প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ও ভারত। শুক্রবার (২১ আগস্ট) নয়াদিল্লিতে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, সফর নিয়ে মন্তব্য করার মতো নতুন কোনো তথ্য তাঁর কাছে নেই।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জয়সওয়াল বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সফরের বিষয়ে এ মুহূর্তে তাঁর বলার মতো কিছু নেই। এ বিষয়ে নতুন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তা জানানো হবে।
এদিকে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে তাঁর প্রেস সচিব এ এ এম সালেহ ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন।
গত ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর নয়াদিল্লিতে তারেক রহমানের প্রথম সফর নিয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে। ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে এই সফরকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে সফরের সম্ভাব্য সময় নিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে বিভিন্ন খবর প্রকাশিত হলেও ঢাকা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তারিখ ঘোষণা করেনি। এর আগে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে ২৩ থেকে ২৫ আগস্ট তারেক রহমানের দিল্লি সফরের সম্ভাব্য সময় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যুও সফরকে ঘিরে আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ২০২৪ সালের আগস্টে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন। তাঁকে দেশে ফেরত পাঠাতে ঢাকা বারবার নয়াদিল্লির কাছে অনুরোধ জানিয়ে আসছে। ভারত জানিয়েছে, প্রত্যর্পণের আবেদনটি তারা পরীক্ষা করে দেখছে।
সালেহ রয়টার্সকে বলেন, শেখ হাসিনা ও অন্যান্য পলাতক আসামিদের প্রত্যর্পণের বিষয়ে ভারতের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে ঢাকা।
সম্প্রতি দিল্লিতে অনলাইনে একটি অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা বক্তব্য দেওয়ার পর বাংলাদেশ ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানায়। এরপর ঢাকার পক্ষ থেকে তারেক রহমানের ভারত সফরের জন্য আেরো অনুকূল কূটনৈতিক পরিবেশ তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়।
এদিকে, শুক্রবারের সংবাদ সম্মেলনে গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্নের মুখোমুখি হন রণধীর জয়সওয়াল। তিনি বলেন, ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ ৩০ বছর। ভারত-বাংলাদেশের নদীসংক্রান্ত বিষয়গুলো যৌথ নদী কমিশনের আওতায় আলোচনা হয় এবং চুক্তির আওতায় যৌথ কমিটির বৈঠক কারিগরি পর্যায়ে নিয়মিত অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
সফর নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যেই ভারতীয় রাষ্ট্রপতি ভবন সম্প্রতি তারেক রহমানের ভারত সফরের প্রস্তুতির ইঙ্গিতবাহী একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে পরে তা প্রত্যাহার করে নেয়। ফলে সম্ভাব্য সফর নিয়ে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে। সূত্র: রয়টার্স, লাইভ মিন্ট
সানা/আপ্র/২২/৮/২০২৬