টাকা—এমন ব্যয়ের প্রশংসা করায় বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানকে সেই খাবার খাওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে জ্বালানি সংকট নিয়ে কার্যপ্রণালিবিধির ৬৮ বিধির আলোচনার একপর্যায়ে এ ঘটনা ঘটে। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন প্রধান দুই দলের প্রধানদের এমন আচরণের ইতিবাচক প্রভাব দেশের রাজনীতিতে পড়বে ?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 19 ঘন্টা আগে